Ajker Patrika

দানা বাঁধছে ‘সুপার এল নিনো’—খরা আর গরমের শঙ্কা বাংলাদেশেও

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
দানা বাঁধছে ‘সুপার এল নিনো’—খরা আর গরমের শঙ্কা বাংলাদেশেও
ছবি: সিএনএন

আগামী কয়েক মাসে ‘এল নিনো’ শব্দটি আরও বেশি বেশি শোনা যাবে। কারণ প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলে এই বহুল আলোচিত জলবায়ু চক্রটি আবারও গড়ে উঠছে এবং দ্রুত শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন—যদি পূর্বাভাস ঠিক থাকে, তবে এটি বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার মানচিত্র বদলে দিতে পারে। কোথাও হতে পারে ভয়াবহ বন্যা, কোথাও খরা ও দাবানল, একই সঙ্গে বাড়তে পারে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের গতিও।

বর্তমান পর্যবেক্ষণ বলছে, এল নিনো শুধু আসন্নই নয়, এটি বেশ শক্তিশালীও হতে পারে। এমনকি এটি ‘সুপার এল নিনো’-তে রূপ নিতে পারে। ‘সুপার এল নিনো’ বিশ্বের একটি বিরলতম ঘটনা। বিশ্বজুড়ে এর প্রভাব অত্যন্ত তীব্র হয়।

সাধারণত এল নিনো ঘোষণার জন্য প্রশান্ত মহাসাগরের একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিক গড়ের চেয়ে অন্তত ০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হতে হয়। কিন্তু ‘সুপার এল নিনো’ তখনই বলা হয়, যখন এই তাপমাত্রা ২ ডিগ্রিরও বেশি বেড়ে যায়।

এল নিনো এবং এর বিপরীত চক্র লা নিনা—এই দুটিই কয়েক বছর পরপর ঘটে এবং বৈশ্বিক আবহাওয়ায় বড় প্রভাব ফেলে। এল নিনোর সময় নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের পানি অস্বাভাবিকভাবে উষ্ণ হয়ে ওঠে, যার ফলে বায়ুমণ্ডলের বাতাসের ধরন ও বৃষ্টিপাতের অবস্থান বদলে যায়। এই পরিবর্তন এক ধরনের ডোমিনো প্রভাব তৈরি করে, যা পৃথিবীর নানা অঞ্চলে আবহাওয়ার চিত্র বদলে দেয়।

সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগর থেকে পূর্ব দিকে বিপুল পরিমাণ উষ্ণ পানি ধীরে ধীরে পৃষ্ঠে উঠে আসছে—যা এল নিনোর আগমনের একটি স্পষ্ট পূর্বাভাস। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ‘ওয়েস্টারলি উইন্ড বার্স্ট’ বা পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত বিশেষ বাতাস, যা এই উষ্ণ পানিকে পূর্ব দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

বিশ্বব্যাপী এল নিনোর প্রভাব ব্যাপক। শীতকালে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ও দক্ষিণাঞ্চলে ঝড় ও ভারী বৃষ্টিপাত বাড়াতে পারে, ফলে বন্যার ঝুঁকি বাড়ে। তবে এটি আটলান্টিক মহাসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের শক্তি কিছুটা কমিয়ে দিতে পারে। কারণ উচ্চস্তরের বায়ুপ্রবাহ ঘূর্ণিঝড়কে দুর্বল করে দেয়।

এদিকে এল নিনোর প্রভাবে অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অংশ, আফ্রিকা ও ভারতে খরা ও তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা বাড়ে। আবার দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণ-পূর্বাংশ, আফ্রিকার হর্ন অঞ্চল, ইরান, আফগানিস্তানসহ দক্ষিণ-মধ্য এশিয়ায় অতিবৃষ্টি ও বন্যা দেখা দিতে পারে।

এল নিনো বৈশ্বিক উষ্ণায়নেও বড় ভূমিকা রাখে। সমুদ্রের জমে থাকা তাপ বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে, ফলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা আরও বেড়ে যায়। বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, এবার যদি শক্তিশালী এল নিনো তৈরি হয় এবং শীতকাল পর্যন্ত স্থায়ী হয়, তবে ২০২৬ বা ২০২৭ সাল—অথবা উভয় বছরই গরমে রেকর্ড গড়তে পারে।

বাংলাদেশে এর কী প্রভাব পড়বে

সম্ভাব্য ‘সুপার এল নিনোর’ প্রভাব পড়বে বাংলাদেশেও। দেশের আবহাওয়ার ধরনে এ ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। সাধারণত এল নিনোর সময় দক্ষিণ এশিয়ায় বৃষ্টিপাতের ধরন অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এমন হলে, বাংলাদেশে বর্ষা হয়তো স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দেরিতে শুরু হতে পারে, আবার বৃষ্টির পরিমাণও কম বা অসম হতে পারে। তাই এর প্রভাবে খরার মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকবে, বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে।

এল নিনো বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ায়, ফলে বাংলাদেশে গরম আরও তীব্র হতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ দেখা দিতে পারে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ—বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য। এ ছাড়া কৃষিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা খুব বেশি। ধান, গম, ভুট্টাসহ প্রধান ফসলগুলো বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভরশীল। বৃষ্টি কম হলে ফলন কমে যেতে পারে, আবার হঠাৎ অতিবৃষ্টি হলে ফসল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও থাকে। ফলে খাদ্য নিরাপত্তা ও বাজারদর—দুটোই প্রভাবিত হতে পারে।

বলা যায়—‘সুপার এল নিনো’ সরাসরি আঘাত না করলেও বাংলাদেশে এর প্রভাব হবে গভীর ও বহুমাত্রিক।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

আ.লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের অধ্যাদেশ: শেষ মুহূর্তে সময় চাইলেন বিরোধীদলীয় নেতা, স্পিকার বললেন—সুযোগ নেই

ইরানের ১০ দফা প্রস্তাব—শান্তির রূপরেখা নাকি ট্রাম্পের জন্য কূটনৈতিক ফাঁদ

হরমুজ প্রণালিতে কি ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হলো

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রেখেই সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ সংসদে পাস

যুদ্ধবিরতি: হরমুজ থেকে টোল আদায় করবে ইরান-ওমান

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত