Ajker Patrika

মেধাবীদের পাশে ড্যাফোডিল ফাউন্ডেশন

ক্যাম্পাস ডেস্ক 
মেধাবীদের পাশে ড্যাফোডিল ফাউন্ডেশন

চাঁদপুর শহরের বাবুরহাটে অবস্থিত ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল প্রাঙ্গণে এক বর্ণাঢ্য আয়োজনে একত্র হলেন স্বপ্নবাজ তরুণেরা। ড্যাফোডিল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে তাঁদের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী ও অ্যালামনাইদের নিয়ে বৃত্তি প্রদান, গেট টুগেদার এবং রিইউনিয়নের আয়োজন করা হয়।

জাকাতভিত্তিক এই মানবিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে গত ১৬ বছরে ১৬টি ব্যাচে ২৭৯ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে এই সহায়তা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ৯০ জন শিক্ষার্থী এই বৃত্তির আওতায় রয়েছেন। ইতিমধ্যে ১৮৯ জন শিক্ষার্থী প্রোগ্রাম সম্পন্ন করে অ্যালামনাই হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১০২ জন বিভিন্ন পেশায় সফলভাবে কর্মরত। প্রায় ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকার বিনিয়োগে পরিচালিত এ কর্মসূচি দেশে টেকসই মানবসম্পদ উন্নয়নের এক অনুকরণীয় মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

২২ মার্চ শুরু হওয়া দিনব্যাপী এই আয়োজন ছিল প্রাণবন্ত ও বহুমাত্রিক। কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে এতে ছিল বক্তব্য, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, অনুপ্রেরণামূলক সেশন, পুরস্কার বিতরণ এবং উন্মুক্ত আলোচনা। গত ১৬ বছরের সাফল্য, অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা তুলে ধরা হয় এই আয়োজনে। শিক্ষার্থী, অ্যালামনাই, শিক্ষক, অভিভাবক ও সুধীজনদের উপস্থিতিতে পুরো পরিবেশ হয়ে ওঠে উৎসবমুখর আর অনুপ্রেরণাদায়ী।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ড্যাফোডিল গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান। তিনি তরুণদের উদ্দেশে বলেন, ‘গ্রোথ মাইন্ডসেট এবং কর্মমুখী শিক্ষা অর্জনের মধ্য দিয়ে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। সে দক্ষতাই একসময় জাতি গঠনে ভূমিকা রাখবে।’ তিনি আরও বলেন, জীবনে সাফল্যের জন্য সুস্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ এবং সেই লক্ষ্যে নিরলস পরিশ্রম অপরিহার্য।

বক্তব্যে তিনি ফাউন্ডেশনের বৃত্তি কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরে জানান, ২০১০ সালে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ ইতিমধ্যে ১৬টি ব্যাচ সম্পন্ন করেছে এবং শিগগির প্রায় ৪০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে ১৭তম ব্যাচ শুরু হতে যাচ্ছে।

বর্তমানে ফাউন্ডেশনের অ্যালামনাইদের মধ্যে ২৪ জন সরকারি চাকরিতে, ৪০ জন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত, ৬ জন উদ্যোক্তা হিসেবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন এবং ৮ জন বিদেশে কর্মরত কিংবা উচ্চশিক্ষায় নিয়োজিত। এটি শুধু আর্থিক সহায়তা নয়; একটি পূর্ণাঙ্গ মানবসম্পদ উন্নয়ন মডেল হিসেবে কাজ করছে বলেও জানানো হয়।

শিক্ষার্থীদের একাডেমিক শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের জন্য পরিচালিত হচ্ছে নেতৃত্ব উন্নয়ন, উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ এবং সফট স্কিল ডেভেলপমেন্ট কার্যক্রম। ফলে তাঁরা দক্ষ, আত্মনির্ভরশীল ও নেতৃত্বগুণসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠছেন।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, পুরো স্কলারশিপ কার্যক্রমটি পরিচালিত হচ্ছে একটি ডিজিটাল অটোমেশন সিস্টেমের মাধ্যমে। এতে অনলাইন আবেদন, পরীক্ষা, সাক্ষাৎকার, ডেটা ব্যবস্থাপনা এবং অ্যালামনাই যাচাইকরণ প্রক্রিয়া অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা এই উদ্যোগকে করেছে আরও স্বচ্ছ এবং কার্যকর।

প্রধান অতিথির বক্তব্য দেওয়ার আগে একটি প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে ফাউন্ডেশনের

১৬ বছরের অর্জন তুলে ধরা হয়। পরে তিনি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।

ড্যাফোডিল ফাউন্ডেশন জানায়, ভবিষ্যতে এই উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের হাজারো মেধাবী শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁদের লক্ষ্য—একটি দক্ষ, স্বনির্ভর ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা।

অনুষ্ঠানে সাংবাদিক, সুধীজন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

যুক্তরাষ্ট্রে ‘ভয়ংকর অপরাধে’ গ্রেপ্তার ১০ বাংলাদেশির ছবিসহ পরিচয় প্রকাশ

জোড়া লাল কার্ডের ম্যাচে ভারতকে রুখে দিল বাংলাদেশ

বগুড়ায় বাজার সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীকে তুলে নিয়ে হাত-পা ভেঙে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা

বেরোবিতে ছাত্রীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ অবস্থায় ঢাবি ছাত্র, থানায় নিয়ে মুচলেকা

প্রেম, বিয়ে ও একই সঙ্গে বিজেএস জয়

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত