
মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় হাকালুকি হাওরে আকাশ থেকে নেমে আসা ফানেলের মতো দৃশ্যের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। অনেকে সেই ভিডিও পোস্ট করে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা চেয়েছেন।
অবশ্য গ্রামের মানুষের কাছে এই দৃশ্য নতুন হওয়ার কথা নয়। অনেকে এই প্রাকৃতিক ঘটনাকে বলেন ‘হাতিশুঁড়’। অনেকে মনে করেন এভাবে আকাশ পানি শুষে নেয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এ ধরনের ঘূর্ণায়মান ফানেল সাধারণত পানির পৃষ্ঠ স্পর্শ করে না। আবহাওয়াবিদেরা এই ঘটনাকে বলেন, টর্নেডো বা ঘূর্ণিঝড়ের মতো ঘটনা। মূলত নির্দিষ্ট স্থানে তাপমাত্রার হঠাৎ চরম তারতম্যের কারণে সৃষ্ট চাপের ভারসাম্যহীনতা এই ঘূর্ণায়মান ফানেল তৈরি করে।
মৌলভীবাজারে হাকালুকি হাওরে যে দৃশ্যটি দেখা গেছে আবহাওয়াবিদেরা এটিকে বলেন ফানেল মেঘ। ঘনীভূত পানির ফোঁটা একটি ফানেল-আকৃতির মেঘে পরিণত হয়ে বাতাসের ঘূর্ণায়মান কলামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এই দৃশ্য তৈরি করে। এই ফানেল মেঘমালার নিচের পৃষ্ঠ পর্যন্ত প্রসারিত হয়, কিন্তু মাটি বা পানির পৃষ্ঠ পর্যন্ত পৌঁছায় না।
ফানেল ক্লাউড সাধারণত শঙ্কু আকৃতির বা সুচের মতো দেখায়। আকাশে মেঘের পৃষ্ঠ থেকে নিচের দিকে এমনটিই দেখা যায়। ফানেল মেঘ প্রায়ই বজ্রপাতের সঙ্গে মিলিত হয় এবং কখনো কখনো টর্নেডোপূর্ব আলামত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
ফানেল যদি মেঘ পৃষ্ঠকে স্পর্শ করে তবে সেটিকে সাধারণত টর্নেডো হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অবশ্য এমন পরিস্থিতিতে ঘনীভূত মেঘের ফানেল দৃশ্যমান হওয়ার আগে স্থলভাগে ঝড় শুরু হয়ে যায়।
বেশিরভাগ টর্নেডোই কিন্তু ফানেল মেঘ হিসেবে শুরু হয়। কিন্তু কিছু ফানেল মেঘ ভূপৃষ্ঠ পর্যন্ত পৌঁছায় না এবং খালি চোখে পর্যবেক্ষকের কাছে সেটিকে আর টর্নেডো বলে মনে হয় না। সোজা কথায়, যদি শক্তিশালী ঘূর্ণি বায়ু ভূপৃষ্ঠ সংলগ্ন হয় এবং সেটি মেঘের নিচের স্তরের সঙ্গে যুক্ত থাকে (মেঘ ঘনীভূত থাক বা না থাক) তবেই সেটিকে টর্নেডো বলা হবে।
ঘনীভূত হতে হতে ভূপৃষ্ঠে পৌঁছানোর আগের ঘটনাটি সাধারণত আবর্জনার ঘূর্ণি হিসেবে দৃশ্যমান হয়। কিছু টর্নেডোতে শুধুই ঘূর্ণায়মান আবর্জনা দেখা যায়, সেখানে সেভাবে কোনো ফানেল মেঘ দেখা যায় না। ভূপৃষ্ঠ থেকে সৃষ্ট ঘূর্ণন ক্রমে শক্তিশালী হয় এবং দ্রুতই ঘূর্ণায়মান আবর্জনার ঘনীভবন স্পষ্ট হয়। এ ধরনের দৃশ্য কিন্তু বসন্তকালে শুষ্ক স্থানে প্রায়ই দেখা যায়।
আরেক ধরনের ফানেল মেঘ আছে যেটিকে বলে কোল্ড-এয়ার ফানেল ক্লাউড (বা ঘূর্ণি)। সাধারণত এটি অনেক দুর্বল হয়। এই শীতল বাতাসের ফানেল সাধারণত মাটি বা পানি স্পর্শ করে না। তবে পৃষ্ঠ স্তরের ঘূর্ণিগুলো কখনো কখনো ঘনীভূত মেঘের কারণে যথেষ্ট শক্তিশালী হয়ে ওঠে যা সংক্ষিপ্তভাবে ‘নিচে স্পর্শ’ করতে পারে। এটি যা দুর্বল টর্নেডো বা জলস্রোত হিসেবে দৃশ্যমান হয়।
আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলে সাধারণত শীতল বাতাসের ফানেল মেঘ দেখা যায়। এ ধরনের ফানেল মেঘ বিশেষ করে নিম্নচাপের মতো পরিস্থিতি অথবা বড় বিল, হাওর ও হ্রদের মতো বায়ুমণ্ডলীয় সীমা এবং সমুদ্রের বাতাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
বৃহত্তর পরিসরে আবহাওয়ার এমন বৈশিষ্ট্যের ব্যাখ্যা হলো—নিচের স্তরের বাতাস ওপরের স্তরের চেয়ে তুলনামূলক উষ্ণ থাকলে হঠাৎ বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়। তখন তীব্র বেগে বাতাসের ঘূর্ণন সেই শূন্যস্থান পূরণ করতে চায়। ফানেল তৈরি হয় তখনই যখন এই বায়ুমণ্ডলীয় অস্থিরতা (তাপ ও চাপের তারতম্য) এবং আর্দ্রতা বিরাজ করে। বিশাল ঘনীভূত মেঘ তীব্র বেগে উপরের দিকে ছুটতে থাকে। তবে মেঘের ঘনীভবন এমন মাত্রায় হতে হবে যেন অঝোরে বৃষ্টি নামার মতো অবস্থায় না থাকে। বৃষ্টি হলেই কিন্তু ফানেল উধাও হয়ে যাবে!
শীতল বাতাসের ফানেল বেশ দুর্বল হলেও কয়েক মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। মিনিট দশেকের মধ্যে আশপাশের স্থানেও থেমে থেমে ফানেল মেঘ তৈরি হতে পারে। সাধারণত বিকেলের দিকে এই ধরনের ঘটনা বেশি ঘটে।

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় হাকালুকি হাওরে আকাশ থেকে নেমে আসা ফানেলের মতো দৃশ্যের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। অনেকে সেই ভিডিও পোস্ট করে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা চেয়েছেন।
অবশ্য গ্রামের মানুষের কাছে এই দৃশ্য নতুন হওয়ার কথা নয়। অনেকে এই প্রাকৃতিক ঘটনাকে বলেন ‘হাতিশুঁড়’। অনেকে মনে করেন এভাবে আকাশ পানি শুষে নেয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এ ধরনের ঘূর্ণায়মান ফানেল সাধারণত পানির পৃষ্ঠ স্পর্শ করে না। আবহাওয়াবিদেরা এই ঘটনাকে বলেন, টর্নেডো বা ঘূর্ণিঝড়ের মতো ঘটনা। মূলত নির্দিষ্ট স্থানে তাপমাত্রার হঠাৎ চরম তারতম্যের কারণে সৃষ্ট চাপের ভারসাম্যহীনতা এই ঘূর্ণায়মান ফানেল তৈরি করে।
মৌলভীবাজারে হাকালুকি হাওরে যে দৃশ্যটি দেখা গেছে আবহাওয়াবিদেরা এটিকে বলেন ফানেল মেঘ। ঘনীভূত পানির ফোঁটা একটি ফানেল-আকৃতির মেঘে পরিণত হয়ে বাতাসের ঘূর্ণায়মান কলামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এই দৃশ্য তৈরি করে। এই ফানেল মেঘমালার নিচের পৃষ্ঠ পর্যন্ত প্রসারিত হয়, কিন্তু মাটি বা পানির পৃষ্ঠ পর্যন্ত পৌঁছায় না।
ফানেল ক্লাউড সাধারণত শঙ্কু আকৃতির বা সুচের মতো দেখায়। আকাশে মেঘের পৃষ্ঠ থেকে নিচের দিকে এমনটিই দেখা যায়। ফানেল মেঘ প্রায়ই বজ্রপাতের সঙ্গে মিলিত হয় এবং কখনো কখনো টর্নেডোপূর্ব আলামত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
ফানেল যদি মেঘ পৃষ্ঠকে স্পর্শ করে তবে সেটিকে সাধারণত টর্নেডো হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অবশ্য এমন পরিস্থিতিতে ঘনীভূত মেঘের ফানেল দৃশ্যমান হওয়ার আগে স্থলভাগে ঝড় শুরু হয়ে যায়।
বেশিরভাগ টর্নেডোই কিন্তু ফানেল মেঘ হিসেবে শুরু হয়। কিন্তু কিছু ফানেল মেঘ ভূপৃষ্ঠ পর্যন্ত পৌঁছায় না এবং খালি চোখে পর্যবেক্ষকের কাছে সেটিকে আর টর্নেডো বলে মনে হয় না। সোজা কথায়, যদি শক্তিশালী ঘূর্ণি বায়ু ভূপৃষ্ঠ সংলগ্ন হয় এবং সেটি মেঘের নিচের স্তরের সঙ্গে যুক্ত থাকে (মেঘ ঘনীভূত থাক বা না থাক) তবেই সেটিকে টর্নেডো বলা হবে।
ঘনীভূত হতে হতে ভূপৃষ্ঠে পৌঁছানোর আগের ঘটনাটি সাধারণত আবর্জনার ঘূর্ণি হিসেবে দৃশ্যমান হয়। কিছু টর্নেডোতে শুধুই ঘূর্ণায়মান আবর্জনা দেখা যায়, সেখানে সেভাবে কোনো ফানেল মেঘ দেখা যায় না। ভূপৃষ্ঠ থেকে সৃষ্ট ঘূর্ণন ক্রমে শক্তিশালী হয় এবং দ্রুতই ঘূর্ণায়মান আবর্জনার ঘনীভবন স্পষ্ট হয়। এ ধরনের দৃশ্য কিন্তু বসন্তকালে শুষ্ক স্থানে প্রায়ই দেখা যায়।
আরেক ধরনের ফানেল মেঘ আছে যেটিকে বলে কোল্ড-এয়ার ফানেল ক্লাউড (বা ঘূর্ণি)। সাধারণত এটি অনেক দুর্বল হয়। এই শীতল বাতাসের ফানেল সাধারণত মাটি বা পানি স্পর্শ করে না। তবে পৃষ্ঠ স্তরের ঘূর্ণিগুলো কখনো কখনো ঘনীভূত মেঘের কারণে যথেষ্ট শক্তিশালী হয়ে ওঠে যা সংক্ষিপ্তভাবে ‘নিচে স্পর্শ’ করতে পারে। এটি যা দুর্বল টর্নেডো বা জলস্রোত হিসেবে দৃশ্যমান হয়।
আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলে সাধারণত শীতল বাতাসের ফানেল মেঘ দেখা যায়। এ ধরনের ফানেল মেঘ বিশেষ করে নিম্নচাপের মতো পরিস্থিতি অথবা বড় বিল, হাওর ও হ্রদের মতো বায়ুমণ্ডলীয় সীমা এবং সমুদ্রের বাতাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
বৃহত্তর পরিসরে আবহাওয়ার এমন বৈশিষ্ট্যের ব্যাখ্যা হলো—নিচের স্তরের বাতাস ওপরের স্তরের চেয়ে তুলনামূলক উষ্ণ থাকলে হঠাৎ বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়। তখন তীব্র বেগে বাতাসের ঘূর্ণন সেই শূন্যস্থান পূরণ করতে চায়। ফানেল তৈরি হয় তখনই যখন এই বায়ুমণ্ডলীয় অস্থিরতা (তাপ ও চাপের তারতম্য) এবং আর্দ্রতা বিরাজ করে। বিশাল ঘনীভূত মেঘ তীব্র বেগে উপরের দিকে ছুটতে থাকে। তবে মেঘের ঘনীভবন এমন মাত্রায় হতে হবে যেন অঝোরে বৃষ্টি নামার মতো অবস্থায় না থাকে। বৃষ্টি হলেই কিন্তু ফানেল উধাও হয়ে যাবে!
শীতল বাতাসের ফানেল বেশ দুর্বল হলেও কয়েক মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। মিনিট দশেকের মধ্যে আশপাশের স্থানেও থেমে থেমে ফানেল মেঘ তৈরি হতে পারে। সাধারণত বিকেলের দিকে এই ধরনের ঘটনা বেশি ঘটে।

রাজধানী ঢাকার আকাশ আজ সোমবার সকাল থেকে রৌদ্রোজ্জ্বল। তাপমাত্রাও সামান্য বেড়েছে। গতকাল রোববার সকালে ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ১৪ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ সেটি বেড়ে হয়েছে ১৫ দশমিক ৩।
১ ঘণ্টা আগে
পৌষ মাস বিদায় নিতে চলেছে। কয়েক দিন পরই শুরু হবে মাঘ মাস। কয়েক দিন ধরে দেশের বেশির ভাগ অঞ্চলে তাপমাত্রা বাড়ছে। ৭ জানুয়ারি দেশের ৪৪টি জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যায় শৈত্যপ্রবাহ। তবে আজ রোববার ১৩টি জেলা রয়েছে শৈত্যপ্রবাহের কবলে। এর মধ্যে আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ে...
১৮ ঘণ্টা আগে
পূর্বাভাসে বলা হয়, ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় দুপুর পর্যন্ত আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। এ সময় আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে। একই সঙ্গে উত্তর-পশ্চিম অথবা উত্তর দিক থেকে ঘণ্টায় ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বয়ে যেতে পারে।
১ দিন আগে
শীতের মৌসুমে বাতাস থাকে শুষ্ক। বেড়ে যায় ধূলিকণার পরিমাণ। আর এ কারণে বায়ুদূষণও বাড়তে থাকে। আজ শনিবার সকাল ৮টার দিকে ঢাকার বাতাসের মান ‘সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে থাকলেও বেলা ১২টায় দেখা যায়, বাতাসের মান ‘বিপজ্জনক’ অবস্থার কাছাকাছি রয়েছে।
২ দিন আগে