
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা এক সাক্ষাৎকারে বলছেন, তিনি সব সময় ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেন, যাতে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে উন্নতি না হয়। তাঁর ভাষায়, ‘আমি তো সকালে সব সময়ে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি, যে পরিস্থিতি (ড.) ইউনূসের সময়ে ছিল, সেটাই যেন থাকে, সম্পর্কের উন্নতি যেন না হয়।’
ভারতীয় গণমাধ্যম এবিপিকে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তিনি ভারত থেকে কীভাবে ‘রাতের অন্ধকারে’ বাংলাদেশে তথাকথিত ‘পুশ ব্যাক’ করা হয়, তারও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি। হিমন্ত বিশ্বশর্মার কথায়, ‘বিএসএফ কখনো ২০-৩০ বা ৪০ দিন, কখনো ১০ দিন মতো নিজেদের কাছে রেখে দেয় (যাদের পুশ ব্যাক করা হবে, তাদের)। যখন টহলে বিডিআর থাকে না, সেখান দিয়ে ধাক্কা মেরে পাঠিয়ে দেয়।’
বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নাম এখন বিজিবি হলেও পূর্বের নাম ‘বিডিআর’ বলেই উল্লেখ করেছেন তিনি। রাতের অন্ধকারের সুযোগেই যে এভাবে বাংলাদেশে লোকদের পাঠানো হয় সেটাও জানিয়েছেন তিনি।
আসামের মুখ্যমন্ত্রীর ওই সাক্ষাৎকার ১৫ এপ্রিল সম্প্রচারিত হয়, তবে তার কিছু অংশ সোমবার থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক বিশ্লেষকেরা বলছেন, আসামের মুখ্যমন্ত্রী এমন একটা সময়ে এসব বললেন, যখন বিজেপি নেতা ও সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দীনেশ ত্রিবেদীকে রাষ্ট্রদূত করে ঢাকায় পাঠানোর ঘোষণা করেছে ভারত। এই প্রথমবার ঢাকায় কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে রাষ্ট্রদূত করে পাঠিয়ে দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতির বার্তা দিতে চাইছে দিল্লি।
এবিপি নিউজের হিন্দি চ্যানেলের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে হিমন্ত বিশ্বশর্মাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল বাংলাদেশ থেকে তথাকথিত অনুপ্রবেশ ও সেই অনুপ্রবেশকারীদের ‘পুশ ব্যাক’ করার বিষয়ে। জবাবে হিমন্ত বলেন, ‘আমাদের ভালো লাগে যখন ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক ভালো থাকে না। কারণ, যখন সম্পর্ক ভালো হয়ে যায়, তখন ভারত সরকারও চায় না পুশ ব্যাক করতে। তাই আসামের মানুষের ভালো লাগে, যখন ভারত আর বাংলাদেশের মধ্যে একটা বৈরী সম্পর্ক থাকে। ভারত আর বাংলাদেশের যখন মৈত্রী হয়ে যায়, বিএসএফ আর বিডিআর (বিজিবি) যখন করমর্দন করতে শুরু করে, তখন তা আসামের জন্য বিপজ্জনক হয়ে যায়।’
তাঁর কথায়, ‘যখন সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ হয়ে যায়, তখন সবকিছুই ঢিলেঢালা হয়ে যায়। তাই আমরা তো সব সময়ে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি যাতে ভারত আর বাংলাদেশের সম্পর্ক না শোধরায়। তখন বিএসএফের কড়া প্রহরা থাকে, বন্দুক উঁচিয়ে থাকে, সেনাও চলে আসে, কেউ আসতে পারে না (কাঁটাতার পেরিয়ে)।’
এবিপির সাংবাদিক মেঘা প্রসাদ মন্তব্য করেন, ‘এটা তো ভারতবিরোধী কথা হয়ে যাচ্ছে।’ জবাবে আসামের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আপনি প্রশ্ন করেছেন, আমি বলেছি, আমার মনের কথা। আমি তো সকালে সব সময়ে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি যে পরিস্থিতি ইউনূসের সময়ে যেমন ছিল, সেটাই যেন থাকে, সম্পর্কের উন্নতি যেন না হয়।’
সাক্ষাৎকারের একপর্যায়ে হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেন, ‘একজনও “বাংলাদেশিকে” পুশ ব্যাক করা সহজ নয়। সীমান্তে বাংলাদেশের বাহিনী থাকে। তারা গ্রহণ করে না। ভারত আর বাংলাদেশের মধ্যে কোনো বন্দিবিনিময় চুক্তিও নেই।’ অবশ্য ভারতের দিক থেকে কাউকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হলে সেটা ভারতের দিক থেকে পুশ ব্যাক আর একই ঘটনা বাংলাদেশের দিক থেকে দেখলে সেটা পুশ ইন।’
তিনি বলেন, ‘যদি আইনি পথে আমরা কাউকে ফেরত পাঠাতে চাই, তাহলে পুরো বিষয়টা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানাতে হবে, তারা বাংলাদেশে পাঠাবে সেসব। এরপরে বাংলাদেশের ওপরে নির্ভর করবে কাকে মেনে নেবে, কাকে মানব না। বাংলাদেশ প্রমাণ চায়।’ তাঁর প্রশ্ন, ‘এ জন্যই আপনি ভারত থেকে কাউকে বাংলাদেশে পাঠাতে পারবেন না, বাংলাদেশ কাউকেই বাংলাদেশি বলে স্বীকার করে না। তাহলে আমাদের সামনে কী পথ খোলা আছে?’
আসামের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এর মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট একটা রায় দিয়েছে বছর খানেক আগে যে একজন জেলাশাসকের যদি মনে হয় কোনো ব্যক্তি ভারতীয় নন, তিনি বিতাড়নের নির্দেশ জারি করতে পারেন। বিতাড়নের অর্থ কী? ভারত থেকে বিতাড়ন করে দাও।’ এই পর্যায়ে সাংবাদিক প্রশ্ন করেন যে কোথায় বিতাড়ন করা হবে? জবাবে হিমন্ত বলেন, ‘আইনে বা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সেটা উল্লেখ করা নেই। ওখানে লেখা আছে যে আপনি দেশ থেকে বিতাড়ন করতে পারবেন। তাই আমরা এখন বিতাড়ন করতে শুরু করেছি বাংলাদেশ সীমান্তে। শব্দটা হলো—পুশ ব্যাক। আপনারা নিয়ে যান (বাংলাদেশে)।’

আমেরিকা যদি আবারও হামলা শুরু করে, তবে তার জবাবে মার্কিন অবস্থানে ‘দীর্ঘমেয়াদি ও যন্ত্রণাদায়ক’ পাল্টা আঘাত হানার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ইরানের এই কড়া বার্তার ফলে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য একটি আন্তর্জাতিক জোট গঠনের মার্কিন পরিকল্পনা আরও জটিল হয়ে পড়েছে।
১৩ ঘণ্টা আগে
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় হয়েছে ২ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। গতকাল বুধবার পেন্টাগনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই তথ্য জানিয়েছেন। যুদ্ধের প্রকৃত ব্যয়ের হিসাব নিয়ে এটিই প্রথম কোনো সরকারি তথ্য প্রকাশ।
১৫ ঘণ্টা আগে
প্যারিসভিত্তিক গণমাধ্যমবিষয়ক বেসরকারি সংস্থা রিপোর্টার্স সানস ফ্রন্টিয়ার্স (আরএসএফ) বা রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার মাত্রা একটি সূচকের মাধ্যমে তুলে ধরে। তাদের এই ‘ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স’ বা বিশ্ব সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সূচক বলছে, বর্তমানে...
১৬ ঘণ্টা আগে
হরমুজ প্রণালি খুলতে যুক্তরাষ্ট্র আরও কিছু দেশকে সঙ্গে নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক জোট গঠনের চেষ্টা করছে। এই প্রণালিতে অবাধে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এই জোটের কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র। বার্তা সংস্থা রয়টার্স মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের নথির বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে।
১৭ ঘণ্টা আগে