Ajker Patrika

পাকিস্তানি সিরিয়াল ‘দার-এ-নিজাত’ নিয়ে কেন এত আলোচনা

বিনোদন ডেস্ক
পাকিস্তানি সিরিয়াল ‘দার-এ-নিজাত’ নিয়ে কেন এত আলোচনা
‘দার-এ-নিজাত’ সিরিয়ালের দৃশ্য

রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বৈরিতা যতই থাকুক না কেন, শিল্পের যে নিজস্ব কোনো সীমানা নেই, তা আবারও প্রমাণ করল পাকিস্তানি ড্রামা ‘দার-এ-নিজাত’। গত ১ আগস্ট থেকে এআরওয়াই ডিজিটাল চ্যানেলে সম্প্রচার শুরু হয়েছে সিরিজটির। এ পর্যন্ত প্রচারিত হয়েছে ২৬টি পর্ব। সম্প্রচার শুরু হওয়ার পর থেকেই এটি একদিকে যেমন রহস্য ও রোমান্সে দর্শকদের বুঁদ করে রেখেছে, অন্যদিকে নারীদের প্রতি সমাজের প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েও জোর বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

বাংলাদেশেও সাম্প্রতিক সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে দার-এ-নিজাত নিয়ে। তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, কেবল বাংলাদেশ বা পাকিস্তানেই নয়, চিরবৈরী ভারতের নতুন প্রজন্মের কাছেও তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে এটি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাষা, পারিবারিক বন্ধন ও প্রাত্যহিক জীবনের সমস্যাগুলোর মিল থাকার কারণেই গল্পটি তরুণদের এত টানছে।

দার-এ-নিজাত সিরিজের গল্প এগিয়েছে প্রেম, বিশ্বাসভঙ্গ ও পারিবারিক টানাপোড়েনকে কেন্দ্র করে। গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র যারইয়াব একজন উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও ধনীর দুলালী, যার পুরো পৃথিবী আবর্তিত হয় ছোটবেলার বন্ধু ও প্রেমিক জামিলকে ঘিরে। এই অন্ধ ভালোবাসার কারণে যারইয়াব নিজের হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সুযোগও অবলীলায় ছেড়ে দেয়। কিন্তু জামিল অন্য একজনকে বিয়ে করলে তার জীবনে নেমে আসে ঘোর অমানিশা। এরপরই গল্প মোড় নেয়। যারইয়াবকে ট্রমা থেকে বের করে আনতে বিয়ে দেওয়া হয় আবু বকরের সঙ্গে, যে কি না শান্ত স্বভাবের, ধর্মভীরু এবং হার্ভার্ড থেকে পাস করা ইঞ্জিনিয়ার।

আর এখানেই শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, ২০২৬ সালে এসেও কেন একজন নারীর মানসিক নিরাময় বা পুনর্বাসনের একমাত্র উপায় হিসেবে বিয়ে বা একজন পুরুষ রক্ষাকর্তাকেই দেখানো হবে? কোনো পুরুষের সাহায্য ছাড়াই তো সে হার্ভার্ডে ফিরে গিয়ে জীবনটা নতুন করে সাজাতে পারত।

সমালোচকেরা বলছেন, ড্রামাটি তরুণীদের মনে ‘নিখুঁত পুরুষ’-এর একটি অবাস্তব স্বপ্ন তৈরি করছে। মায়ের প্রতি আবু বকরের অন্ধ ভক্তি হৃদয়স্পর্শী হলেও মায়ের জন্য সবকিছু বিসর্জন দেওয়া একজন পুরুষ তার স্ত্রীর অধিকারের জন্য আদৌ লড়তে পারবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়। অন্যদিকে, যারইয়াবের চরিত্রটিও স্বার্থপরতায় ভরপুর। মানসিক আঘাতের দোহাই দিয়ে সে আবু বকরের আবেগ ও সম্মান নিয়ে যেভাবে খেলছে, তা স্রেফ প্রতারণা।

যারইয়াব চরিত্রের অভিনেত্রী দুরেফিশান সেলিম জানিয়েছেন, তিনিও ব্যক্তিগতভাবে চাইতেন যারইয়াব হার্ভার্ডে ফিরে গিয়ে স্বাবলম্বী হোক। অন্যদিকে, আবু বকরের মায়ের চরিত্রে অভিনয় করা সানিয়া সাঈদ বিবিসি উর্দুকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমাদের সমাজে এখনো মেয়েদের যেকোনো সমস্যার সমাধান হিসেবে বিয়ে দেওয়াটাকেই একমাত্র পথ মনে করা হয়। এ ছাড়া, আমাদের সমাজ অন্ধভাবে আদেশ পালন করা অনুগত ছেলে খোঁজে, যা মোটেও স্বাস্থ্যকর মানসিকতা নয়। লেখিকা উমেরা আহমেদ মূলত এই ভুল ধারণাগুলোকেই পর্দায় তুলে ধরতে চেয়েছেন।’

গল্পের এই মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব ও বিতর্কিত দিকগুলোই মূলত তরুণ দর্শকদের সিরিজটির সঙ্গে আরও বেশি সম্পৃক্ত করেছে। প্রথাগত ভাবনার বাইরে গিয়ে চরিত্রগুলোর এমন মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব তুলে ধরার কারণেই দার-এ-নিজাত কাঁটাতারের ভেদাভেদ ভুলে উপমহাদেশজুড়ে তরুণ প্রজন্মের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

দার-এ-নিজাতের কেন্দ্রীয় চরিত্র আবু বকর ও যারইয়াব হিসেবে অভিনয় করছেন শেহরিয়ার মুনাওয়ার ও দুরেফিশান সেলিম। গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে আরও রয়েছেন নামির নওয়াজ খান, সানিয়া সাঈদ, সাবা হামিদ, ফারহান তাহির, রোমাইসা খান ও নাদিয়া আফগান।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত