Ajker Patrika

উজানের ঢলে বাড়ছে নদীর পানি, ভারী বৃষ্টিতে শঙ্কা

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২৬, ২০: ৩৬
উজানের ঢলে বাড়ছে নদীর পানি, ভারী বৃষ্টিতে শঙ্কা

উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টির প্রভাবে দেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নদীর পানি বাড়ছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারার পানির সমতল বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামী দুই দিন দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাশাপাশি ভারতের উজানেও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় নদীগুলোর পানি আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে, সিলেট বিভাগের খোয়াই নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নদীটির পানি কোনো কোনো স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এতে হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আজ শুক্রবার নদ-নদীর পরিস্থিতি ও পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশের সব প্রধান নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে ১২৭টি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের মধ্যে ৫৭টিতে পানি বেড়েছে। ৬৮টিতে পানি কমেছে এবং দুটি স্টেশনে অপরিবর্তিত রয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের ভেতরে হবিগঞ্জের ইটাকোলায় সর্বোচ্চ ১০৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ৭৭, সিলেটের কানাইঘাটে ৬১ এবং চট্টগ্রামের নারায়ণহাটে ৫২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

তবে দেশের নদীগুলোর জন্য বাড়তি উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে উজানের বৃষ্টিপাত। ভারতের মেঘালয়ের রাতাছড়ায় ১১৯ মিলিমিটার, ত্রিপুরার খোয়াইয়ে ৯১, কুমারঘাটে ৭২ এবং মনুঘাটে ৫৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এসব উজান এলাকায় ভারী বৃষ্টির পানি ভাটির দিকে নামতে শুরু করলে বাংলাদেশ অংশের নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী দুই দিন সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগ এবং এসব এলাকার ভারতীয় উজানে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। তৃতীয় দিনে চট্টগ্রাম বিভাগ ও তৎসংলগ্ন ভারতীয় উজানেও একই ধরনের বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকায় পানি বাড়তে থাকায় কুশিয়ারা নদী সুনামগঞ্জের মারকুলি ও সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ স্টেশনে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে। উত্তরাঞ্চলে তিস্তা নদীর পানি নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টেও সতর্কসীমায় রয়েছে।

মনু নদীর পানি কমলেও ধলাই ও খোয়াই নদীর পানি বাড়ছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, খোয়াই নদীর বর্তমান পরিস্থিতির দিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় পানি বিপৎসীমা ছাড়ালে হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের নিচু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি প্লাবন দেখা দিতে পারে।

ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীর পানি আপাতত স্থিতিশীল রয়েছে। আগামী দুই দিন তা স্থিতিশীল থেকে পরবর্তী তিন দিনে বাড়তে পারে। অন্যদিকে গঙ্গা-পদ্মার পানি আগামী পাঁচ দিন মোটামুটি স্থিতিশীল থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত