Ajker Patrika
সাক্ষাৎকার

যখন গান বানাই, সেই সময়টা ধারণ করার চেষ্টা করি

যখন গান বানাই, সেই সময়টা ধারণ করার চেষ্টা করি

কোক স্টুডিও বাংলার দ্বিতীয় সিজনে শায়ান চৌধুরী অর্ণবের সঙ্গে ‘সন্ধ্যাতারা’ গান নিয়ে এসেছিলেন সুনিধি নায়েক। তিন বছর পর এই প্ল্যাটফর্মের চতুর্থ সিজনে নতুন গান নিয়ে ফিরেছেন সুনিধি। ‘পাতার বাঁশরি’ শিরোনামের গানে তাঁর সঙ্গে গেয়েছেন ঈশান মজুমদার। নতুন এই গান ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে সুনিধির সঙ্গে কথা বলেছেন শিহাব আহমেদ

কোক স্টুডিও বাংলা প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ পেল পাতার বাঁশরি। এই গানে যুক্ত হওয়ার গল্পটি বলুন।

পাতার বাঁশরি কোক স্টুডিওতে যাবে, এটা আমরা জানতাম না। ঈশান এমনি একটি গান লিখেছিল, সুর করেছিল। একদিন আমাকে ফোন করে জানাল, গানটি আমি গাইলে ভালো হবে। ডেমো শোনার পর আমার খুব ভালো লাগে। কলরব স্টুডিওতে গান নিয়ে আলোচনার সময় আমরা দুজনেই ভাবলাম, এটি অদিত রহমানকে দিয়ে অ্যারেঞ্জমেন্ট করালে ভালো হয়। একদিন স্টুডিওতে গিয়ে দেখি কোক স্টুডিওর মিটিং চলছে, তখন কোক স্টুডিওর হেড অব ডিরেক্টর শাওন ভাই আমাকে বলল, ‘গানটি তো সুন্দর, এটি আমরা কোক স্টুডিওর জন্য চাই।’ এভাবেই পাতার বাঁশরি কোক স্টুডিওতে যুক্ত হয়।

প্রকাশের পর থেকে প্রশংসিত হচ্ছে পাতার বাঁশরি। সবার কাছ থেকে এত সাড়া পাচ্ছেন, কেমন লাগছে?

সবাই পছন্দ করছে, এটা তো ভীষণ ভালো লাগার। যেকোনো গান প্রথমে শিল্পীদের নিজেদের ভালো লাগা থেকে তৈরি হয়। প্রকাশের পর যখন শ্রোতাদের ভালো লাগে, তখন সেই ভালো লাগা আরও বেড়ে যায়। সবার এত প্রশংসা আশীর্বাদের মতো লাগছে।

গানের ভিডিওটিও প্রশংসা কুড়াচ্ছে। ভিডিও তৈরির গল্প বা ভাবনা শুনতে চাই।

কোক স্টুডিওর প্রতিটি গানেই একটা গল্প থাকে। সে অনুযায়ী ভিডিও তৈরি হয়। এ ক্ষেত্রেও তেমনটা হয়েছে। ভিডিওর ক্রেডিট পুরো টিমের, কারণ এর সঙ্গে সবাই জড়িয়ে আছে।

ঈশান মজুমদারের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন?

ঈশান খুব মেধাবী, সুন্দর লেখে। ২০২৬ সালে এসে ‘কেতকী কদমরিতি মম সঁপি চরণে/ হিয়া থর থর ধরো খর মধু লগনে’র মতো লিরিক লিখেছে। এ রকম লেখা তো এখন খুব একটা দেখা যায় না। ভালোবাসা, অপেক্ষা ও বিরহের অনুভূতিকে তুলে ধরা হয়েছে এ গানে। এই বিষয়গুলো প্রতিটি মানুষের জীবনের অংশ। এ কারণেই পাতার বাঁশরি এত পছন্দ করছে সবাই।

কোক স্টুডিওর সবশেষ গান ‘মেঘ’ নিয়ে ছিল মিশ্র প্রতিক্রিয়া। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সোনার তরী’ কবিতা র‍্যাপ আকারে ব্যবহার করায় সমালোচনা হয়। এর পরপরই আপনার গান এসেছে, কোনো টেনশন কাজ করছিল কি না?

আমরা শিল্পীরা যারা গান বানাই, তাদের নিজেদের কাছে ভালো লাগে বলেই গানটি তৈরি করি। কোনো গান শ্রোতা-দর্শকের ভালো লাগবে, কোনোটি আবার ভালো লাগবে না—এটা খুব স্বাভাবিক। তাই টেনশন কাজ করেনি। টেনশন তৈরি হলে সেই গান রিলিজ করি না। আরেকটা বিষয় যুক্ত করতে চাই, টেনশন আমাদের নিজেদের জন্য হয় না। শ্রোতা-দর্শকের কথা ভেবে টেনশন হয়। এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় মানুষ এমনভাবে অ্যাকটিভ যে সকালে ঘুম থেকে উঠে কোনো কাজ না থাকলে মনে করে ফেসবুকে একটা গালি দিয়ে আসি। এ রকম একটা ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিক দিয়ে ভাবলে শ্রোতাদের কথা ভাবা দরকার, আবার মনে হয় খুব দরকার হয়তো না। মানুষ কী ভাবছে, কী বলছে—এসব নিয়ে ভাবার চেয়ে বরং আমরা গান নিয়েই ভাবি।

গান লেখা ও সুর করার সঙ্গেও আপনি যুক্ত। গান তৈরির ক্ষেত্রে কোন বিষয়টি সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকেন?

যখন গান বানাই, সেই সময়টা ধারণ করার চেষ্টা করি। আমি কোন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি বা আমার আশপাশের মানুষ কোন পরিস্থিতিতে আছে—এটাই তুলে ধরার চেষ্টা করি।

আপনার স্বামী শায়ান চৌধুরী অর্ণবের সঙ্গে রবীন্দ্রসংগীতের অ্যালবাম নিয়ে কাজ করছিলেন। সেটা এখন কী অবস্থায় আছে?

এটা নিয়ে আমরা দুজনে অনেক দিন ধরে কাজ করছি। মিক্সিং ও মাস্টারিংয়ের কাজ এখনো বাকি। আশা করছি দ্রুত শেষ করতে পারব।

সংগীতসফরে কানাডা যাচ্ছেন। সেই সফর নিয়ে কিছু বলুন।

আগামী মাসে কানাডায় গান শোনাতে যাব। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়াতে গিয়েছিলাম। দেশের বাইরে গেলে খুব ব্যস্ত সময় পার করতে হয়। এবারও প্রিয় মানুষদের ছেড়ে প্রায় দেড় মাসের জন্য যাওয়া হচ্ছে। আমার প্রিয় পোষ্যগুলো সবচেয়ে কাছের, ওদের ছেড়ে এতটা সময় দূরে থাকা খুব কষ্টকর। কিন্তু কিছু করার নেই, আমাদের জীবনটাই তো ‘টু সার্ভ পিপল’। তবে ভিন্ন দেশে গিয়ে মানুষদের গান শোনানো এবং তারা সেই গান উপভোগ করছে—এই অনুভূতিটাও দারুণ। এটাও আমাদের জীবনে দরকার।

অভিনয়েও নাম লিখিয়েছেন সম্প্রতি। শাকিব খানের সঙ্গে ‘রকস্টার’ সিনেমায় দেখা গেছে। আপনাকে বড় পর্দায় নিয়মিত পাওয়া যাবে?

নিয়মিত হয়তো দেখা যাবে না। কারণ আমি সিনেমায় নিয়মিত কাজ করতে চাই না। তবে বেছে বেছে পছন্দের কাজগুলো করতে চাই।

প্রায় ছয় বছর ধরে বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে থাকছেন। বাংলাদেশের জীবনটা কেমন কাটছে?

খুব সুন্দর। দুই বাংলার জীবন আমার কাছে একই। শুধু জায়গাটা আলাদা, মানুষজন-বন্ধুবান্ধব আলাদা। কিন্তু সবাই তো বাংলা ভাষার মানুষ, তাই এতটা আলাদা মনে হয় না। আমার কাছে বাংলা একটাই, দুই বাংলা না।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত