Ajker Patrika

বর্জন ও স্থগিতের মধ্যে ভোট

টাঙ্গাইল সংবাদদাতা
আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০২১, ১৫: ২৭
বর্জন ও স্থগিতের মধ্যে ভোট

টাঙ্গাইলের তিনটি উপজেলার ২১টি ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) বর্জন ও স্থগিতের মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল রোববার সকাল ৮টা থেকে বিরতিহীনভাবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট অনুষ্ঠিত হয়। শীত উপেক্ষা করে সকাল থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়।

নির্বাচনে ঘাটাইলের দেউলাবাড়ি ইউপির স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ভূঞাপুরের গোবিন্দাসী ইউপির আওয়ামী বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী ভোট বর্জন করেছেন। এ ছাড়া জোরপূর্বক ভোট দেওয়ায় ভূঞাপুরের অলোয়া ইউপির আকালু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়।

সরেজমিনে বিভিন্ন কেন্দ্রে দেখা যায়, শীত উপেক্ষা করে সকাল থেকেই ভোটারদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে মহিলা ভোটারদের দীর্ঘ সারি ছিল। একই সঙ্গে বয়স্ক লোকজনও ভোট কেন্দ্রে আসেন। অনেক বয়স্ক ব্যক্তি হুইলচেয়ার, ভ্যান, রিকশা ও কোলে উঠেও ভোট কেন্দ্রে আসেন। পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি সদস্যরাও কেন্দ্রগুলোতে টহল দিতে ব্যস্ত ছিল।

দুপুরে প্রকাশ্যে ভোট দিতে বাধ্য করার অভিযোগ এনে নির্বাচন বর্জন করেন ঘাটাইলের দেউলাবাড়ি ইউপির চেয়ারম্যান প্রার্থী রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘সকালে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে আমার পোলিং এজেন্টেদের জোর করে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এর মধ্যে কেন্দ্রে থাকার চেষ্টা করলে তাঁদের শারীরিকভাবে নির্যাতন করা। পরে বাধ্য হয়ে আমার পোলিং এজেন্টরা কেন্দ্রগুলো থেকে চলে আসেন।’

রফিকুল আরও বলেন, ‘এ ছাড়া বিভিন্ন কেন্দ্রে জোর করে প্রকাশ্যে নৌকা মার্কায় ভোট দিতে বাধ্য করা হয়। বিষয়টি আমি দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে জানালে তিনি ওই সব কেন্দ্রে যান। তখন পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়। তিনি চলে আসার পর আবারও একই কায়দায় জোর করে নৌকার পক্ষে ভোট নেওয়া হয়। তাই আমি নির্বাচন বর্জন করলাম।’

এ ছাড়া ভূঞাপুরে স্বতন্ত্র দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্বাচন বর্জন করেন। অন্যদিকে ভূঞাপুরের গোবিন্দাসী ইউপির স্বতন্ত্র প্রার্থী আমিনুল ইসলাম আমিন ভোট বর্জন করেন। তিনি বলেন, ‘প্রকাশ্যে নৌকার পক্ষে ভোট দিতে বাধ্য করায় আমি নির্বাচন বর্জন করেছি।’

অপরদিকে ভূঞাপুরে নৌকায় জোরপূর্বক ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা হয়। বিশৃঙ্খলার কারণে এই কেন্দ্রে ভোট দেওয়া স্থগিত করা হয়। গতকাল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে অলোয়া ইউপির আকালু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

ভোটাররা জানান, নৌকার-কর্মীরা প্রকাশ্যে সিল দিচ্ছিল। এ সময় নৌকার সঙ্গে এক ইউপি সদস্য প্রার্থীর সিলও মারা হয়। এ সময় স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীরা বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে।

অলোয়া ইউনিয়নের আকালু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, ভোট দেওয়া নিয়ে কেন্দ্রের ভেতর দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা কারণে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। তাই সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এ এইচ এম কামরুল হাসান বলেন, দুই একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে পর্যাপ্ত সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা ছিল।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে কমিশনের প্রতিবেদন জমা কাল, বেতন বাড়ছে কত

মিরপুরে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত কয়েকজন

সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের ভবিষ্য তহবিলের মুনাফার হার নির্ধারণ

আমরা ‘না’ ভোট দেব দেশের স্বার্থে, আইনের শাসনের স্বার্থে: জি এম কাদের

বিএনপি-জামায়াত-এনসিপি নেতাদের নিয়ে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে প্রধান উপদেষ্টা

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত