Ajker Patrika

ভৈরব নদে পাওয়া লাশটি ‘ঘাউড়া রাজীবের’

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা 
আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ২০: ১৫
রাজীব হোসেন ওরফে ঘাউরা রাজিব। ছবি: সংগৃহীত
রাজীব হোসেন ওরফে ঘাউরা রাজিব। ছবি: সংগৃহীত

খুলনার ভৈরব নদ থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতনামা যুবকের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁর নাম রাজীব হোসেন ওরফে ঘাউড়া রাজীব। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতিসহ ১৪টি মামলা ছিল বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল) সক্রিয় ক্যাডার ছিলেন। তিন মাস আগে গোপালগঞ্জ থেকে তিনি খুলনায় আসেন।

আজ শনিবার দুপুরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে রাজীবের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। এর আগে গতকাল শুক্রবার খুলনার ৬ নম্বর ঘাট এলাকার ভৈরব নদে দুটি লাইটার ভেসেলের মাঝখান থেকে রাজীবের ভাসমান লাশ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।

খুলনা নৌ পুলিশ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবুল আক্তার জানান, দুপুরের পর লাশ নিহত রাজীবের দুই স্ত্রীর কাছে দেওয়া হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পরিবারকে বলা হয়েছে। তাঁর মাথার পেছনে গভীর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ওই আঘাতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, রাজীবের বিরুদ্ধে খুলনার বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। অপরাধ করে সে তাঁর মামা বাড়ি গোপালগঞ্জের মোকছেদপুরে আশ্রয় নিত। নিহত রাজীব চরমপন্থী দলের সদস্য ছিলেন বলে বিভিন্ন সোর্সের মাধ্যমে জানা গেছে। পরিবার আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করলে তদন্তে সবকিছু বের হয়ে আসবে।

বাবুল আক্তার আরও বলেন, ৩ জানুয়ারি থেকে রাজীব নিখোঁজ ছিলেন। এক সপ্তাহ পর তাঁর ফুলেফেঁপে ওঠা লাশ উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, নিখোঁজ হওয়ার দিনই তাঁকে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

আজ দুপুরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে রাজীবের দ্বিতীয় স্ত্রী ফারহানা ইয়াসমিনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘এক বছর আগে আমাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পরপরই খুলনা থেকে গোপালগঞ্জের মোকছেদপুর রাজীবের মামা বাড়িতে অবস্থান করি। ডিসেম্বর মাসে খুলনার দিঘলিয়ার একটি বাড়িতে ভাড়াটে হিসেবে বসবাস করি। তাঁর সম্পর্কে আগে কিছু না জেনেই তাঁদের বিয়ে হয়।’

ঘটনার বিবরণ জানিয়ে ইয়াসমিন বলেন, ‘শনিবার রাতে মোবাইলে একটি ফোন আসে। বিকাশ থেকে টাকা তোলার কথা বলে সে বের হয়। এর পর থেকে তার আর কোনো সন্ধান পাইনি।’

ফারহানা আরও বলেন, ‘রাজীব পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির সক্রিয় ক্যাডার ছিল। তার বিরুদ্ধে ১৪টি মামলা রয়েছে বলে জানতে পারি। এর মধ্যে ৭টি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। ৭টি মামলা চলমান রয়েছে।’

রাজীবের প্রথম স্ত্রী লিয়া খাতুন বলেন, ‘২০১৬ সালে আমাদের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। ওই সময় তার ডান হাতের রগ কেটে দিয়েছিল সন্ত্রাসীরা। চার বছর আগে আমাদের সম্পর্কের বিচ্ছেদ হয়। শনিবার সকালে তার মৃত্যুর সংবাদ শুনে খুলনায় আসি।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত