Ajker Patrika

শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে জালিয়াতির ‘পরিকল্পনা’, ডিভাইসহ আটক ২

রংপুর প্রতিনিধি
আটক দুইজন। ছবি: সংগৃহীত
আটক দুইজন। ছবি: সংগৃহীত

প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে রংপুরে জালিয়াতির পরিকল্পনায় থাকা দুজনকে আটক করা হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নগরীর পুলিশ লাইনসসংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আজ বৃহস্পতিবার তাঁদের আটক করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চক্রটি আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে পরীক্ষার্থীদের অসদুপায় অবলম্বনে সহায়তা করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তারা বিশেষ ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে বাইরে থেকে পরীক্ষার উত্তরপত্র সরবরাহ করার পরিকল্পনা করেছিল। আটক ব্যক্তিদের তল্লাশি করে বেশ কিছু জালিয়াতির ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে।

আজ দুপুরে রংপুর নগরীর পুলিশ লাইনসসংলগ্ন ক্যাপ্টেন ব্যাকোলজি মোড় এলাকা থেকে তাঁদের আটক করা হয়। পরে বেলা ৩টার দিকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী তাঁর কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিষয়টি জানান।

আটক ব্যক্তিরা হলেন মিঠাপুকুর উপজেলার কাফ্রিখাল এলাকার শরিফুল ইসলামের ছেলে গোলাম কিবরিয়া এবং গোপাল চন্দ্রের ছেলে সুমন চন্দ্র।

উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘আগামীকাল (শুক্রবার) দেশব্যাপী প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আমরা তৎপর ছিলাম। কারণ, একটি গ্রুপ আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে জালিয়াতির চেষ্টা করছিল। তারা মূলত বিশেষ ডিভাইসের মাধ্যমে বাইরে থেকে উত্তরপত্র সাপ্লাই করে এবং এভাবে অসদুপায় অবলম্বন করে পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট ও চাকরিতে নিয়োগ পাওয়ার ব্যবস্থা করে।’

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘আমরা এই চক্রকে আইডেন্টিফাই করি। আজ পুলিশ লাইনসসংলগ্ন ক্যাপ্টেন ব্যাকোলজি এলাকায় তারা তাদের শিকার ধরার জন্য অবস্থান করছিল। খবর পেয়ে আমরা বিষয়টি ভেরিফাই করি এবং সেখানে তাদের চ্যালেঞ্জ ও জিজ্ঞাসাবাদ করি। তল্লাশি চালিয়ে তাদের কাছে জালিয়াতির ডিভাইসগুলো পাওয়া যায়। তারা অকপটে স্বীকার করেছে যে, আগামীকালকের পরীক্ষাকে কেন্দ্র করেই তারা আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে এই ডিভাইসগুলো সরবরাহ করতে সেখানে সমবেত হয়েছিল।’

সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘আটক দুজনের সঙ্গে প্রশ্নপত্র ফাঁসকারী একটি বড় সিন্ডিকেটের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। তারা মূলত এই শহর বা জেলার বাইরের এবং পরীক্ষাটি ম্যানিপুলেট করার উদ্দেশ্যেই এখানে এসেছিল। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়া যাচ্ছে। আমরা নিশ্চিত যে, এই চক্রে আরও অনেকে জড়িত এবং পুরো চক্রটিকে শনাক্ত করতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত