Ajker Patrika

ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক যেন না শোধরায়: আসামের মুখ্যমন্ত্রী

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১২: ৩৮
ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক যেন না শোধরায়: আসামের মুখ্যমন্ত্রী
আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা এক সাক্ষাৎকারে বলছেন, তিনি সব সময় ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেন, যাতে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে উন্নতি না হয়। তাঁর ভাষায়, ‘আমি তো সকালে সব সময়ে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি, যে পরিস্থিতি (ড.) ইউনূসের সময়ে ছিল, সেটাই যেন থাকে, সম্পর্কের উন্নতি যেন না হয়।’

ভারতীয় গণমাধ্যম এবিপিকে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তিনি ভারত থেকে কীভাবে ‘রাতের অন্ধকারে’ বাংলাদেশে তথাকথিত ‘পুশ ব্যাক’ করা হয়, তারও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি। হিমন্ত বিশ্বশর্মার কথায়, ‘বিএসএফ কখনো ২০-৩০ বা ৪০ দিন, কখনো ১০ দিন মতো নিজেদের কাছে রেখে দেয় (যাদের পুশ ব্যাক করা হবে, তাদের)। যখন টহলে বিডিআর থাকে না, সেখান দিয়ে ধাক্কা মেরে পাঠিয়ে দেয়।’

বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নাম এখন বিজিবি হলেও পূর্বের নাম ‘বিডিআর’ বলেই উল্লেখ করেছেন তিনি। রাতের অন্ধকারের সুযোগেই যে এভাবে বাংলাদেশে লোকদের পাঠানো হয় সেটাও জানিয়েছেন তিনি।

আসামের মুখ্যমন্ত্রীর ওই সাক্ষাৎকার ১৫ এপ্রিল সম্প্রচারিত হয়, তবে তার কিছু অংশ সোমবার থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক বিশ্লেষকেরা বলছেন, আসামের মুখ্যমন্ত্রী এমন একটা সময়ে এসব বললেন, যখন বিজেপি নেতা ও সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দীনেশ ত্রিবেদীকে রাষ্ট্রদূত করে ঢাকায় পাঠানোর ঘোষণা করেছে ভারত। এই প্রথমবার ঢাকায় কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে রাষ্ট্রদূত করে পাঠিয়ে দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতির বার্তা দিতে চাইছে দিল্লি।

এবিপি নিউজের হিন্দি চ্যানেলের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে হিমন্ত বিশ্বশর্মাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল বাংলাদেশ থেকে তথাকথিত অনুপ্রবেশ ও সেই অনুপ্রবেশকারীদের ‘পুশ ব্যাক’ করার বিষয়ে। জবাবে হিমন্ত বলেন, ‘আমাদের ভালো লাগে যখন ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক ভালো থাকে না। কারণ, যখন সম্পর্ক ভালো হয়ে যায়, তখন ভারত সরকারও চায় না পুশ ব্যাক করতে। তাই আসামের মানুষের ভালো লাগে, যখন ভারত আর বাংলাদেশের মধ্যে একটা বৈরী সম্পর্ক থাকে। ভারত আর বাংলাদেশের যখন মৈত্রী হয়ে যায়, বিএসএফ আর বিডিআর (বিজিবি) যখন করমর্দন করতে শুরু করে, তখন তা আসামের জন্য বিপজ্জনক হয়ে যায়।’

তাঁর কথায়, ‘যখন সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ হয়ে যায়, তখন সবকিছুই ঢিলেঢালা হয়ে যায়। তাই আমরা তো সব সময়ে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি যাতে ভারত আর বাংলাদেশের সম্পর্ক না শোধরায়। তখন বিএসএফের কড়া প্রহরা থাকে, বন্দুক উঁচিয়ে থাকে, সেনাও চলে আসে, কেউ আসতে পারে না (কাঁটাতার পেরিয়ে)।’

এবিপির সাংবাদিক মেঘা প্রসাদ মন্তব্য করেন, ‘এটা তো ভারতবিরোধী কথা হয়ে যাচ্ছে।’ জবাবে আসামের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আপনি প্রশ্ন করেছেন, আমি বলেছি, আমার মনের কথা। আমি তো সকালে সব সময়ে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি যে পরিস্থিতি ইউনূসের সময়ে যেমন ছিল, সেটাই যেন থাকে, সম্পর্কের উন্নতি যেন না হয়।’

সাক্ষাৎকারের একপর্যায়ে হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেন, ‘একজনও “বাংলাদেশিকে” পুশ ব্যাক করা সহজ নয়। সীমান্তে বাংলাদেশের বাহিনী থাকে। তারা গ্রহণ করে না। ভারত আর বাংলাদেশের মধ্যে কোনো বন্দিবিনিময় চুক্তিও নেই।’ অবশ্য ভারতের দিক থেকে কাউকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হলে সেটা ভারতের দিক থেকে পুশ ব্যাক আর একই ঘটনা বাংলাদেশের দিক থেকে দেখলে সেটা পুশ ইন।’

তিনি বলেন, ‘যদি আইনি পথে আমরা কাউকে ফেরত পাঠাতে চাই, তাহলে পুরো বিষয়টা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানাতে হবে, তারা বাংলাদেশে পাঠাবে সেসব। এরপরে বাংলাদেশের ওপরে নির্ভর করবে কাকে মেনে নেবে, কাকে মানব না। বাংলাদেশ প্রমাণ চায়।’ তাঁর প্রশ্ন, ‘এ জন্যই আপনি ভারত থেকে কাউকে বাংলাদেশে পাঠাতে পারবেন না, বাংলাদেশ কাউকেই বাংলাদেশি বলে স্বীকার করে না। তাহলে আমাদের সামনে কী পথ খোলা আছে?’

আসামের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এর মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট একটা রায় দিয়েছে বছর খানেক আগে যে একজন জেলাশাসকের যদি মনে হয় কোনো ব্যক্তি ভারতীয় নন, তিনি বিতাড়নের নির্দেশ জারি করতে পারেন। বিতাড়নের অর্থ কী? ভারত থেকে বিতাড়ন করে দাও।’ এই পর্যায়ে সাংবাদিক প্রশ্ন করেন যে কোথায় বিতাড়ন করা হবে? জবাবে হিমন্ত বলেন, ‘আইনে বা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সেটা উল্লেখ করা নেই। ওখানে লেখা আছে যে আপনি দেশ থেকে বিতাড়ন করতে পারবেন। তাই আমরা এখন বিতাড়ন করতে শুরু করেছি বাংলাদেশ সীমান্তে। শব্দটা হলো—পুশ ব্যাক। আপনারা নিয়ে যান (বাংলাদেশে)।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত