
জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে বাংলাদেশ এক নজিরবিহীন স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে। ‘দ্য ল্যানসেট কাউন্টডাউন অন হেলথ অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ’-এর সদ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু ২০২৪ সালেই তাপজনিত শ্রম উৎপাদনশীলতা কমে বাংলাদেশের সম্ভাব্য আয় ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা দেশের জিডিপির ৫ শতাংশের সমান। তাপপ্রবাহের কারণে বছরে প্রত্যেক ব্যক্তি গড়ে ২৮ দশমিক ৮ দিন অতিরিক্ত গরমের মুখোমুখি হয়েছেন। এর মধ্যে ১৩ দশমিক ২ দিন কেবল জলবায়ু পরিবর্তনের ফল।
প্রতিবেদনটি উপস্থাপন উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ (সি৩ ইআর), ল্যানসেট কাউন্টডাউন গ্লোবাল টিম এবং স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড হেলথ প্রমোশন ইউনিট যৌথভাবে আয়োজন করে। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পরিবেশ অর্থনীতিবিদ ড. সৌর দাশগুপ্ত।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন সরাসরি জনস্বাস্থ্যে পড়ছে। উপকূলীয় অঞ্চলে পানির লবণাক্ততা, তাপজনিত চাপ ও পানির নিরাপত্তাহীনতা ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মির্জা শওকত আলী বলেন, ‘আমরা সাভারকে নিয়ন্ত্রিত বায়ুমান অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করেছি। পাশাপাশি বৈদ্যুতিক চুলা চালুর উদ্যোগ নিয়েছি, যা গৃহস্থালি বায়ুদূষণ কমাবে। আমাদের লক্ষ্য ২০৩৫ সালের মধ্যে ২৫ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিশ্চিত করা।’
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের জেমস পি গ্র্যান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারজানা মিশা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। তাই জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনায় স্বাস্থ্যকে একটি মূল স্তম্ভ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।
ঢাকায় নিযুক্ত সুইডেন দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি নায়োকা মার্টিনেজ ব্যাকস্ট্রম বলেন, ‘স্বাস্থ্য আমাদের জলবায়ু কার্যক্রমের মূল কেন্দ্রবিন্দু। স্থানীয় প্রেক্ষাপটে সমাধান তৈরি ও অংশীদারত্ব জোরদার করাই এখন সময়ের দাবি।’
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, দ্রুত ও সমন্বিত জাতীয় পদক্ষেপ ও বৈশ্বিক সহায়তা ছাড়া বাংলাদেশের উন্নয়ন অর্জন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে এবং দেশ ভয়াবহ স্বাস্থ্য ও জীবিকা সংকটে পড়বে।
প্রতিবেদন বলছে, ১৯৯০-এর দশক থেকে তাপপ্রবাহের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব দ্রুত বেড়েছে। তাপজনিত কারণে ২০২৪ সালে ২৯ বিলিয়ন সম্ভাব্য কর্মঘণ্টা ক্ষতি হয়েছে, যা ১৯৯০-এর দশকের তুলনায় ৯২ শতাংশ বেশি। এই ক্ষতির সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে কৃষি খাতে। মোট ক্ষতি হওয়া সময়ের ৬৪ শতাংশই এ খাতের শ্রমিকদের। বাংলাদেশে বায়ুদূষণ এখনো অকালমৃত্যুর প্রধান কারণ। ২০২২ সালে সূক্ষ্ম বস্তুকণার (পিএম ২.৫) সংস্পর্শে এসে ২ লাখ ২৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যা ২০১০ সালের তুলনায় ৩৮ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে ৯০ হাজার মৃত্যুর সঙ্গে জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো সরাসরি দায়ী, যার মধ্যে ৩০ হাজার মৃত্যু ঘটেছে কয়লা পোড়ানোর কারণে। ঘরোয়া বায়ুদূষণে প্রতি ১ লাখ মানুষের মধ্যে ৭৪ জন মারা যায়, যা নারী ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর ওপর বেশি প্রভাব ফেলে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলে রাব্বী সাদেক আহমেদ ও ইউএনডিপি বাংলাদেশের কান্ট্রি ইকোনমিক অ্যাডভাইজার ওয়াসিস পেরে।

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা এবং পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর এবং উপকূলের খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চলের নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে হবে।
৩ ঘণ্টা আগে
বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের প্রভাবে সারা দেশে বর্ষণের তীব্রতা বৃদ্ধির আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর ও পানি উন্নয়ন বোর্ড। দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে সৃষ্ট নিম্নচাপটির কারণে আগামী পাঁচ দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হালকা থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
১ দিন আগে
সাধারণত বৃষ্টি হলে ঢাকার বাতাসে দূষণের মাত্রা কম থাকে। তবে আজ সকালে বৃষ্টির দেখা মিললেও দূষণ কমেনি। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারে দেখা যায়, ঢাকার বাতাসে দূষণ সতর্কতামূলক বা সংবেদনশীল মানুষের (শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তি) জন্য অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে রয়েছে।
১ দিন আগে
সড়ক ও নদীর বাঁধ ভাঙন রোধ এবং পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণে ‘বিন্না ঘাস’ (ভেটিভার গ্রাস) ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে বিস্তারিত রূপরেখা তৈরি এবং প্রকল্প চিহ্নিত করতে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও অর্থ উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কারিগরি কমিটি গঠন করা...
১ দিন আগে