ইউরোপের কোনো দেশে ভর্তির ক্ষেত্রে সিজিপিএ গুরুত্বপূর্ণ। তবে একটা ন্যূনতম সিজিপিএ থাকলেও অফার লেটার পাওয়া যায়। সে ক্ষেত্রে সিজিপিএ ৩ থাকলে ভালো হয়। এর চেয়ে কম থাকলেও আপনি অফার লেটার পেতে পারেন। তবে সিজিপিএ বেশি থাকলে সম্ভাবনা বাড়ে। বিশ্ববিদ্যালয় ও পড়ার বিষয়ভেদে ন্যূনতম সিজিপিএর পার্থক্য অনেক বড় হিসেবে দেখা দিতে পারে। এক্সট্রা কারিকুলার অভিজ্ঞতার জন্য জার্মানিতে সুবিধা পাওয়া যায়। ভাষাগত দক্ষতা প্রমাণে জার্মানির ক্ষেত্রে আইইএলটিএস স্কোর থাকতে হবে ন্যূনতম ৬।
তবে ভর্তির আবেদনের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রামভেদে ন্যূনতম চাহিদা ভিন্ন ভিন্ন থাকে। এখানে টোফেল গ্রহণযোগ্য। ডুয়োলিঙ্গ বা জিম্যাটের দরকার নেই। তবে খুব কমসংখ্যক বিশ্ববিদ্যালয়ে জিআরই চাওয়া হয়। ইউরোপে সাধারণত অফার লেটার পাওয়ার ক্ষেত্রে মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয় না। তবে কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে প্রথম ধাপে উত্তীর্ণ হওয়ার পর মৌখিক পরীক্ষায় ভালো করলে অফার লেটার দেয়। স্নাতকের ক্ষেত্রে গবেষণাপত্র না থাকলেও অফার লেটার পাওয়া সম্ভব।
ইউরোপের দেশগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন-প্রক্রিয়া খুব সহজ নয়। খানিকটা আলাদা। আবেদন করতে পাসপোর্ট, ইউরোপাস সিভি, মোটিভেশনাল লেটার, রেকমেন্ডেশন লেটার, আইইএলটিএস সার্টিফিকেট, একাডেমিক বিভিন্ন কাগজপত্র লাগবে। জার্মানির ক্ষেত্রে সাধারণত রেকমেন্ডেশন লেটার লাগে না। অনেক সময় কাগজপত্র নোটারি করতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয় চাইলে নোটারাইজড ডকুমেন্টস কুরিয়ারে পাঠাতে হয়। জার্মানিতে আবেদনের পদ্ধতি মূলত দুটি—প্রথমত, সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের পোর্টালে আবেদন। এ ক্ষেত্রে কোনো খরচ হয় না।
দ্বিতীয়ত, অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে হয় ইউনি-অ্যাসিস্ট থেকে। প্রথম আবেদনে ৭৫ ইউরো প্রয়োজন। তবে পরেরগুলোয় ৩০ ইউরো খরচ হবে। ইউনি-অ্যাসিস্টে আবার দুটি পদ্ধতি আছে। একটির ক্ষেত্রে ইউনি-অ্যাসিস্ট ডকুমেন্টস সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়কে পাঠায়। অন্য পদ্ধতিকে বলে ভিপিডি। এ ক্ষেত্রে ইউনি-অ্যাসিস্ট থেকে প্রাপ্ত ফলাফল নিজে থেকে মেইলে বিশ্ববিদ্যালয়কে পাঠাতে হয়।
আমেরিকার মতো জার্মানিতে অধ্যাপক জোগাড়ের বিষয় নেই। অ্যাডমিশন কাউন্সিলে যাঁরা থাকেন, আবেদন পাওয়ার পর তাঁরা সিদ্ধান্ত নিয়ে মেইলে বা নির্দিষ্ট মাধ্যমে জানিয়ে দেন। জার্মানিতে সরকার প্রতিবছর ড্যাড স্কলারশিপ, ফুল ফান্ড স্কলারশিপ দিয়ে থাকে। তা ছাড়া সেখানে যাওয়ার পর শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণাপ্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান থেকে বৃত্তি পেতে পারেন। ইউরোপের প্রতিটি দেশে আলাদা বৃত্তির ব্যবস্থা আছে। আবার ইউরোপীয় ইউনিয়নেরও বৃত্তি আছে।
ইউরোপের প্রায় সব দেশে যাঁরা পড়াশোনা করেন, তাঁদের সিংহভাগ রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অথবা গবেষণা ইনস্টিটিউটে খণ্ডকালীন চাকরি করতে পারেন। প্রতি ঘণ্টায় এখানে প্রায় ১৩ ইউরো পারিশ্রমিক পাওয়া যায়। বছরে ১২০ পূর্ণ দিবস অথবা ২৪০ দিন অর্ধদিবস কাজ করা যায়। পূর্ণ দিবস হিসেবে দিনে ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত চাকরি করা যায়। জার্মানির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে টিউশন ফি দিতে হয় না। তাই শহর ও ব্যক্তিভেদে একেক জনের মাসিক ৬০০ থেকে ৭০০ ইউরো খরচ হবে। খণ্ডকালীন চাকরি করে খুব সহজে এই টাকা উপার্জন করা যায় এবং শিক্ষার্থীরা চাইলে বিভিন্ন বন্ধে ফুলটাইম চাকরি করতে পারেন।
জার্মানিতে এসে যাঁরা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন, তাঁরা মোটামুটি সবাই পড়াশোনা শেষে পিএইচডি অথবা ফুলটাইম চাকরির ব্যবস্থা করতে পারেন। পিএইচডিকেও এখানে ফুলটাইম চাকরি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মাস্টার্সের পর দেড় বছর সময় পাওয়া যায় জব সিকিং ভিসার আওতায়। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুবিধাও রয়েছে। পড়াশোনা শেষে চাকরির ব্যবস্থা করতে হয়।
নির্দিষ্ট বেতন এবং ভাষাগত দক্ষতা থাকলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরে এমনকি তার চেয়ে কম সময়েও নাগরিকত্ব পাওয়া সম্ভব কোনো কোনো দেশে। পূর্ণকালীন চাকরি থাকলে তিন বছরে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ব্লু কার্ড পাওয়া যেতে পারে।
অনুলিখন: মো. গোলাম রব্বানী

তোমরা যারা এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছ, তোমাদের জন্য এখন এক বিশেষ সময়। পরীক্ষা শেষ, ফলের অপেক্ষা। সামনে কলেজে ভর্তি হওয়ার আগে হাতে আছে বেশ কিছুটা অবসর। এই সময়টাকে শুধু বিশ্রামের জন্য নয়, নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার প্রস্তুতির জন্যও কাজে লাগানো যায়।
২১ ঘণ্টা আগে
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, গবেষক ও শিল্পীদের জন্য ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষের সুইস গভর্নমেন্ট এক্সিলেন্স স্কলারশিপ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সুইজারল্যান্ড। বিশ্বের ১৮৩টি দেশের যোগ্য প্রার্থীরা এই বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন।
২১ ঘণ্টা আগে
তাদের উদ্ভাবিত ‘হাইব্রিড ইকো-স্ট্রাইড শু’ প্রকল্পটি জেলা পর্যায়ে সাফল্য অর্জন করে জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করেছে।
১ দিন আগে
ভুল চাহিদা দেওয়ার কারণে একদিকে যেমন প্রশাসনিক বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে ভুল পদে নিয়োগ পেয়ে প্রার্থীরা এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৯টি শিক্ষা অঞ্চলের মোট ২ হাজার ৩৩৭টি কলেজ পর্যায়ের শূন্যপদের তথ্য যাচাই করা হয়।
১ দিন আগে