
শ্রাবণ মানেই মেঘের সঙ্গে আলাপ, বৃষ্টির সঙ্গে বন্ধুত্ব। আকাশজুড়ে ধূসর মেঘ, হঠাৎ নেমে আসা বৃষ্টি আর ভেজা বাতাসে প্রকৃতি যেন নিজেই উৎসবের আয়োজনে মেতে ওঠে। ঠিক এমনই এক শ্রাবণের সকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের (আইইআর) শিক্ষার্থীরা বর্ষা ঘিরে আয়োজন করেন ব্যতিক্রমী এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান—‘মেঘবন্দনা’।
বাইরে টুপটাপ বৃষ্টি, ভেতরে রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলগীতি, আবৃত্তি আর তারুণ্যের উচ্ছ্বাস। মনে হচ্ছিল, বইয়ের পাতা ছেড়ে বর্ষার কবিতা যেন নেমে এসেছে ক্যাম্পাসে।
৮ শ্রাবণ, ১৪৩৩, আইইআরের ৯ম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় এই উৎসব। বাঙালির ঋতুচেতনা ও সংস্কৃতি ঘিরেই সাজানো হয়েছিল পুরো আয়োজন। সকাল থেকে নীল, সাদা, আকাশি আর সবুজ রঙের শাড়ি-পাঞ্জাবিতে সেজে ওঠেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। কারও পোশাকে মেঘের ছোঁয়া, কারও সাজে বৃষ্টির আবেশ, আবার কারও হাসিতে ধরা দেয় শ্রাবণের নির্মল সৌন্দর্য।
শিক্ষকদের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হয় অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা। প্রথমে ইনস্টিটিউটের আন্তফুটবল টুর্নামেন্টের বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। পরে বর্ষাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত আলোকচিত্র প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের সম্মাননা জানানো হয়। প্রকৃতির রূপকে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিতে তুলে ধরা ছবিগুলো দর্শকদেরও মুগ্ধ করে।
এরপর শুরু হয় সাংস্কৃতিক পর্ব। রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলগীতি, আধুনিক বাংলা গান, নৃত্য ও আবৃত্তিতে একের পর এক মঞ্চে ওঠেন বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। প্রতিটি পরিবেশনায় ছিল বর্ষার অনুভব, বাংলার আবেগ আর তারুণ্যের প্রাণচাঞ্চল্য। সুর, কবিতা আর বৃষ্টির আবহ মিলেমিশে তৈরি করে এক অনন্য পরিবেশ।
উৎসবের বিশেষ আকর্ষণ ছিল শিক্ষকদের অংশগ্রহণ। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাঁরাও গান পরিবেশন করেন। ফলে অনুষ্ঠানটি শুধু সাংস্কৃতিক আয়োজনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; রূপ নিয়েছিল এক আন্তরিক পারিবারিক মিলনমেলায়।
আইইআরের শিক্ষার্থী পুষ্পিতা লোধ বলেন, ‘প্রতিবছর আমাদের ইনস্টিটিউটে কোনো না কোনো ব্যাচ বাঙালিয়ানাকে সামনে রেখে সাংস্কৃতিক আয়োজন করে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার আমরা ‘মেঘবন্দনা’ আয়োজন করেছি। সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আমাদের পরিশ্রমকে সার্থক করেছে।’
আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘প্রস্তুতির জন্য সময় ছিল খুবই কম। কিন্তু সবাই একসঙ্গে কাজ করেছি বলেই এত সুন্দর আয়োজন সম্ভব হয়েছে। দিনশেষে সবার আনন্দই আমাদের বড় প্রাপ্তি।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষকেরা বলেন, সংস্কৃতিচর্চা একজন শিক্ষার্থীর মনন, সৃজনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এমন আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সহযোগিতা, নেতৃত্ব এবং সাংস্কৃতিক চেতনা বিকাশেও সহায়ক।
সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পাশাপাশি ছিল অতিথি আপ্যায়ন, স্মৃতি ধরে রাখার আলোকচিত্র আর বন্ধুদের প্রাণখোলা আড্ডা। বিকেলের দিকে তুমুল বৃষ্টি নামলেও উৎসবের আনন্দে তার কোনো ভাটা পড়েনি; বরং বৃষ্টির শব্দই যেন হয়ে উঠেছিল অনুষ্ঠানের আরেকটি সুর।
শেষ বিকেলে সব ব্যাচের শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে কণ্ঠ মেলান সমবেত গানে। সেই সম্মিলিত সুর যেন মনে করিয়ে দেয়—প্রকৃতি, সংস্কৃতি আর মানুষ যখন একসূত্রে বাঁধা পড়ে, তখন একটি সাধারণ আয়োজনও হয়ে ওঠে অসাধারণ।

আজ ২৬ জুলাই, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার এক দশক পূর্ণ করল। দীর্ঘ এই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থায়ী ক্যাম্পাস, একাডেমিক সম্প্রসারণ ও গবেষণার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে। এই অবস্থায় ৮ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্যের দায়িত্ব পেয়েছেন অধ্যাপক তাহমিনা আখতার।
১ ঘণ্টা আগে
বিশ্বের সবচেয়ে ধনী মানুষেরা শুধু অর্থের জোরেই শীর্ষে ওঠেননি, তাঁদের সাফল্যের পেছনে আছে কৌতূহল, কঠোর পরিশ্রম আর শেখার অদম্য ইচ্ছা। কেউ বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন, কেউ আবার মাঝপথেই ছেড়ে দিয়েছেন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা। তবু থেমে থাকেননি।
১ ঘণ্টা আগে
আমি বেইজিংয়ে থাকি। আমার দুই মেয়ে। বড়টি দ্বিতীয় শ্রেণিতে, ছোটটি প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। প্রতিদিন সকালে তাদের স্কুলে পৌঁছে দিই। প্রায়ই ভাবি, আজকের এই শিক্ষা তাদের ভবিষ্যতের জন্য কী নিয়ে আসতে পারে? এই দেশের জন্যই-বা কী দিতে পারে?
২ ঘণ্টা আগে
কবিতা শুধু শব্দের শিল্প নয়, মানুষের অনুভবেরও ভাষা। সেই ভাষার বৈশ্বিক উদ্যাপনে সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হলো বর্ণাঢ্য ‘ওয়ার্ল্ড পোয়েট্রি ডে ২০২৬’। ২৩ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের মাল্টিপারপাস হলে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সাউথইস্ট...
৩ ঘণ্টা আগে