জাতিসংঘের এক সাম্প্রতিক সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের চরম সংকটের মাঝেই প্রাকৃতিক আবহাওয়া চক্র ‘এল নিনো’ তার নতুন ও অত্যন্ত শক্তিশালী রূপ নিয়ে হাজির হতে চলেছে। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন এবং এল নিনোর এই যৌথ প্রভাব বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার চেনা রূপকে সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, ২০২৬ সালের বাকি সময় জুড়ে এই এল নিনো আরও ঘনীভূত হবে এবং পৃথিবীর একটি বড় অংশে চরম ভাবাপন্ন আবহাওয়া তৈরি করবে। বিভিন্ন দেশের আবহাওয়া সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, এটি ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী বা একটি ‘সুপার এল নিনো’ হিসেবে রেকর্ড গড়তে পারে।
মঙ্গলবার (২ জুন) বিবিসি জানায়, সাধারণত প্রশান্ত মহাসাগরের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে বাতাসের গতিপথ পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রের উপরিভাগের পানি অস্বাভাবিক উষ্ণ হয়ে উঠলে এল নিনো তৈরি হয়। স্যাটেলাইট ও সমুদ্রের গভীরের ডেটা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি উষ্ণ পানির একটি বিশাল তরঙ্গ পূর্ব দিকে ধাবিত হচ্ছে।
ব্রিটিশ আবহাওয়া অফিসের অধ্যাপক অ্যাডাম স্কাইফ বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত নিশ্চিত যে, একটি বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় আসছে, যা অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে।’
মার্কিন জলবায়ু বিজ্ঞানী মিশেল ল্যাহরুর মতে, সমুদ্রের গভীরে জমে থাকা এই তাপই পরে উপরিভাগে চলে আসে এবং বৈশ্বিক আবহাওয়াকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে। তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বাড়লে তাকে ‘সুপার এল নিনো’ বলা হয়। ১৯৫০ সালের পর এমন ঘটনা হাতেগোনা কয়েকবার ঘটেছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উত্তপ্ত বিশ্বের জ্বলন্ত আগুনে এল নিনোর আগমন ঘি ঢালার মতো কাজ করবে। এর প্রভাব হবে আরও তীব্র, সুদূরপ্রসারী এবং ধ্বংসাত্মক।’
একটি শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে সাধারণত দক্ষিণ আমেরিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ায় তীব্র গরম ও খরা দেখা দেয়, যা দাবানলের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। এর ফলে ভারতীয় মৌসুমি বায়ু দুর্বল হয়ে পড়তে পারে এবং আফ্রিকার কিছু অংশে তীব্র অনাবৃষ্টি দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে, আমেরিকার দক্ষিণাঞ্চলে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে বন্যার ঝুঁকি বাড়ে।
অতীতের এল নিনো ইভেন্টগুলোর কারণে বিশ্বজুড়ে খাদ্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী হয়েছিল এবং ফসলহানি ও সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে পড়ার কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে ট্রিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছিল।
বিজ্ঞানীদের মতে, এল নিনোর তীব্রতা সাধারণত বড়দিনের (ডিসেম্বর) কাছাকাছি সময়ে শীর্ষে পৌঁছায়। তবে এল নিনো ‘সুপার’ পর্যায়ে না পৌঁছালেও এর পরিণতি হবে ভয়াবহ। কারণ, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবী ইতিমধ্যে যতটা উত্তপ্ত, এর আগে কখনো তপ্ত গ্রহে এল নিনোর আগমন ঘটেনি।
জলবায়ু বিজ্ঞানী জেকে হাউসফাদার জানিয়েছেন, এল নিনোর প্রভাবে ২০২৭ সাল পৃথিবীর ইতিহাসের উষ্ণতম বছর হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। তিনি মনে করিয়ে দেন, ১৯৯৮ সালের শক্তিশালী এল নিনোর বছরটি তৎকালীন সময়ে রেকর্ড উষ্ণ ছিল। অথচ বর্তমানের বৈশ্বিক উষ্ণতার তুলনায় ওই বছরটি অনেক শীতল ছিল।

ঢাকায় আজ হালকা বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। রৌদ্রোজ্জ্বল সকালে দিন শুরু হলেও আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। আজ রোববার (৪ অক্টোবর) সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
১৭ ঘণ্টা আগে
পাচারকারীদের হাত থেকে উদ্ধার করা দুটি লেপার্ড শাবককে রাখা হয়েছিল তিন সপ্তাহের কোয়ারেন্টিনে। সেই তিন সপ্তাহ শেষে পার হয়েছে ৯ বছর। শাবক থেকে লেপার্ডগুলো হয়েছে পূর্ণবয়স্ক। কিন্তু এখনো তাদের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হচ্ছে গাজীপুর সাফারি পার্কের সেই ছোট্ট খাঁচায়।
১ দিন আগে
নদী, পাখি, প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে জনসচেতনতা বাড়াতে চার দিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে পরিবেশবাদী সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)। রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে আজ শনিবার এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন হয়েছে।
১ দিন আগে
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বেলা ১টা পর্যন্ত ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় আকাশ আংশিক মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে এবং বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ সময় দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইতে পারে।
২ দিন আগে