
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না। দীর্ঘদিনের বৈষম্য, শোষণ, অন্যায় ও গণ-আকাঙ্ক্ষা উপেক্ষার ধারাবাহিক পরিণতিই ছিল এই গণ-অভ্যুত্থান। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়-জনগণের অধিকার হরণ করে কোনো শাসক দীর্ঘদিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে না।’
আজ রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের উদ্যোগে বিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞান অনুষদের কনফারেন্স কক্ষে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪: ছাত্র-জনতার আকাঙ্ক্ষা ও ভবিষ্যতের বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. তাজমেরী এস. এ. ইসলাম। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আ ফ ম ইউসুফ হায়দার। স্বাগত বক্তব্য দেন বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মোফাজ্জল হোসেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা তাঁদের অভিজ্ঞতা ও স্মৃতিচারণ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন, পাকিস্তানি শাসনামল এবং স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ থেকে বিচ্যুত হওয়ার অভিজ্ঞতা আমাদের একই শিক্ষা দেয়—ন্যায়বিচার ও জনগণের মতামত উপেক্ষা করলে তার পরিণতি অনিবার্য। ২০১৮ সালের আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণ-আন্দোলনের দাবিগুলো যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হলে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি নাও হতে পারত। তবে ছাত্র-জনতা, অভিভাবক ও সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণই এই আন্দোলনকে গণ-অভ্যুত্থানে রূপ দেয় এবং সাফল্য নিশ্চিত করে।’
উপাচার্য জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জুলাইয়ের চেতনাকে কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না; বরং প্রতিটি কার্যক্রমে বৈষম্যবিরোধী ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের আদর্শকে ধারণ করতে চায়।’
উপাচার্য জানান, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। জুলাই যোদ্ধা শিক্ষার্থীদের প্রথম সেমিস্টারের টিউশন ফি মওকুফ করা হয়েছে। আগামী ৫ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি জুলাইয়ের গ্রাফিতি সংরক্ষণ, স্মারক কর্নার স্থাপন এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের কাজ চলমান রয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘদিনের স্বৈরাচার, বৈষম্য, অন্যায় ও মানুষের অধিকার হরণের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের ফল। সমাজের সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে এই গণ-অভ্যুত্থান সফল হয়েছিল এবং এর মাধ্যমে জনগণের বিজয় নিশ্চিত হয়। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—কোনো রাষ্ট্র বা সরকার যেন আর কখনো বৈষম্য, নিপীড়ন ও অবিচারের পথে না হাঁটে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলাই এখন সবার প্রধান দায়িত্ব।’
অধ্যাপক আব্দুস সালাম বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নানাভাবে আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সাহস, ত্যাগ ও আত্মদানের ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস শুধু স্মরণ করলেই হবে না; এর চেতনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে এমন একটি সমাজ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে ন্যায়বিচার, সমতা ও মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হবে এবং ভবিষ্যতে আর কোনো স্বৈরাচারী শাসনের পুনরাবৃত্তি ঘটবে না।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই চেতনাকে ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।’
প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী জানান, আগামী ৫ আগস্ট ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন করা হবে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্যালেন্ডারে প্রতিবছর ১৪ জুলাই উইমেন্স ডে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জুলাই কর্নার’ স্থাপন, সেমিনারের প্রবন্ধ ও বক্তব্য সংকলন প্রকাশ এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বিষয়ে গবেষণা কার্যক্রম গ্রহণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
এদিকে ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষে গতকাল (২৫ জুলাই) সন্ধ্যায় মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলে ‘স্মৃতিতে ও স্মরণে রক্তিম জুলাই’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।
হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রক্টর মো. ইসরাফিল প্রাং ও অ্যাকাউন্টিং বিভাগের অধ্যাপক আল-আমিন বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। এ ছাড়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ ও শহীদ শাহারিয়ার খান আনাসের মা সানজিদা খান, হল সংসদের ভিপি মো. মহিউদ্দিন (মাহবুব তালুকদার), জিএস আসিফ ইমামসহ হল সংসদের নেতৃবৃন্দ এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল হল শাখার আহ্বায়ক গাজী মো. জাহিদুল ইসলাম এবং সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রিজভী আলম বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বিষয়ক স্মৃতিচারণমূলক প্রামাণ্যচিত্র ‘রক্তিম জুলাই’ প্রদর্শন করা হয়।
হল সংসদের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মো. হারুন অর রশীদের (আবরার হারুন) নেতৃত্বে দলীয়ভাবে একটি দেশাত্মবোধক সংগীত পরিবেশন করা হয়। গণ-অভ্যুত্থানে আহত ও অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা স্মৃতিচারণ করেন। হলের আবাসিক শিক্ষক কে এম আফতাবুল ইসলাম তন্ময় এবং সহকারী আবাসিক শিক্ষক আগা মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন।

প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা-২০২৬ সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করতে আন্তমন্ত্রণালয় স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করেছে সরকার। প্রতিযোগিতা সফলভাবে আয়োজনের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মধ্যে সমন্বয়, তদারকি, প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা এবং সহযোগিতা নিশ্চিত করতে ১৫ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
২ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) নতুন তিনজন সদস্য নিয়োগ দিয়েছে সরকার। চার বছরের জন্য তাঁদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আজ রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এতে স্বাক্ষর করেছেন সিনিয়র সহকারী সচিব নাঈমা খন্দকার।
৪ ঘণ্টা আগে
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) বাইরে থেকে ট্রেজারার নিয়োগ দেওয়া হলে তাঁদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে জবি শিক্ষক সমিতি। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার পদেও জবির নিজস্ব শিক্ষকদের মধ্য থেকে নিয়োগের দাবি জানিয়ে সংগঠনটি বলেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদ ও শিক্ষক
৬ ঘণ্টা আগে
আজ ২৬ জুলাই, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার এক দশক পূর্ণ করল। দীর্ঘ এই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থায়ী ক্যাম্পাস, একাডেমিক সম্প্রসারণ ও গবেষণার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে। এই অবস্থায় ৮ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্যের দায়িত্ব পেয়েছেন অধ্যাপক তাহমিনা আখতার।
১৩ ঘণ্টা আগে