
প্যারিসভিত্তিক গণমাধ্যমবিষয়ক বেসরকারি সংস্থা রিপোর্টার্স সানস ফ্রন্টিয়ার্স (আরএসএফ) বা রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার মাত্রা একটি সূচকের মাধ্যমে তুলে ধরে। তাদের এই ‘ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স’ বা বিশ্ব সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সূচক বলছে, বর্তমানে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা গত ২৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
সূচকে বিশ্বের ১৮০টি দেশ ও স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের মধ্যে সাংবাদিক ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে, তার তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হয়। আর এই সূচকে বাংলাদেশ আছে ১৫২তম অবস্থানে। আর গত বছর ছিল ১৪৯তম অবস্থানে। অর্থাৎ সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রশ্নে আবারও অবনতির পথে হাঁটতে শুরু করেছে দেশ।
এর আগে ২০২৪ সালের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৬৫। ২০২১ সালের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে অবনতিই দেখা যাচ্ছিল। ওই বছর বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৫২। ২০২১ সাল থেকে ২০২৪ সালে তিন বছরে সূচকে বাংলাদেশ ১৩ ধাপ অবনমনের পর ১৫২তম থেকে নেমে ২০২৪ সালে ১৬৫তম অবস্থানে গিয়েছিল।
আর প্রতিবেশী দেশ ভারত র্যাঙ্কিংয়ে ১৫৭তম অবস্থানে রয়েছে।
আরএসএফের এই র্যাঙ্কিংয়ে কোনো দেশের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার স্তরকে ‘খুবই উদ্বেগজনক’ থেকে ‘ভালো’—এই পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয়। ২০০২ সালে সূচকটি প্রকাশ শুরুর পর এই প্রথম বিশ্বের অর্ধেকের বেশি দেশ সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে ‘কঠিন’ বা ‘খুবই উদ্বেগজনক’ শ্রেণিতে পড়েছে। আরএসএফ বলছে, এটি বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকতাকে ক্রমবর্ধমান হারে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার একটি স্পষ্ট লক্ষণ।
সূচকে দেখা যায়, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে মাত্র সাতটি দেশ ‘ভালো’ অবস্থানে রয়েছে, যার বেশির ভাগই নর্ডিক দেশ। তালিকার শীর্ষ তিন দেশ হলো নরওয়ে, নেদারল্যান্ডস ও এস্তোনিয়া। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ৬৪তম অবস্থানে নেমে গেছে, যা ‘সমস্যামূলক’ হিসেবে চিহ্নিত। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে দেশটির অবস্থানের সাত ধাপ অবনতি হয়েছে।
আরএসএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের ওপর তাঁর ক্রমাগত আক্রমণকে একটি ‘পদ্ধতিগত নীতিতে’ রূপান্তর করেছেন। এর উদাহরণ হিসেবে অভিবাসনবিরোধী অভিযানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ কভার করার সময় সালভাদরীয় সাংবাদিক মারিও গুয়েভারাকে আটক ও পরে নির্বাসন এবং বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য পাবলিক মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম স্থগিতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে আর্জেন্টিনা (৯৮, ১১ ধাপ অবনতি) ও এল সালভাদরের (১৪৩) ব্যাপক অবনতির কথা জানিয়েছে আরএসএফ। ‘মারা’ গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার পর ২০১৪ সাল থেকে এল সালভাদরের অবস্থান ১০৫ ধাপ নিচে নেমেছে।
সংস্থাটি জানায়, গত ২৫ বছরের মতো এবারও পূর্ব ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্য সাংবাদিকদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক অঞ্চল হিসেবে রয়েছে। রাশিয়া (১৭২) ও ইরান (১৭৭) তালিকার সর্বনিম্ন ১০টি দেশের মধ্যে রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুদ্ধ এবং তথ্যপ্রাপ্তিতে বাধা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা হ্রাসের অন্যতম প্রধান কারণ। গাজা, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও লেবাননে সাংবাদিকদের ওপর ইসরায়েলের হামলার উদাহরণ টেনে ইসরায়েলকে ১১৬তম অবস্থানে রাখা হয়েছে। সংস্থাটি জানায়, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে ২২০ জনেরও বেশি সাংবাদিক নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অন্তত ৭০ জন পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারিয়েছেন।
সামগ্রিকভাবে আরএসএফ জানিয়েছে, সাংবাদিকতাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার প্রবণতাটি একটি বৈশ্বিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের আইনকে পাশ কাটিয়ে জরুরি অবস্থা বা সাধারণ আইনের অপব্যবহারের মাধ্যমে এটি করা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের ৬০ শতাংশের বেশি দেশ অর্থাৎ ১৮০ টির মধ্যে ১১০টি দেশই বিভিন্নভাবে সংবাদকর্মীদের অপরাধী হিসেবে সাব্যস্ত করছে। এ ক্ষেত্রে ভারত (১৫৭), মিশর (১৬৯), জর্জিয়া (১৩৫), তুরস্ক (১৬৩) ও হংকংয়ের (১৪০) রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের উদাহরণ দেওয়া হয়েছে।
আরএসএফের সম্পাদকীয় পরিচালক অ্যান বোকান্দে বলেন, ‘তথ্য পাওয়ার অধিকারের ওপর হামলা এখন আরও বহুমুখী ও সূক্ষ্ম হলেও অপরাধীরা এখন প্রকাশ্যেই তাদের তৎপরতা চালাচ্ছে।’
বিশ্বজুড়ে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার এই অবনতির জন্য তিনি ‘স্বৈরাচারী রাষ্ট্র, সহযোগী বা অযোগ্য রাজনৈতিক শক্তি, শোষক অর্থনৈতিক গোষ্ঠী এবং নিয়ন্ত্রণহীন অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোকে’ প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
সাংবাদিকদের এই বৈশ্বিক অপরাধীকরণের অবসান ঘটাতে গণতান্ত্রিক সরকার ও নাগরিকদের আরও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান বোকান্দে। এ ক্ষেত্রে তিনি ‘দৃঢ় নিশ্চয়তা ও কার্যকর শাস্তির’ দাবি তোলেন।
তিনি বলেন, ‘বর্তমান সুরক্ষা ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয়; আন্তর্জাতিক আইন দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং দায়মুক্তির সংস্কৃতি জেঁকে বসেছে। এই পরিস্থিতিতে নিষ্ক্রিয় থাকা মানেই বিষয়টিকে সমর্থন করা।’ তবে স্বৈরাচারী ব্যবস্থার বিস্তার অনিবার্য নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় হয়েছে ২ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। গতকাল বুধবার পেন্টাগনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই তথ্য জানিয়েছেন। যুদ্ধের প্রকৃত ব্যয়ের হিসাব নিয়ে এটিই প্রথম কোনো সরকারি তথ্য প্রকাশ।
২৫ মিনিট আগে
হরমুজ প্রণালি খুলতে যুক্তরাষ্ট্র আরও কিছু দেশকে সঙ্গে নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক জোট গঠনের চেষ্টা করছে। এই প্রণালিতে অবাধে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এই জোটের কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র। বার্তা সংস্থা রয়টার্স মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের নথির বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে।
৩ ঘণ্টা আগে
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। ফোনালাপে পুতিন ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আবারও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিলে এর পরিণতি হবে ‘অনিবার্য ও ভয়াবহ ক্ষতিকর’। কেবল ইরান নয়, দেশটির প্রতিবেশী ও পুরো...
৬ ঘণ্টা আগে
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা এক সাক্ষাৎকারে বলছেন, তিনি সব সময় ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেন, যাতে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে উন্নতি না হয়। তাঁর ভাষায়, ‘আমি তো সকালে সব সময়ে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি, যে পরিস্থিতি (ড.) ইউনূসের সময়ে ছিল, সেটাই যেন থাকে...
৬ ঘণ্টা আগে