Ajker Patrika

নতুন প্রজন্মের প্রতিক্রিয়া দেখার অপেক্ষায় আছি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে শুরু হয়েছিল পথিক নবীর সংগীতচর্চা। একসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও এর আশপাশের এলাকায় সংগীত নিয়ে ছিল তাঁর অবাধ বিচরণ। প্রায় দেড় দশক পর ১৮ সেপ্টেম্বর আবার টিএসসিতে গান শোনাবেন পথিক নবী। তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন শিহাব আহমেদ। শেষ কবে টিএসসিতে গান করেছিলেন?

শিহাব আহমেদ 
নতুন প্রজন্মের প্রতিক্রিয়া দেখার অপেক্ষায় আছি
পথিক নবী। ছবি: সংগৃহীত

দিন-তারিখ ভালো করে মনে নেই। তবে ১৪-১৫ বছর হবে নিশ্চয়ই। মাঝে দুই-একটি অনুষ্ঠানে আমাকে ডেকেছিল কিন্তু একই সময়ে ভিন্ন জায়গায় শো থাকায় যাওয়া হয়নি।

দীর্ঘদিন পর টিএসসিতে গান শোনাবেন। কেমন অনুভূতি হচ্ছে?

টিএসসিতে আমার গানের চর্চা শুরু। বন্ধুবান্ধবদের উৎসাহে ওই জায়গা থেকেই গানের যাত্রা শুরু হয়েছিল। টিএসসি, শাহবাগ, পাবলিক লাইব্রেরি, পিজি হাসপাতালের বারান্দা, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লাইভ পারফরম্যান্সের স্মৃতিগুলো কখনো ভুলতে পারব না। ওই সময় এবং মানুষগুলোর কাছে আমার অন্য রকম ঋণ। দীর্ঘদিন সেখানে পারফর্ম করা হয়নি। কুড়িগ্রাম স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন, ঢাকা-এর রজতজয়ন্তীতে আমাকে গান গাওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। অনেক দিন পর টিএসসি যাব গান শোনাতে। এটা আমার কাছে অনেক আনন্দের বিষয়। স্মৃতিকাতর হয়ে পড়ছি। পুরোনো মানুষদের সঙ্গে দেখা হবে, পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের সঙ্গে একটা মেলবন্ধন হবে। তাঁদের কাছ থেকে নতুন কিছু শেখার সুযোগ হবে।

নতুন প্রজন্ম আপনার গান কীভাবে নেবে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে ফেসবুকে পোস্ট শেয়ার করেছেন। কেন এই সংশয়?

এখন তো ভার্চুয়াল যুগ। আমি অনেক আগের মানুষ। অতীত যুগের বলা যায়। এখনকার ছেলেমেয়েরা অনেক স্মার্ট, ফাস্ট। ওদের যে পরিমাণ জ্ঞান, যে ধরনের জীবনযাপন—তাদের মাঝে আমি গান করব। স্বাভাবিকভাবেই আমি শাহবাগের সময়কার কয়েকটি গানও গাইব। তাই একটু ভয় কাজ করছে। আমাদের সময়ের জীবনভঙ্গি আর এই প্রজন্মের মানুষের জীবনভঙ্গির বিস্তর ফারাক। একসময় আমার কাছে গান রেকর্ড করার জন্য ছোট টেপ রেকর্ডার ছিল না, এখন মানুষের হাতে হাতে মোবাইলসহ কত টেকনোলজি। একটি গান লিখছে সঙ্গে সঙ্গে রেকর্ড করে ফেলছে। তাই ভাবছি, নতুন প্রজন্মের মানুষ আমার গানগুলো কীভাবে নেবে? একটা কিউরিসিটিও কাজ করছে। নতুন প্রজন্মের প্রতিক্রিয়া দেখার অপেক্ষায় আছি।

সম্প্রতি সিনেমার গান গাইলেন। সেই গানটি নিয়ে কিছু বলুন।

মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘ব্যাচেলর’ সিনেমায় গাওয়ার ২২ বছর পর সৈয়দ শমসের তারিফের ‘মাটি’ সিনেমার একটি গান গেয়েছি। ‘মাটির পুতুল’ শিরোনামের গানটি লিখেছেন ও সুর করেছেন আবেগী জাকির। সংগীত আয়োজন করেছেন জিমি শাহ। মাটির কাছে আমাদের কত ঋণ। এই মাটিতে আমাদের বেড়ে ওঠা, এই মাটিতে জন্ম নেওয়া খাদ্যশস্য খেয়ে বেঁচে থাকি আমরা। মৃত্যুর পর এই মাটিতেই মিশে যাই, সব অস্তিত্ব মাটিতে বিলীন হয়ে যায়। তবু এই মাটির প্রতি আমাদের কত নির্মমতা! সময় থাকতে মানুষের মানবিক হওয়া উচিত। এসব বিষয় উঠে এসেছে গানের কথায়।

নতুন মৌলিক গানের কী খবর?

কয়েক দিন আগে আমার কথা ও সুরে ‘ও পাখি’ শিরোনামের একটি গান প্রকাশ পেয়েছে। এ ছাড়া চিত্রশিল্পী ধ্রুব এষ দাদার একটি গান করেছি। গানটির শিরোনাম ‘মায়ার মা’। সুর আমার করা। শিগগির রেকর্ডিং করব। গানটি করে মানসিক শান্তি পেয়েছি। সুর করতে গিয়ে অন্য রকম এক অনুভূতি কাজ করেছে। মনে হয়েছে নিজের লেখা গানের পাশাপাশি যাঁরা ভালো লেখেন, তাঁদের গানও করা উচিত। সেভাবেই পরিকল্পনা করছি।

দীর্ঘদিন আড়ালে ছিলেন। কোনো কারণ ছিল?

প্রায় ১০ বছর গান প্রকাশ করতে পারিনি। নিজের মতো করে কিছু গান তৈরি করেছি, কিন্তু বাজারে ছিলাম না। আমি ফিজিক্যালি একটু আনফিট ছিলাম। মানসিকভাবেও কিছুটা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম। এ ছাড়া হঠাৎ অডিও ইন্ডাস্ট্রি চেঞ্জ হয়ে গেল। বুঝতে পারছিলাম না কীভাবে কী করব। দীর্ঘদিন পর যেহেতু শুরু করেছি, তাই নতুন গানের জোয়ারে ভেসে যেতে চাই। যত দিন বেঁচে থাকব, তত দিন নতুন গান উপহার দিতে চাই। আমি বিশ্বাস করি, এখনো অনেক ভালো গান করা সম্ভব। তবে মিউজিশিয়ান, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানসহ সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। আমি যদি গান তৈরি করে প্রকাশ করতে না পারি, তাহলে সেগুলো মানুষের কাছে পৌঁছাবে না। ইতিমধ্যে সিনিয়র-জুনিয়র অনেকের সঙ্গে কাজ করা হয়েছে। গানগুলো পর্যায়ক্রমে প্রকাশ পাবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত