আধুনিকতায় হারিয়ে যেতে বসেছে বাংলার ঐতিহ্যবাহী যাত্রাপালা। শেকড়ের এই লোক-সংস্কৃতির পুনরুদ্ধারে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের অমরপুর গ্রামের সংস্কৃতিমনা তরুণ ও যুবকেরা। তাঁদের এই উদ্যোগে মঞ্চস্থ হলো রোমান্টিক যাত্রাপালা ‘অশ্রু দিয়ে লেখা’।
গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ১০টায় অমরপুর উচ্চবিদ্যালয় মাঠে তৈরি করা মঞ্চে এই যাত্রাপালা মঞ্চস্থ হয়। ‘অশ্রু দিয়ে লেখা’ যাত্রাপালাটির রচয়িতা ভৈরবনাথ গঙ্গোপাধ্যায়। স্থানীয়ভাবে পালাটি পরিচালনা করেছেন মোহাম্মাদ আলী মাহাম।
যাত্রাপালার গোড়ার গল্প থেকে জানা গেছে, শুরুর দিকের যাত্রাপালাগুলো মূলত কাহিনিনির্ভর। যাত্রাপালায় আছে বলিষ্ঠ ভূমিকা সামাজিক শিক্ষা বা লোকশিক্ষার ক্ষেত্র। এই পালাটিও ঠিক তেমন বলে মন্তব্য করেন এর পরিচালক।
মোহাম্মাদ আলী মাহাম বলেন, এটি একেবারেই গ্রামবাংলার নবাব পরিবারের সঙ্গে সহজ সরল পরিবারের কাহিনি। সাধারণ বাঙালি ঘরের একটি পরিবারের নির্যাতনের কাহিনি উঠে এসেছে এই পালাটিতে। যদিও লেখক আরও অনেক বছর আগে লিখেছেন, তবুও এটি এখনকার সময়ের সঙ্গে পুরোপুরি মানানসই। আধুনিকতার যুগেও দর্শক এটি খুব ভালোভাবে নিয়েছে। যাত্রাপালাটি দর্শকপ্রিয় পেয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আধুনিককালে এসে যাত্রাপালার কথিত যে আধুনিক সংস্করণ বর্তমানে ভালো কোনো গল্প নেই, পালার আমেজ নেই, ডিজে বাজিয়ে পালার আসরে নারী-পুরুষের যৌথ উচ্ছৃঙ্খল যখন যাত্রার উপজীব্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে, তখন ‘অশ্রু দিয়ে লেখা’ যাত্রাপালাটি থেকে দর্শকেরা মূল যাত্রার স্বাদ পেয়েছে। এক কথায় সুস্থ ধারার বিনোদনেরও একটি মাধ্যম যাত্রাপালা।
স্থানীয় যাত্রাপালার নির্দেশক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘যাত্রা একটি লোকশিক্ষা। এটি মা, মাটি, দেশ ও সমাজের কথা বলে। আদি সংস্কৃতির সেই যাত্রা পুরোনো স্মৃতিগুলোকে আবার সামনের দিকে নিয়ে আসতে চাই। সেই প্রয়াসেই আজকের মঞ্চায়ন।’
যাত্রাপালাটির দর্শক সেলিম হোসেন বলেন, বর্তমানে যাত্রাপালার আধুনিক সংস্করণ সেটা যাত্রাপালা দেখার সাধ মেটানোর মতো ব্যাপার। সেই জায়গা থেকে বেরিয়ে এসে ‘অশ্রু দিয়ে লেখা’ পালাটি একটি অসাধারণ মঞ্চায়ন।
তানভীর আল ইসলাম নামে অপর এক দর্শক বলেন, ‘যাত্রাপালার মঞ্চায়ন, শিল্পী, পরিবেশ, সাউন্ড কোয়ালিটি ও কলাকুশলীদের অভিনয় মন জয় করে নিয়েছে। ঠিক ছোটবেলায় গ্রামে যে যাত্রাপালা দেখতাম, তার স্বাদ পেলাম। চমৎকার ছিল যাত্রার কাহিনিও।’
ভৈরবনাথ গঙ্গোপাধ্যায় রচিত ‘অশ্রু দিয়ে লেখা’ পালাটি গড়ে উঠেছে মূলত মুসলমান নবাব সাইফুদ্দিন মুজাফফর শাহ ভাই আজগর আলীর সঙ্গে প্রজা গফুর মিয়ার কন্যা সালমার প্রেমের সম্পর্ক। নবাব সেটা মেনে নেয় না। প্রজার পরিবারকে নির্যাতন করে, প্রজাকে কারাগারে পাঠিয়ে হত্যা করে। পরে নায়ক ও নায়িকাকে কারাগারে রেখে চোখ তুলে নেয় এবং পরিশেষে হত্যা করে। অপরদিকে হিন্দু রাজা আনন্দ রায় হাবশি নবাব সাইফুদ্দিন মুজাফফর শাহর নানা অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন। এতে হিন্দু রাজার সঙ্গে হাবশি নবাবের যুদ্ধ হয়। হাবশি নবাব পরাজিত হন।
যাত্রাপালাটিতে অভিনয় করেছেন বগা, ইদ্রিস আলী, কালাম হোসেন, হাবিবুর রহমান, সামসুল ইসলাম, লাভলু, বাবলু, হাফিজুল প্রমুখ।

ক্যারিয়ারের সেরা সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন অজয় দেবগন। দৃশ্যম সিরিজের শেষ সিনেমা ‘দৃশ্যম: দ্য কনক্লুশন’ দিয়ে বক্স অফিসে রাজত্ব শুরু করেছেন তিনি। অজয়ের অভিনয়জীবনের আগের সব রেকর্ড গুঁড়িয়ে দিয়ে মুক্তির মাত্র দুই দিনেই বিশ্বব্যাপী সিনেমাটি আয় করেছে ১৭৭ কোটি রুপির বেশি।
৫ মিনিট আগে
চার বছর আগে ২০২২ সালের ২৮ অক্টোবর শাহতাজ মনিরা হাশেমকে বিয়ে করেন প্রীতম হাসান৷ তাঁদের সম্পর্কের শুরুটা হয়েছিল এরও পাঁচ বছর আগে, প্রীতম হাসানের জনপ্রিয় গান 'জাদুকর'-এর মিউজিক ভিডিও করতে গিয়ে।
৯ ঘণ্টা আগে
গত কয়েক মাস ধরেই কোয়েলের দল বদলের খবর শোনা যাচ্ছিল। শুরুটা হয়েছিল গত জুলাইয়ে। গত ১৬ জুলাই রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগ করেন কোয়েল। এরপর গুঞ্জন ছড়ায় বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন তিনি।
১১ ঘণ্টা আগে
স্যাটেলাইটের ছবিতে এখন স্পষ্ট দেখা যায় গাজার ধ্বংসস্তূপ। একসময় যেখানে ছিল ঘরবাড়ি, স্কুল, হাসপাতাল ও জনবসতি, সেখানে এখন বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ধ্বংসের চিহ্ন। মার্কিন অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি গাজার যুদ্ধের আগে ও পরের স্যাটেলাইট ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, এই ছবিগুলো ধ্বংসের মাত্রা দেখাতে পারে....
১৯ ঘণ্টা আগে