মঞ্চে আসছে নবরসের নতুন নাটক ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’

পল্লিকবি জসীমউদ্দীনের কাব্যগ্রন্থ ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’ এবার মঞ্চে নিয়ে আসছে নৃত্য ও নাটকের দল নবরস। এটি নবরসের পঞ্চম প্রযোজনা। আগামী ৬ নভেম্বর রাজধানীর বেইলি রোডের মহিলা সমিতির নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে সন্ধ্যা ৭টায় নাটকটির উদ্বোধনী প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।
সোজন বাদিয়ার ঘাট-এর গল্প গড়ে উঠেছে শিমুলতলী গ্রামের মানুষকে ঘিরে। হিন্দু ও মুসলিম—এই দুই সম্প্রদায়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছে এই গ্রামে। ধর্মে পৃথক হলেও তাদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক। পুরো গ্রাম মিলে যেন একটি পরিবার। এই গ্রামের ভিন্ন ধর্মের দুই কিশোর-কিশোরী সোজন ও দুলী। ছোটবেলা থেকেই তারা একে অপরের খেলার সাথি ও পরম আপনজন। তবে সময়ের পরিক্রমায় গ্রামে সাম্প্রদায়িক সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে তাদের এই মধুর সম্পর্ক বিরহে রূপ নেয়, যার করুণ পরিণতি নেমে আসে সোজন-দুলীর জীবনে। কবি জসীমউদ্দীন তাঁর কাব্যগ্রন্থে এই বিরহ ও সামাজিক বাস্তবতার গল্পই ফুটিয়ে তুলেছেন কবিতার ছন্দে।
কাব্যগ্রন্থটি নাটকে রূপান্তর করে নির্দেশনা দিয়েছেন সৈয়দা শামছি আরা সায়েকা। তিনি বলেন, ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট পূর্বে অনেক দলই মঞ্চে এনেছে। প্রথম করেছিল পদাতিক নাট্য সংসদ। আমি তখন পদাতিকের সদস্য। তখন থেকেই সোজন বাদিয়া ঘাট নাটকের সঙ্গে যুক্ত। এত দিন পর নবরসের ব্যানার থেকে এটি মঞ্চে আনার কারণ বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপট। বর্তমানে ধর্মীয় দ্বন্দ্ব, জটিলতা ও কুসংস্কার মানুষের মধ্যে প্রকট হয়ে উঠেছে। কিন্তু মানুষের প্রকৃত পরিচয় হওয়া উচিত তার কর্মে। এই বিষয়গুলো মাথায় ঘুরছিল। ওই জায়গা থেকে সোজন বাদিয়ার ঘাট এখন অনেক প্রাসঙ্গিক মনে হয়েছে। এখানে প্রেমের মধ্য দিয়ে ধর্মের বিষয়ে অনেক কিছু বলা আছে। তাই পল্লিকবি জসীমউদ্দীনের কাব্যগ্রন্থটি আবার মঞ্চে আনার পরিকল্পনা করা হলো।’
সৈয়দা শামছি আরা সায়েকা আরও জানান, কবিতা থেকে নাট্যরূপে রূপান্তরের ক্ষেত্রে মূল বিষয়বস্তু ঠিক রেখে কিছুটা পরিমার্জন করা হয়েছে। গল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তিনটি গান সংযোজন করা হয়েছে নাটকটিতে। তিনটি গানই লিখেছেন সৈয়দা শামছি আরা সায়েকা।
সোজন বাদিয়ার ঘাট নাটকে সোজন চরিত্রে অভিনয় করবেন ইউসুফ রাসেল অথবা শাহীন আলম জীবন; দুলীর চরিত্রে শামছি আরা সায়েকা অথবা নীলিমা রাশেদ। সোজনের ছোটবেলার চরিত্রে অভিনয় করবে কাশফি আলফি আহমেদ এবং দুলীর ছোটবেলার চরিত্রে আফিয়া জামান সৃজা।









