Ajker Patrika

জাপানে উচ্চশিক্ষার নতুন দিগন্ত

শিক্ষা ডেস্ক
আপডেট : ২৯ মার্চ ২০২৬, ১১: ২০
জাপানে উচ্চশিক্ষার নতুন দিগন্ত

জাপানের কানাজাওয়া শহরের রাস্তায় হাঁটলে কিংবা সেখানকার গবেষণাগারে প্রবেশ করলে নিজেকে আর পুরোপুরি বিদেশি মনে হয় না; বিশেষ করে জাপান অ্যাডভান্সড ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (জেএআইএসটি) অধ্যাপক মোহাম্মদ জাভাদ কুহসারির ল্যাবে প্রবেশ করলে মনে হবে, এটি বাংলাদেশের কোনো ক্ষুদ্র ক্যাম্পাস। সেখানে গবেষণার টেবিলে বাংলাদেশি তরুণদের সক্রিয় উপস্থিতি এখন স্পষ্ট। সাশ্রয়ী টিউশন ফি এবং বিশ্বমানের গবেষণা আর নিরাপদ জীবনযাত্রার কারণে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে জাপান এখন উচ্চশিক্ষার এক আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। অধ্যাপক কুহসারির ‘আরবান ডিজাইন সায়েন্স ফর হেলথ’ ল্যাব তারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ। মো. সাব্বির হোসেন খান জেএআইএসটিতে পিএইচডির তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত। এই ল্যাবের অভিজ্ঞতা এবং সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন তিনি।

অধ্যাপক মোহাম্মদ জাভাদ কুহসারি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একজন গবেষক। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও এলসেভিয়ারের যৌথ মূল্যায়নে (২০২১-২০২৫) তিনি বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন। নগর-পরিকল্পনা, জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ এবং সামাজিক পরিবর্তন—এই চার ক্ষেত্রকে সমন্বিত করার মধ্য দিয়ে নতুন বৈজ্ঞানিক ধারণা তৈরি করছে তাঁর গবেষণাগার। তবে এই ল্যাবের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, এখানে গবেষকদের বড় একটি অংশ বাংলাদেশি। বর্তমানে ল্যাবের ৮০ শতাংশের বেশি সদস্য বাংলাদেশ থেকে আসা শিক্ষার্থী।

গবেষণার মূল বিষয়

অধ্যাপক মোহাম্মদ জাভাদ কুহসারি বলেন, তাঁর ল্যাব মূলত গবেষণা করে, কীভাবে নগর-নকশা মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর বিশেষ প্রভাব ফেলে। হাঁটাচলা, সক্রিয় জীবনধারা, পার্ক ও খোলা জায়গা, বয়স্ক মানুষের জীবনমান ও পরিবেশদূষণ—এসব বিষয়ে এখানে গবেষণা পরিচালিত হয়। জাভাদ কুহসারির ভাষায়, ‘আমরা নগর-নকশাকে শুধু স্থাপত্য হিসেবে না দেখে বরং বৈজ্ঞানিকভাবে বিশ্লেষণ করি। আমাদের লক্ষ্য এমন গবেষণা করা, যা বাস্তব জীবনের পরিকল্পনা ও নীতিনির্ধারণে কাজে লাগবে।’

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের নিয়ে অভিজ্ঞতা

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সম্পর্কে অধ্যাপক কুহসারির অভিজ্ঞতা অত্যন্ত ইতিবাচক। তাঁর ভাষায়, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা খুব পরিশ্রমী। তাঁরা নতুন পরিবেশের সঙ্গে দ্রুততম সময়ে মানিয়ে নিতে পারেন। গবেষণার পদ্ধতি শেখার প্রতি তাঁদের আগ্রহ অনেক বেশি।

বাঁ থেকে মো. সাব্বির হোসেন খান, অধ্যাপক কুশারি, জুলিং লি ও ড. ঝাও জিং। ছবি: সংগৃহীত
বাঁ থেকে মো. সাব্বির হোসেন খান, অধ্যাপক কুশারি, জুলিং লি ও ড. ঝাও জিং। ছবি: সংগৃহীত

তাঁরা একে অপরকে দারুণভাবে সহযোগিতা করেন। তিনি আরও বলেন, বিদেশে পড়াশোনা সবার জন্যই কঠিন, তাই নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার জন্য অনেক সময়ের প্রয়োজন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব হলো শিক্ষার্থীদের সেই পরিবর্তনের সময় সহায়তা করা।

জাপানে পড়তে চাইলে কী কী

প্রস্তুতি দরকার

বাংলাদেশ থেকে যাঁরা জাপানে উচ্চশিক্ষা নিতে চান, তাঁদের জন্য অধ্যাপক কুহসারির পরামর্শ হলো, আগে থেকে কিছু জাপানি ভাষা শিখে আসা উচিত। এ ছাড়া দৈনন্দিন সংস্কৃতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম জানা, নিজের গবেষণার আগ্রহ স্পষ্ট করা, বিষয় সম্পর্কিত সাম্প্রতিক গবেষণাগুলো পড়ে নেওয়া। তাঁর মতে, এসব প্রস্তুতি যদি আপনার থাকে, তাহলে জাপানে পড়াশোনা অনেক সহজ হয়।

বাংলাদেশিদের জন্য দরজা খোলা

অধ্যাপক কুহসারি আরও বলেন, ভবিষ্যতেও তিনি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের তাঁর ল্যাবে নিতে আগ্রহী। তিনি বলেন, ‘আমি এমন শিক্ষার্থীদের চাই, যাঁরা কঠোর গবেষণার জন্য প্রস্তুত এবং দলগতভাবে কাজ করতে চায়।’ বাংলাদেশ নিয়ে তাঁর আগ্রহও কম নয়। শিক্ষার্থীদের রান্না করা খাবার খেয়ে তিনি বাংলাদেশি খাবারের স্বাদ পেয়েছেন, আর ঢাকার মতো শহরের নগর-পরিবেশ নিয়ে সরাসরি গবেষণা করার ইচ্ছাও তিনি প্রকাশ করেছেন।

সম্ভাবনার নতুন অধ্যায়

জাপানের গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা, আন্তর্জাতিক মানের তত্ত্বাবধান এবং বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি—সব মিলিয়ে তৈরি হচ্ছে নতুন একধরনের শিক্ষা-পথ। যাঁরা গবেষণাভিত্তিক উচ্চশিক্ষা নিতে চান, তাঁদের জন্য জাপান এখন শুধু একটি বিকল্প নয়, বরং শক্তিশালী গন্তব্য।

জাপানে সামগ্রিক জীবনযাত্রার পরিবেশ অত্যন্ত পরিষ্কার, নিরাপদ এবং স্বাস্থ্যকর, যা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য একটি স্বস্তিদায়ক এবং মনোযোগী পড়াশোনার পরিবেশ তৈরি করে থাকে। বিশেষ করে জাপান অ্যাডভান্সড ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (জেএআইএসটি) বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নত সুবিধাসম্পন্ন শিক্ষার্থী আবাসন (ডরমিটরি) রয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা সুশৃঙ্খল এবং আরামদায়কভাবে বসবাস করতে পারে।

এই আবাসিক ক্যাম্পাসের পরিবেশ আমাকে ব্যক্তিগতভাবে বাংলাদেশের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা মনে করিয়ে দেয়। যেখানে আমি স্নাতক পর্যায়ের পড়াশোনা ভালোভাবে সম্পন্ন করেছি। জেএআইএসটিতে একজন শিক্ষার্থীর জীবনযাত্রার ব্যয় প্রতিমাসে গড়ে ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা (বাংলাদেশি মুদ্রায়)। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট (টিএ), রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট (আরএ), ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট (এলএ) এবং ইউনিভার্সিটি অ্যাসিস্ট্যান্টের (ইউএ) মতো বিভিন্ন একাডেমিক সহায়ক কাজের সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি নোমি শহর এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে খণ্ডকালীন কাজের সুযোগও থাকে।

এসব সুযোগ থাকায় অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা তাঁদের জীবনযাত্রার ব্যয় এবং শিক্ষাসংক্রান্ত খরচের একটি বড় অংশ, কখনো কখনো সম্পূর্ণ বহনে সক্ষম। এ ছাড়া বিভিন্ন বৃত্তি এবং আর্থিক সহায়তার সুযোগ থাকায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের এখানে পড়াশোনা করা আরও সহজ ও সম্ভাবনাময় হয়ে ওঠে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

যুক্তরাষ্ট্রে ‘ভয়ংকর অপরাধে’ গ্রেপ্তার ১০ বাংলাদেশির ছবিসহ পরিচয় প্রকাশ

জোড়া লাল কার্ডের ম্যাচে ভারতকে রুখে দিল বাংলাদেশ

বেরোবিতে ছাত্রীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ অবস্থায় ঢাবি ছাত্র, থানায় নিয়ে মুচলেকা

বগুড়ায় বাজার সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীকে তুলে নিয়ে হাত-পা ভেঙে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা

প্রেম, বিয়ে ও একই সঙ্গে বিজেএস জয়

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত