১। বাক্য কাকে বলে? একটি সার্থক বাক্য গঠনে কী কী বৈশিষ্ট্য থাকা দরকার? উদাহরণসহ আলোচনা করো।
উত্তর: যেসব বিন্যস্ত পদ সমষ্টি দ্বারা কোনো বিষয়ে বক্তার মনোভাব সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ পায়, তাকে বাক্য বলে। যেমন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার রূপকার ছিলেন।
বাক্যের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ বলেন, ‘একটি সম্পূর্ণ মনোভাব যেসব পদ দ্বারা প্রকাশ করা যায়, তাদের সমষ্টিকে বাক্য বলে।’
সার্থক বাক্যের বৈশিষ্ট্য
বাক্যকে সার্থক করতে হলে নিম্নলিখিত তিনটি গুণ থাকা বাঞ্ছনীয়:
- আকাঙ্ক্ষা: বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা, তাকে আকাঙ্ক্ষা বলে। যেমন ‘আমরা কলম দিয়ে...’ বললে শ্রোতার আগ্রহ সম্পূর্ণ মেটে না। কিন্তু ‘আমরা কলম দিয়ে লিখি’ বললে অর্থ পূর্ণাঙ্গভাবে প্রকাশ পায় এবং আকাঙ্ক্ষারও নিবৃত্তি হয়। শেষোক্ত ‘লিখি’ পদটি শোনার ইচ্ছাই আকাঙ্ক্ষা।
- আসত্তি: বাক্যের অর্থসংগতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদ-বিন্যাসকেই আসত্তি বলে। মনোভাব প্রকাশের ক্ষেত্রে বাক্যে শব্দগুলোকে এমনভাবে পরপর সাজাতে হবে, যাতে মনোভাব প্রকাশ বাধাগ্রস্ত না হয়। যেমন ‘শফিক সাহেব তিরস্কার করার ছেলেকে দুষ্টুমির করলেন জন্য’। এ বাক্যে আসত্তির গোলমালের জন্য মনোভাব প্রকাশ পাচ্ছে না। তবে নিম্নোক্তভাবে সাজালে বাক্যটিতে আসত্তি লাখ করা যায়– ‘শফিক সাহেব দুষ্টুমির জন্য ছেলেকে তিরস্কার করলেন।’
- যোগ্যতা: বাক্যের মধ্যে বিভিন্ন পদের অর্থ ও ভাবগত মিলবন্ধনকে যোগ্যতা বলে। যেমন ‘সূর্য পশ্চিম দিকে ওঠে’–এ বাক্যে বিভিন্ন পদের মধ্যে অর্থ ও ভাবগত মিল নেই। কারণ সূর্য পশ্চিম দিকে ওঠে না। যদি বলা হয়, ‘সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে’–তাহলেই বাক্যটি যোগ্যতাসম্পন্ন হয়।
পরিশেষে বলা যায়, একটি বাক্য তখনই সঠিক ও নির্ভুল হিসেবে প্রকাশ পায়, যখন তার মধ্যে আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি ও যোগ্যতার উপস্থিতি দেখা যায়। আর এ তিনটি বৈশিষ্ট্যের অনুপস্থিতিতে সঠিক ও অর্থবোধক বাক্য গঠন অসম্ভব।
২। গঠন অনুসারে বাক্য কত প্রকার ও কী কী? উদাহরণসহ প্রত্যেক প্রকারের সংজ্ঞা লেখো।
উত্তর: গঠন অনুসারে বাক্য তিন প্রকার। যেমন:
- সরল বাক্য: যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে। যেমন ছেলেরা ফুটবল খেলছে।
- জটিল বাক্য: যে বাক্যে একটি প্রধান বাক্যাংশ এবং এক বা একাধিক অপ্রধান বাক্যাংশ থাকে, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে। যেমন যে মানুষের সেবা করে, সে-ই শ্রেষ্ঠ মানুষ।
- যৌগিক বাক্য: পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা দুইয়ের অধিক বাক্য যখন কোনো সংযোজক অব্যয় দ্বারা যুক্ত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য তৈরি করে, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে। যেমন সে দরিদ্র, কিন্তু সুখী।
লেখক: মো. সুজাউদ দৌলা
সহকারী অধ্যাপক
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা।










