গাজী ইশমাম হাসানের জন্ম রাজধানীর ঢাকায়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। শিক্ষকতা পেশায় এসে স্বপ্ন দেখেন উচ্চশিক্ষার। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রস্তুতি নেন। শেষমেশ মেক্সট বৃত্তির অফার লেটার পান। এটি জাপান সরকার প্রদত্ত ফুল ফান্ডেড প্রোগ্রাম। সাইতামা বিশ্ববিদ্যালয় পড়বেন পিএইচডি প্রোগ্রাম ইন এনার্জি সিস্টেমসে। লিখেছেন মবিনুল ইসলাম রাশা।

বাবার চাকরির সুবাদে শৈশব কেটেছে ঢাকার রেলওয়ে অফিসার্স কোয়ার্টারে। কংক্রিটে মোড়া ব্যস্ত এই নগরীতে সবুজে ঘেরা আবাসিক পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন তিনি। শিক্ষাজীবনের শুরু ঢাকার আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে। সেখান থেকে এসএসসিতে অর্জন করেন জিপিএ-৫। এরপর ভর্তি হন ঢাকা কলেজে। এইচএসসিতেও ধরে রাখেন সেই ধারাবাহিকতা।
ছোটবেলা থেকে বিজ্ঞানের প্রতি গভীর আগ্রহ তাঁর। স্কুলজীবনে যুক্ত হন বিজ্ঞান ক্লাবে। ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় ক্লাবের আয়োজনে টেলিস্কোপের মাধ্যমে সূর্যগ্রহণ দেখার এক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সুযোগ হয়। আর সেখান থেকে কিশোর মনে জন্ম নেয় মহাকাশ, সূর্য ও তার চারপাশে ঘুরে চলা গ্রহ-নক্ষত্র সম্পর্কে জানার এক অদম্য কৌতূহল। সেটিই ধীরে ধীরে পদার্থবিজ্ঞানের প্রতি ঝোঁক সৃষ্টি করে। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পেলেও বেছে নেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ।
পড়াশোনা, গবেষণা ও প্রস্তুতির পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রম যুক্ত ছিলেন। এখান থেকে তিনি পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার দীক্ষা পান। কলেজজীবন থেকে আগ্রহী ছিল ফটোগ্রাফির প্রতি। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে যুক্ত হন জাবির ফটোগ্রাফিক সোসাইটিতে। যেখানে শেখেন ফটোগ্রাফির কারিগরি দিক। পাশাপাশি কাজ করার সুযোগ পান জাতীয়-আন্তর্জাতিক ফটো এক্সিবিশন আয়োজনে। এসব অভিজ্ঞতা গড়ে তোলে দলগত কাজ, নেতৃত্ব ও যোগাযোগ দক্ষতা। তিনি ফটোগ্রাফিক সোসাইটিতে সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। আন্তর্জাতিক ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতা ‘৩৫ অ্যাওয়ার্ডস ২০২১’-এ দ্বিতীয় ধাপ উত্তীর্ণ হয়ে দেশের সেরা ১৫০ ফটোগ্রাফারের একজন হিসেবেও নির্বাচিত হন। তাঁর বিশ্বাস, সহশিক্ষা কার্যক্রম পড়াশোনার প্রতিবন্ধক নয়। বরং সঠিক ভারসাম্যে এটি একজন শিক্ষার্থীকে আরও পরিপূর্ণ করে তোলে। আর বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও শুধু ফলাফল নয়, নেতৃত্ব ও দলগত কাজের অভিজ্ঞতাকেও গুরুত্ব দেয়।
জাবি থেকে স্নাতক শেষ করে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর করেন। এরপর সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। শিক্ষকতায় এসে উপলব্ধি করেন, শুধু শ্রেণিকক্ষে পাঠদানই যথেষ্ট নয়, আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা ও নিজেকে প্রতিনিয়ত দক্ষ করে তোলাও সমান জরুরি। এই উপলব্ধিই বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্নকে আরও দৃঢ় করে তোলে। ক্লাস, পরীক্ষা, খাতা মূল্যায়নের ফাঁকেই চলতে থাকে প্রস্তুতি। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে পরিকল্পিতভাবে শুরু হয় আইইএলটিএসের প্রস্তুতি। একই বছরে
পরীক্ষায় বসে অর্জন করেন ব্যান্ড স্কোর ৭। পাশাপাশি ধাপে ধাপে প্রস্তুত করেন একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, সনদের সত্যায়িত কপি, গবেষণাকেন্দ্রিক সিভি এবং সম্ভাব্য বিশ্ববিদ্যালয়-অধ্যাপকদের তালিকা।
মেক্সট বৃত্তিতে আবেদনের দুটি পথ এম্বাসি রেকমেন্ডেশন ও বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রফেসর রেকমেন্ডেশন। তিনি নির্বাচিত হন দ্বিতীয় পথে। প্রথমে গবেষণার আগ্রহের সঙ্গে মিল রেখে তৈরি করেন জাপানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের একটি তালিকা। এরপর সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু করেন ই-মেইল পাঠানো, সব মিলিয়ে ২৭ জন অধ্যাপককে। অক্টোবরের দিকে সাইতামা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপকের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয়। প্রথমে প্রায় ২০ মিনিটের অনলাইন সাক্ষাৎকারে আলোচনা হয় গবেষণার ধারণা, অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে জুমে হয় একটি অনলাইন পরীক্ষা, তাতেও সফল হন তিনি। সবশেষে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রায় ৪০ মিনিটের আরেকটি সাক্ষাৎকারের পর সুপারভাইজার তাঁকে চূড়ান্তভাবে মনোনীত করেন নিজের গবেষণাগারে কাজের জন্য। এরপর সুপারিশ যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট সিলেকশন কমিটির কাছে। যাচাই-বাছাই শেষে কাগজপত্র পাঠানো হয় জাপানের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে (মেক্সট)। ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়টা ছিল সবচেয়ে কঠিন। সেই সময় দীর্ঘ অনিশ্চয়তা, দুশ্চিন্তায় নির্ঘুম রাত। অবশেষে ২ জুলাই যখন ফল প্রকাশ পায়, জানতে পারেন মেক্সট স্কলারশিপের জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর ভাষায়, জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে আছে দিনটি।
তিনি আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রস্তাব পেয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত জাপানের মেক্সট স্কলারশিপ বেছে নেন। কারণ, মেক্সট স্কলারশিপ বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ও পূর্ণ অর্থায়নভিত্তিক স্কলারশিপ। এটি গবেষণায় সম্পূর্ণ মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ করে দেয়।
এ ছাড়া সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তির মাধ্যমে সোলার সেল উন্নয়ন নিয়ে তাঁর গবেষণার আগ্রহের সঙ্গে দারুণভাবে মিলে যায় জাপানের শক্তিশালী গবেষণা অবকাঠামো ও শিল্প-একাডেমিয়ার সমন্বয়।
স্কলারশিপ অর্জনে একাডেমিক ফল ও গবেষণা দুটিই গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন তিনি। তবে গবেষণাভিত্তিক উচ্চশিক্ষায় গবেষণার অভিজ্ঞতা ও সম্ভাবনাই তুলনামূলক বেশি গুরুত্ব পায়। ভালো ফল প্রমাণ করে মৌলিক দক্ষতা আর অধ্যবসায়। আর গবেষণার অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে নতুন জ্ঞান সৃষ্টির সক্ষমতা। নিজের ক্ষেত্রে একাডেমিক ফল ভালো থাকলেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন গবেষণার অভিজ্ঞতা অর্জন, গবেষণাপত্র প্রকাশ এবং সুস্পষ্ট গবেষণা-পরিকল্পনা তৈরিতে। তাঁর মতে, শুধু ভালো ফল বা গবেষণা-অভিজ্ঞতা নয়, এই দুইয়ের সমন্বয়ই একজন আবেদনকারীকে এগিয়ে রাখে।
নতুনদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে আগে নিজেকে প্রস্তুত করুন, তারপর আবেদন করুন। শুধু ভালো ফল যথেষ্ট নয়; নিজের গবেষণার আগ্রহ, দক্ষতা ও দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য সম্পর্কে থাকতে হবে স্পষ্ট ধারণা। ধৈর্য ও ধারাবাহিকতাকেও মনে করেন সমান জরুরি। অনেক অধ্যাপক বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উত্তর না এলেও হতাশ না হয়ে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

‘চীন-বাংলাদেশ ভোকেশনাল এডুকেশন, ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার’ প্রতিষ্ঠার জন্য একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষে কারিগরি ও মাদ্রাসাশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া এবং চীনের পক্ষে জিয়াংসি সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি নরমাল ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ঝেং পেংউ সমঝোতা স্মারকে স্বা
১৫ ঘণ্টা আগে
চলতি বছরের (২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ) সাত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি), খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি) ও মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড
১৫ ঘণ্টা আগে
এবারও ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করবে নটর ডেম কলেজ। মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ১০ সেপ্টেম্বর। আর বিজ্ঞান বিভাগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ১১ সেপ্টেম্বর।
১৬ ঘণ্টা আগে
একজন শিক্ষার্থীর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়জীবন একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন অধ্যায়ের শুরু। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে পা রাখার আগেই কিছু বিষয় ভেবে নেওয়া জরুরি। কোন বিষয়ে পড়বেন, কোথায় পড়বেন, কত খরচ হবে এবং ভবিষ্যতে কী করতে চান—এসব প্রশ্নের উত্তর আগে থেকে খুঁজে নিতে হবে।
৩ দিন আগে