রাজধানীর দারুন্নাজাত সিদ্দিকিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে এইচএসসি পাস করেছেন আবু নোমান সালমান। গত রোববার প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত গুচ্ছ ভুক্ত ২০টি সাধারণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন তিনি।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে মানবিক বিভাগের জন্য নির্ধারিত ‘বি’ ইউনিটের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত ফলাফলে ১০০ নম্বরের মধ্যে ২২ দশমিক ৫০ নম্বর পান এ শিক্ষার্থী। তবে বাংলা অংশে ৪০টি নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নের মধ্যে ৩৫ টির বৃত্ত ভরাট করলেও ফলাফলে দেখানো হয়েছে উত্তরপত্রে ২০টি বৃত্ত ভরাট করেছেন তিনি। আবার ইংরেজি অংশে এ শিক্ষার্থী ১৮টি প্রশ্নের জন্য বৃত্ত ভরাট করলেও ফলাফলে এ অংশে ৩০টি বৃত্ত ভরাট করা হয়েছে বলে ফলাফলে দেখানো হয়েছে।
আজকের পত্রিকাকে এ শিক্ষার্থী বলেন, পরীক্ষা শেষে উত্তর যাচাই করে দেখেছি, আমার ৪৩-৪৪ নম্বর পাওয়ার কথা। কিন্তু আমি পেলাম মাত্র ২২ দশমিক ৫০ নম্বর। আমি সেকেন্ড টাইম পরীক্ষার্থী। পরিবারের সঙ্গে অনেক যুদ্ধ করে প্রায় দুইটা বছর ধরে প্রস্তুতি নিলাম। অনেক স্বপ্ন ছিল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার। কিন্তু ফলাফল নিয়ে গুচ্ছ পরীক্ষা কমিটির ভুলের কারণে আমার সব শেষ হয়ে গেল!
নরসিংদী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী আবিরের ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটেছে। ইংরেজিতে একটি প্রশ্নের উত্তর না দিয়েও পেয়েছেন ২২ নম্বর। আবার বাংলায় ৩১টি প্রশ্নের উত্তর দিলেও প্রকাশিত ফলাফলে ৪টি উত্তর দেওয়া হয়েছে বলে দেখানো হয়েছে।
শুধু আবু নোমান সালমান আর আবিরই নন-‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া অনেক শিক্ষার্থী প্রকাশিত ফলাফল নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
ঢাকা কলেজের মুবাশ্বির আহমেদ নামের এক শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় সর্বমোট ৪৬ নম্বর পেয়েছেন। তবে ভর্তি পরীক্ষার বাংলা অংশে ৪০টি নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নের উত্তর করলেও প্রকাশিত ফলাফলে বাংলা অংশে ২৮টি নৈর্ব্যক্তিক পূরণ করা হয়েছে বলে দেখানো হয়েছে।
ভর্তি–ইচ্ছুক পরীক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, ভর্তি পরীক্ষা আয়োজক কমিটির ভুলের কারণে তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাচ্ছে। কর্তৃপক্ষের ভুলের মাশুল দিতে হচ্ছে ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের। গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় ভোগান্তি কমে যাবে বলে প্রচার করা হলেও এটা এখন আমাদের জীবন ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আমাদের জীবন নিয়ে এ রকম খেলার মানে হয় না।
এর আগে গত ২০ অক্টোবর গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার ‘এ’ ইউনিটের ফলাফল নিয়েও নানা অভিযোগ করেন পরীক্ষার্থীরা।
তবে এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা আয়োজক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।
ফলাফল নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ বিষয়ে অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, শিক্ষার্থীরা যে অভিযোগ করেছেন সেগুলো ভিত্তিহীন। কম্পিউটারের মাধ্যমে ফলাফল কাউন্ট হয়েছে। ভুল হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে কোনো শিক্ষার্থী যদি অভিযোগের বিষয়ে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে, তাহলে পরীক্ষা শেষে তাদের ফলাফল পুনঃনিরীক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
এ বিষয়ে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সদস্যসচিব ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান বলেন, অনেকে ওএমআর পূরণ করতে ভুল করে। অর্ধেক ভরাট, অস্পষ্ট হলে কম্পিউটারে সেটা রিড করে না। এখানে ওএমআর সম্পূর্ণ কম্পিউটারের মাধ্যমে রিড হয়, তাই ফলাফল ভুল হওয়ার প্রশ্নই আসে না। এরপরও যারা চ্যালেঞ্জ করতে চায়, বাণিজ্য অনুষদের পরীক্ষার পর আমরা একটা নোটিশ দেব। নির্ধারিত ফি দিয়ে শিক্ষার্থীরা পুনরায় ফলাফল চেক করতে পারবে।
এদিকে শিক্ষার্থীরা দাবি করেছেন, তাঁরা ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে পারছেন না। এ বিষয়ে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা কমিটির এক সদস্য বলেন, কারিগরি সমস্যার কারণে এমন হচ্ছে। অল্প সময়ের মধ্যেই সব ঠিক হয়ে যাবে।

শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে আনার পরিবেশ সৃষ্টি, জাতীয় কারিকুলাম (পাঠ্যক্রম) পর্যালোচনা এবং কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়ন—এই তিন বিষয়কে শিক্ষার অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
১০ ঘণ্টা আগে
চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় অংশ নিতে ফরম পূরণের সর্বোচ্চ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৯৯৫ টাকা। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে এই ফি দিতে হবে। আর মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণে ২ হাজার ৪৩৫ টাকা ফি ফিতে হবে।
১৫ ঘণ্টা আগে
নবনিযুক্ত শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
১৭ ঘণ্টা আগে
ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারি নীতিমালার আওতায় আনার বিষয়ে পর্যায়ক্রমে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, ‘যত্রতত্র অনিবন্ধিত বা অস্থায়ী অবকাঠামোয় স্কুল পরিচালনা গ্রহণযোগ্য নয়। স্কুল পরিচালনার ক্ষেত্রে...
১৮ ঘণ্টা আগে