Ajker Patrika

সিএসই না পড়েও তৈরি করুন নিজের অ্যাপ

সাব্বির হোসেন
সিএসই না পড়েও তৈরি করুন নিজের অ্যাপ

মাথায় দারুণ একটি অ্যাপের ধারণা ঘুরপাক খাচ্ছে। কিন্তু প্রোগ্রামিং জানেন না? ডেভেলপার নিয়োগের বাজেটও নেই। হতাশ হওয়ার কিছু নেই। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং আধুনিক টুলের সাহায্যে নিজের কম্পিউটারেই শুরু করে দিতে পারেন অ্যাপ তৈরির কাজ। শুরুতে কোড লেখার তাড়া নেই, জটিল সফটওয়্যারও লাগবে না। আগে জানতে হবে প্রোগ্রামিংয়ের প্রাথমিক ধারণা। এরপর ধাপে ধাপে তৈরি করা যাবে অ্যাপ।

প্রথম ধাপ: প্রাথমিক ধারণা

বিনা মূল্যে শেখার ভালো জায়গা ডব্লিউথ্রি স্কুলস। সেখানে এইচটিএমএল, সিএসএস ও জাভাস্ক্রিপ্টের সহজ পাঠ আছে। এইচটিএমএল দিয়ে ওয়েবপেজের কাঠামো, সিএসএস দিয়ে নকশা আর জাভাস্ক্রিপ্ট দিয়ে ইন্টারঅ্যাকটিভ ফিচার তৈরি হয়। রিঅ্যাক্ট নেটিভ ও এক্সপো দিয়ে অ্যাপ বানাতে চাইলে জাভাস্ক্রিপ্ট কাজে লাগবে।

একসঙ্গে সব শেখার দরকার নেই। ভেরিয়েবল, ডেটার ধরন, ইফ/এলস, লুপ, ফাংশন ও অ্যারে দিয়ে শুরু করুন। ছোট উদাহরণগুলো নিজে চালিয়ে দেখুন। প্রতিদিন একটু সময় দিলেই কোডের কাজ বোঝা সহজ হবে। কঠিন কিছু আটকালে এআইকে সহজ বাংলায় বোঝাতে বলুন।

দ্বিতীয় ধাপ: এআই আপনার কোডিং সহকারী

চ্যাটজিপিটি, জেমিনি, ক্লড বা ডিপসিক দিয়ে অ্যাপের কোড বানানো যায়। আগে নিজের পরিকল্পনা স্পষ্ট করে লিখুন। ধরুন, শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপ অ্যাপ বানাতে চান। সেখানে থাকবে দেশভিত্তিক বৃত্তি, যোগ্যতা, আবেদনের শেষ তারিখ, সার্চ অপশন এবং আবেদনের অফিশিয়াল লিংক।

এআইকে বলুন আগে নকশা ও ফিচারের তালিকা দিতে। তারপর একটি একটি করে ফিচারের কোড লিখতে এবং কোড কোথায় বসবে তা বুঝিয়ে দিতে। সমস্যা হলে ত্রুটির বার্তা আর সংশ্লিষ্ট কোড দিয়ে সমাধান চান। তবে কোড অন্ধভাবে ব্যবহার করবেন না। কীভাবে কাজ করছে, বোঝার চেষ্টা করুন। পরে অ্যাপ বদলানো সহজ হবে।

তৃতীয় ধাপ: ভিএস কোড

ভিজুয়াল স্টুডিও কোড একটি বিনা মূল্যের কোড এডিটর। এখানে ফাইল বানানো, কোড সম্পাদনা ও ভুল ধরা যায়। ভিএস কোড ইনস্টল করে একটি প্রজেক্টের ফোল্ডার তৈরি করুন। এআইয়ের নির্দেশ মেনে ফাইল ও কোড সাজান।

চতুর্থ ধাপ: নোড জেএস

নোড জেএস হলো জাভাস্ক্রিপ্ট চালানোর পরিবেশ। এর সঙ্গের এনপিএম দিয়ে প্রয়োজনীয় প্যাকেজ ইনস্টল হয়। ইনস্টলের পর ভিএস কোডের টার্মিনালে প্রকল্প তৈরির কমান্ড চালানো যায়। কোন কমান্ড লাগবে, তা নির্ভর করে প্রকল্প ও এক্সপোর নির্দেশনার ওপর। প্রতিটি কমান্ডের কাজ এআইয়ের কাছ থেকে জেনে নিন।

পঞ্চম ধাপ: এক্সপো দিয়ে টেস্ট

এক্সপো রিঅ্যাক্ট নেটিভ অ্যাপ বানানো ও টেস্ট সহজ করে। এতে অ্যাপ চালানো, আসল ফোনে টেস্ট এবং পরে ইনস্টলযোগ্য ফাইল তৈরি করা যায়। শুরুতে সফটওয়্যার ইনস্টল করতে না চাইলে এক্সপো স্ন্যাক ব্যবহার করুন। সেখানে কোড লিখে বা এআইয়ের কোড বসিয়ে প্রিভিউতে অ্যাপের চেহারা দেখা যায়। নতুনদের জন্য এটি সহজ উপায়। বড় প্রজেক্টে ভিএস কোড, নোড জেএস ও পূর্ণাঙ্গ এক্সপো প্রজেক্ট বেশি সুবিধাজনক।

ষষ্ঠ ধাপ: এপিকে বা এএবি ফাইল

টেস্ট শেষ হলে অ্যাপকে অ্যান্ড্রয়েডের উপযোগী ফাইলে রূপ দিতে হবে। এর জন্য আছে এক্সপোর ক্লাউড বিল্ড সেবা ইএএস বিল্ড। এতে কম্পিউটারের ওপর চাপ কম পড়ে। তবে প্রজেক্টের ফাইল, কনফিগারেশন ও বিল্ড সেটিংস ঠিক থাকতে হবে। বিনা মূল্যের ব্যবহারে সীমা থাকতে পারে। নিজের ফোনে ইনস্টল ও টেস্টের জন্য লাগে এপিকে। গুগল প্লে স্টোরে প্রকাশের জন্য সাধারণত লাগে এএবি।

সপ্তম ধাপ: প্লে স্টোরে প্রকাশ

অ্যাপ তৈরি হলেই সরাসরি প্রকাশ করা যায় না। গুগল প্লে কনসোলে ডেভেলপার অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। লাগবে পরিচয় যাচাই, অ্যাপের বিবরণ, আইকন, স্ক্রিনশট ও প্রাইভেসি পলিসি। প্রযোজ্য টেস্ট ও নীতিমালাও মানতে হবে। প্রকাশের আগে সব ফিচার যাচাই করুন। ব্যবহারকারীর তথ্য নিলে কী নিচ্ছেন এবং কীভাবে রাখছেন, তা স্পষ্ট জানান। রেজিস্ট্রেশন ফি ও শর্ত আগেই দেখে নিন।

খরচ কত

ডব্লিউথ্রি স্কুলস, ভিএস কোড ও নোড জেএস বিনা মূল্যে ব্যবহার করা যায়। এক্সপো স্ন্যাক, এক্সপো ও এআই টুলেও বিনা মূল্যে শুরু করা সম্ভব, যদিও কিছু সেবায় ব্যবহারসীমা বা পেইড সুবিধা থাকতে পারে। শুধু প্লে স্টোরে প্রকাশে ডেভেলপার রেজিস্ট্রেশন ফি লাগে। তাই শেখা, কোড লেখা ও প্রাথমিক ভার্সন বানানো খুব কম খরচে সম্ভব। শুরুতে পেইড কোর্সে টাকা ঢালার দরকার নেই।

অ্যাপ তৈরির আগে ধারণা নিন, লক্ষ্য ঠিক করুন, সঠিক টুল বেছে নিন। ছোট প্রকল্প দিয়ে শুরু করুন, ভুল থেকে শিখুন, দক্ষতা বাড়ান। ধারাবাহিক চেষ্টায় আপনার কম্পিউটারই হয়ে উঠতে পারে প্রথম অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপের কর্মশালা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত