Ajker Patrika

যুক্তরাষ্ট্রের জব্দ করা রুশ জাহাজে আছেন ৩ ভারতীয়

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
এমনকি নজরদারি এড়াতে ‘বেলা-১’ নামের জাহাজটির নাম পরিবর্তন করে ‘মেরিনেরা’ রাখা হয়েছিল। ছবি: রয়টার্সের সৌজন্যে
এমনকি নজরদারি এড়াতে ‘বেলা-১’ নামের জাহাজটির নাম পরিবর্তন করে ‘মেরিনেরা’ রাখা হয়েছিল। ছবি: রয়টার্সের সৌজন্যে

ভেনেজুয়েলার ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার অভিযোগে উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে রুশ পতাকাবাহী তেলের ট্যাংকার জব্দ করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। গতকাল বুধবার (৭ জানুয়ারি) সংঘটিত এই অভিযানে জাহাজটির ২৮ জন ক্রু সদস্যকে আটক করা হয়। রাশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই ক্রুদের মধ্যে তিনজন ভারতীয়, ১৭ জন ইউক্রেনীয়, ছয়জন জর্জিয়ান এবং দুজন রুশ নাগরিক রয়েছেন।

মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েম জানিয়েছেন, জাহাজটি আগে ‘বেলা-১’ নামে পরিচিত ছিল এবং গায়ানার পতাকাবাহী হিসেবে চলাচল করত। মার্কিন কোস্ট গার্ডের নজরদারি এড়াতে কয়েক সপ্তাহ ধরে জাহাজটি সাগরে লুকোচুরি খেলছিল। এমনকি নজরদারি এড়াতে জাহাজটির গায়ে নতুন রং মাখিয়ে ‘মেরিনেরা’ নাম দেওয়া হয় এবং রাশিয়ার পতাকা ব্যবহার শুরু করা হয়।

মার্কিন সাউদার্ন কমান্ডের দাবি, জাহাজটি ভেনেজুয়েলার তেলের অবৈধ কারবারে লিপ্ত ছিল এবং এটি একটি তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়া বহরের অংশ।

তবে জাহাজ জব্দের এ ঘটনাকে সরাসরি ‘জলদস্যুতা’ হিসেবে অভিহিত করেছে মস্কো। রাশিয়ার প্রভাবশালী আইনপ্রণেতা আন্দ্রেই ক্লিশাস বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্র এই জঘন্য কাজ করেছে।’ রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবিলম্বে ক্রুদের মুক্তি দাবি করেছে এবং ওয়াশিংটনকে তাঁদের সঙ্গে মানবিক আচরণের আহ্বান জানিয়েছে।

রাশিয়া আরও দাবি করেছে, আটলান্টিকের ওই এলাকায় একটি রুশ সাবমেরিন থাকা সত্ত্বেও মার্কিন কোস্ট গার্ডের জাহাজ ‘ইউএসসিজিসি মুনরো’ বলপূর্বক জাহাজটিতে ওঠে।

আটক হওয়া তিনজন ভারতীয় নাগরিক বর্তমানে মার্কিন হেফাজতে রয়েছেন। জাহাজে করে ভেনেজুয়েলার তেল পরিবহনের দায়ে তাঁদের বিচারের মুখোমুখি হতে হবে কি না, তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি সহায়তা করেছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, উত্তর আটলান্টিকের ‘ইউকে-আইসল্যান্ড-গ্রিনল্যান্ড’ এলাকায় জাহাজটি আটকাতে তারা মার্কিন বাহিনীকে গোয়েন্দা তথ্য ও কৌশলগত সহায়তা প্রদান করেছে।

উল্লেখ্য, গত শনিবার কারাকাসে নাটকীয় অভিযানের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের পর এটিই মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে ভেনেজুয়েলা সংশ্লিষ্ট সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ। বর্তমানে জাহাজটি মার্কিন উপকূলের দিকে নিয়ে আসা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: দ্য হিন্দু ও রয়টার্স

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত