Ajker Patrika

মৈমনসিংহ গীতিকার মলুয়া নারীর অদম্য শক্তির আখ্যান

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
মৈমনসিংহ গীতিকার মলুয়া নারীর অদম্য শক্তির আখ্যান
বনানীর কামাল আতাতুর্ক এভিনিউয়ের ‘যাত্রাবিরতি’তে দর্শনীর বিনিময়ে মঞ্চস্থ হতে যাচ্ছে ‘থিয়েট্রিক্যাল কোম্পানী’র প্রথম প্রযোজনা ‘মলুয়া’। ছবি: সংগৃহীত

বনানীর কামাল আতাতুর্ক এভিনিউয়ের ‘যাত্রাবিরতি’তে দর্শনীর বিনিময়ে মঞ্চস্থ হতে যাচ্ছে ‘থিয়েট্রিক্যাল কোম্পানী’র প্রথম প্রযোজনা ‘মলুয়া’। মৈমনসিংহ গীতিকায় সংকলিত প্রাচীন পালাটির ভাষ্য বয়ান ও নির্দেশনায় রয়েছেন সাইফুল জার্নাল। ১৪ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টায় যাত্রাবিরতিতে নাটকটির তৃতীয় মঞ্চায়ন হবে। প্রাচীন বাংলার নারী কবি চন্দ্রাবতী মলুয়ার রচয়িতা বলে মনে করা হয়।

মলুয়া পালা প্রেম, মর্যাদা, সামাজিক বৈষম্য ও নারীর অদম্য শক্তির কালজয়ী আখ্যান। নাটকে মলুয়া শুধু প্রেমিকা বা স্ত্রী নয়; প্রতিকূলতা, লাঞ্ছনা ও ক্ষমতাবানদের অত্যাচারের মুখেও আত্মমর্যাদা, সততা ও মানবিক শক্তি অটুট রাখা এক দৃঢ়চেতা নারীর প্রতীক। অন্যদিকে সমাজের চাপে নতিস্বীকার করা চাঁদ বিনোদের চরিত্র মনে করিয়ে দেয়, প্রকৃত পরাজয় দুর্বল বিবেকের, দৃঢ়চেতা নারীর নয়।

শতাব্দীপ্রাচীন এই পালাকে নতুন সময়ের ভাষা, দৃশ্যরীতি ও নাট্যনির্মাণে পুনরাবিষ্কার করেছে থিয়েট্রিক্যাল কোম্পানী। প্রযোজনাটি প্রশ্ন তোলে—সময় ও সমাজ বদলালেও নারীর প্রতি বৈষম্য ও ক্ষমতার অপব্যবহারের রূপ কতটা বদলেছে? গানের দল ‘সর্বনাম’-এর সদস্য, বিভিন্ন নাট্যদলের অভিনয়শিল্পী, চিত্রশিল্পী ও নাট্য পরামর্শকদের যৌথ তত্ত্বাবধানে প্রযোজনাটি নির্মিত হয়েছে।

গত ২৩ জুলাই রাজধানীর সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার স্টুডিও থিয়েটার মিলনায়তনে হয় থিয়েট্রিক্যাল কোম্পানীর মলুয়ার প্রথম মঞ্চায়ন। পরদিন আরও একটি প্রদর্শনী হয়েছিল।

বনানীর কামাল আতাতুর্ক এভিনিউয়ের ‘যাত্রাবিরতি’তে দর্শনীর বিনিময়ে মঞ্চস্থ হতে যাচ্ছে ‘থিয়েট্রিক্যাল কোম্পানী’র প্রথম প্রযোজনা ‘মলুয়া’। ছবি: সংগৃহীত
বনানীর কামাল আতাতুর্ক এভিনিউয়ের ‘যাত্রাবিরতি’তে দর্শনীর বিনিময়ে মঞ্চস্থ হতে যাচ্ছে ‘থিয়েট্রিক্যাল কোম্পানী’র প্রথম প্রযোজনা ‘মলুয়া’। ছবি: সংগৃহীত

প্রযোজনাটির পরামর্শক হিসেবে যুক্ত আছেন নাট্যশিক্ষক সাইদুর রহমান লিপন। নির্দেশনা সহযোগী সাইদুর শাহীন।

নির্দেশক সাইফুল জার্নাল বলেন, ‘এই সময়ে মিউজিকের আদি ও প্রকৃত পারফরম্যান্সটা নাই হয়ে যাচ্ছে। পালা, পুঁথি, গাজীর গীত—যা ছিল বাংলার প্রাত্যহিক পালনের পরম্পরা, পরিবেশ পরিস্থিতির কারণে এখন এর আয়োজন প্রায় শূন্য। আর যা-ও হয়, তা অপভ্রংশ। আমরা থিয়েট্রিক্যাল কোম্পানীর পক্ষ থেকে চেষ্টা করছি সেই আদি লোক আঙ্গিকের মূল নির্যাসটুকু নিয়ে তা আধুনিক মঞ্চে পুনরায় সৃষ্টি করতে।’

যাত্রাবিরতিতে মলুয়া পালার টিকিটের মূল্য অনলাইনে ১ হাজার ৪০০ টাকা এবং প্রদর্শনীর ভেন্যুতে কাটলে ১ হাজার ৫০০ টাকা। শিক্ষার্থীদের জন্য ৮০০ টাকা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত