চলচ্চিত্রে সংকট ও গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে সেমিনার

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির আয়োজনে আজ মঙ্গলবার চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ‘আমাদের চলচ্চিত্রে সংকট, করণীয় ও গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনার। চলচ্চিত্রের সংকট কাটিয়ে উঠতে প্রযোজনা, পরিবেশনা, প্রদর্শন, সরকারি সহায়তা ও গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রস্তাব উঠে আসে সেমিনারে।
পরিচালক সমিতির সভাপতি শাহিন সুমনের সভাপতিত্বে সেমিনারের বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্র অভিনেতা হেলাল খান। আরও ছিলেন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহিন কবির টুটুল, নির্মাতা কাজী হায়াৎ, ছটকু আহমেদ, শাহ আলম কিরণ, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, অমিতাভ রেজা চৌধুরী, হিমেল আশরাফ, মো. ইকবাল, অভিনেতা ও নির্মাতা সালাহউদ্দিন লাভলু, শাহরিয়ার নাজিম জয় প্রমুখ। অতিথিরা বর্তমান সংকট কাটাতে নীতিমালা তৈরি ও নতুন আয়ের উৎস খোঁজার পরামর্শ দেন।
পরিচালক সমিতির সভাপতি শাহিন সুমন বলেন, ‘ভারতের আঞ্চলিক চলচ্চিত্রশিল্প মালয়ালাম যদি পারে, তাহলে আমরা কেন পারব না? কবিরপুরে ফিল্ম সিটির জন্য সরকারের বিশাল জায়গা পড়ে রয়েছে। সেই জায়গা কীভাবে সিনেমার উন্নয়নে ব্যবহার করা যায়, তা নিয়ে আট-দশজনের একটি প্রতিনিধিদলের সরকারের সঙ্গে বসা উচিত।’
নির্মাতা মতিন রহমান বলেন, ‘আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর ও স্ক্রিপ্ট রাইটার প্রয়োজন। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক ও শৈল্পিক, সব ধরনের ছবি নির্মাণ করতে হবে। শুধু বেশি বাজেটের নয়, স্বল্প ও মাঝারি বাজেটের সিনেমাও বানাতে হবে। আমরা সবাই স্ট্রাকচার নির্মাণে ব্যস্ত। কিন্তু আমার মতে, পুরো ইকোসিস্টেম নিয়ে কাজ করতে হবে।’
নির্মাতা কাজী হায়াৎ বলেন, ‘কালজয়ী সিনেমা “সূর্যদীঘল বাড়ি” মুক্তি পাওয়ার পর প্রথম সপ্তাহে সিনেমা হলে একদমই চলেনি। একজন সাংবাদিক সেই সিনেমাটি দেখে বিচিত্রায় চার-পাঁচ পৃষ্ঠার একটি রিভিউ করেন। সেই রিভিউ পড়ে দর্শকের মাঝে ব্যাপক সাড়া পড়ে। সিনেমাটি আবার নতুন করে মুক্তি দেওয়া হয়। কাজেই একটি সিনেমার সঠিক প্রচারের জন্য গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিসীম।’
প্রযোজক আরশাদ আদনান বলেন, ‘সৃজনশীলতার অভাবে আমরা নতুন ডিরেক্টর, আর্টিস্টদের বের করে আনতে পারছি না। অনেক সিনিয়র আর্টিস্ট কাজ করতে চান না। এর কারণ, কালো টাকা সাদা করতে যে সিনেমা বানানো হয় সেখানে তাঁরা আর কাজ করতে চান না। বিনিয়োগ, ট্যাক্সের পরিচ্ছন্নতা এলে এই কালো টাকার ব্যাপারটা সরে যাবে। করপোরেট হাউজগুলো সিনেমা বানাতে আগ্রহী হবে। তা ছাড়া আমাদের যেসব নীতিমালা রয়েছে সেগুলোতে দুর্বলতা রয়েছে। ভালো সিনেমা নির্মাণের ক্ষেত্রে হলমালিকদেরও এগিয়ে আসতে হবে। প্রযোজক এবং হলমালিক সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’
প্রযোজক শাহরিয়ার শাকিল বলেন, চলচ্চিত্রের জন্য সঠিক বাণিজ্যিক পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া দরকার। বিভিন্ন উৎস থেকে একটি সিনেমার আয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। নীতিমালা তৈরি করে দেন, তাহলে হল তৈরি হবে, সিনেমাও তৈরি হবে। ভালো সিনেমা তৈরি হলে গণমাধ্যম সেই খবর সবার কাছে পৌঁছে দেবে।
নির্মাতা অমিতাভ রেজা চৌধুরী বলেন, ‘ভালো সিনেমা তৈরি না হওয়া বা সিনেমা হিট না হওয়ার একটি অন্যতম কারণ ভালো গল্প না পাওয়া, ভালো চিত্রনাট্য না পাওয়া। তাই ভালো চিত্রনাট্যের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে।’
নির্মাতা ও অভিনেতা শাহরিয়ার নাজিম জয় বলেন, ‘আমাদের নির্মাতারা ভালো সিনেমা বানানোর যোগ্যতা রাখেন। তবে কেবল একজন নায়কের ওপর নির্ভর করলে কখনোই ইন্ডাস্ট্রি দাঁড়াবে না। একটা সময় ছিল এই ইন্ডাস্ট্রিতেই কত কত নায়কের সিনেমা হয়েছে। তাই অন্যদের নিয়েও সিনেমা বানাতে হবে, শিল্পী তৈরি করতে হবে। আর গণমাধ্যম তো সিনেমার প্রচারে প্রসারে সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এখন যদি কোনো সিনেমার মাত্র দুটি টিকিট বিক্রি হয়, তাহলে গণমাধ্যম সেখানে কী করবে? ভালো সিনেমা নির্মাণ করলে গণমাধ্যম সেই খবরটা সবাইকে জানাতে পারবে।’









