Ajker Patrika

সাগরপাড়ে উৎসব, ইলিশের কেজি ২০০ টাকা

হোসাইন জিয়াদ, চট্টগ্রাম
আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৬: ৫৫
সাগরপাড়ে উৎসব, ইলিশের কেজি ২০০ টাকা

মৌসুমের শেষে এসে ইলিশ উৎসবে মেতেছে চট্টগ্রামের সাগরপাড়ের জেলেরা। এবারের পূর্ণিমায় ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ছে জালে। জেলেরা বলছেন, ইলিশের ঝাঁক সাগরের একেবারে কিনারে চলে এসেছে। মাছ ধরতে দূর সাগরে যেতে হচ্ছে না কাউকে। কিনারে জাল ফেললেই নৌকা ভর্তি হয়ে যাচ্ছে ছোট বড় ইলিশে। তাই এখন সাগরপাড়ে পাইকারিতে সর্বনিম্ন ২০০ টাকায়ও বিক্রি হচ্ছে ইলিশ ।

গতকাল দুপুরে নগরীর কাট্টলী, আনন্দবাজার, কাটগড়, পতেঙ্গা সাগরপাড়ে সরেজমিনে দেখা যায়, হাজার মানুষের মিলনমেলা। প্রায় ১৩ হাজার জেলেসহ ৫০ হাজার মৎস্যজীবী রাত দিন নির্ঘুম সময় পার করছেন। এক একটি জোয়ার শেষ হলেই ট্রলার ভর্তি ইলিশ নিয়ে পাড়ে ভিড়ছেন মাঝি–মাল্লারা। জেলে, আড়তদার, মাছের ক্রেতা, বিক্রেতা সবাই ছুটছেন ইলিশের পেছনে। দম ফেলার সময় নেই শ্রমিক ও বরফ বিক্রেতার। ট্রলার আর নৌকা থেকে ঝুড়ি ভর্তি ইলিশ কাঁধে তুলে পাইকারি আড়তে ছুটছেন শ্রমিকেরা। সেখানে ইলিশ কেনাবেচায় সারা দেশ থেকে জড়ো হয়েছেন শত শত ক্রেতা।

কাট্টলী জেলে পাড়ার সর্দার খেলন দাস বলেন, পূর্ণিমার কারণে সাগর তীরেই ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ চলে এসেছে। এক একটি নৌকা যারা অন্য সময় ১০-১২ হাজার টাকার মাছ বিক্রি করে, তারাও গত দুই দিন অন্তত দুই–তিন লাখ টাকার মাছ বিক্রি করেছে। এ বছর এটিই শেষ মৌসুম। কারণ ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর ইলিশ ধরা বন্ধ।

সুজিত দাশ নামে আরেক জেলে বলেন, বুধবার সবচেয়ে বেশি ইলিশ পেয়েছি। বস্তায় বস্তায় ইলিশ পড়েছিল নগরীর কাটগড় সাগর পাড়ে। রাত তিনটা–চারটা পর্যন্ত পুরুষতো বটেই নারী ক্রেতারাও এসেছেন ইলিশ কিনতে। সারা রাত ঘুমাতে পারিনি। আজও একই অবস্থা।

পাইকারি আড়তে মণ হিসেবে ইলিশের নিলাম হচ্ছে। মাছের দাম হাঁকাচ্ছেন সারা দেশ থেকে জড়ো হওয়া ক্রেতারা। চোখের সামনেই সবচেয়ে ছোট আকৃতির ইলিশের মন বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৫০০ টাকায়। অর্থাৎ প্রতিকেজি মাত্র ১৩৭ টাকা। দুইটিতে এক কেজি হবে পাইকারিতে এমন ইলিশের কেজি চলছে ২০০- ৩০০ টাকা। এক–দেড় কেজির ইলিশ চলছে ৬০০ টাকা কেজি।

আড়তদার মামুনুর রশিদ জানান, দুই বছর আগে একবার এ রকম ইলিশ পেয়েছিলাম। কাট্টলী ঘাটে শতাধিক আড়ত আছে। এক একটি আড়ত গত দুই দিন অন্তত ৫০ লাখ টাকার ইলিশ বিক্রি করেছে। এত ইলিশ ধরা পড়েছে যে বরফের সংকট পড়ে গেছে। বরফের দামও বেড়ে গেছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফারহানা লাভলী বলেন, প্রতি অমাবস্যা ও পূর্ণিমার সময় সাগরে জেলেদের জালে বেশি মাছ ধরা পড়ে। এটাকে স্থানীয়রা জো বলে। এখন পূর্ণিমার জো চলছে। আরও একদিন মাছ পাওয়া যাবে। চট্টগ্রামে কি পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়েছে তা ১৫ দিনের একটি হিসেব তৈরি করব। এখানে প্রত্যেকটি ঘাট আর আড়তে কঠোর নজরদারি করছি, যাতে কেউ জাটকা বিক্রি করতে না পারে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত