রাতুল মণ্ডল, শ্রীপুর

'মো. কাজল মিয়া প্রথমে আমাকে ব্যাপক মারধর করে। এর কিছুক্ষণ পর দুই নম্বর বিবাদী মো. লিটন মিয়া রশি দিয়ে তাঁর হাত পা বেঁধে আগুনের ভেতর লোহার রড গরম করে প্রথমে হাতে ও পরে শরীরের বিভিন্ন অংশে প্রায় ৫০ টিরও বেশি ছ্যাঁকা দেয়। একপর্যায়ে চোখের ভেতর গরম রড দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়ার চেষ্টা করে। হাতে পায়ে ধরে, বাবা ডেকেও তাঁদের অমানবিক নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা পায়নি সে। একপর্যায়ে অজ্ঞান হয়ে পড়লে নির্যাতনের মাত্রা কমে। আমার শরীরে পানি দিয়ে গোপন অঙ্গে কয়েকটি ছ্যাকা দেয়। এরপর টাকা চুরি না করেও টাকা চুরির কথা মুখ দিয়ে স্বীকার না করার জন্য ওরা আমার মুখেও গরম রডের ছ্যাঁকা দেয়। এরপর টাকা চুরির কথা স্বীকার করলে তাঁরা আমার হাত পায়ের বাঁধন খুলে দেয়।'
শ্রীপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মো. আলমগীর হোসেন (১৪) এভাবেই বর্ণনা করছিল তাঁর সঙ্গে হওয়া নির্মম নির্যাতনের ঘটনা। টাকা চুরির অপবাদ তুলে তাঁকে এভাবে নির্যাতন করেন উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের মো. দুলাল মিয়ার দুই ছেলে মো. কাজল মিয়া (৩৫) ও মো. লিটন মিয়া (২৫)। গত ১৬ অক্টোবর সকাল ৭টার দিকে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়ন নয়াপাড়া গ্রামে এ চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।
নির্যাতন থেকে বাঁচতে হাতে পায়ে ধরে আকুতিও কম করেনি আলমগীর। 'বাবা আমাকে মাইরা ফালছে তাঁরা। আমি নাহি টেহা চুরি করছি। আমি কোন টেহা চুরি করি নাই। আর সহ্য করতে পারছি না। আমাকে আর গরম রডের ছ্যাহা দিও না। আর পারছি না। তুমরা আমার চোখে গরম রডের ছ্যাহা দিয়ো না। একটু আমার মা আর বাবরে দেখবার দেও। আমারে একটু বাঁচতে দেও।' এত আকুতিও নির্যাতনকারীদের মন গলাতে পারেনি পিক-আপের হেলপার আলমগীর হোসেন।
এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার মো. আলমগীরের বাবা বাদী হয়ে দুজনকে অভিযুক্ত করে ১৭ অক্টোবর রাত ১১টার দিকে শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মো. আলমগীর হোসেন উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের ডুমবাড়িচালা গ্রামের মো. সুলতান সরকারের ছেলে। ৫৩ হাজার টাকা চুরির অভিযোগে দুই যুবক মিলে তাঁকে নির্যাতন করে।
নির্যাতনের শিকার মো. আলমগীরের বাবা বলেন, বেলা ১১টার সময় অভিযুক্তরা ফোন করে বলে আপনার ছেলে টাকা চুরি করেছে। টাকা চুরির কথা স্বীকার করেছে। আপনি ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে এসে ছেলেকে নিয়ে যান। এরপর টাকা না নিয়ে অভিযুক্তদের বাড়িতে পৌঁছানোর পর টাকা না আনার আগ পর্যন্ত ছেলেকে দিবে না বলে জানায়। একপর্যায়ে স্থানীয় কয়েক জনের হাতে পায়ে ধরে টাকা দেওয়ার শর্তে ছেলেকে নিয়ে আসি। একদিন ভয়ে বাসায় ছেলের চিকিৎসা করি। এরপর স্থানীয় ইউপি সদস্যকে ঘটনার বিস্তারিত বলার পরই বিচার চাওয়ার সাহস পাই।
এ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত মো. কাজল মিয়া বলেন, টাকা চুরির সময় হাতেনাতে ধরা হয়ছে। এ জন্য চর থাপ্পড় দিয়েছি। সেঁকা দেইনি। শরীরে এতগুলো সেঁকার দাগ কীভাবে হলো? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি নীরব ছিলেন। চুরি করলে তাঁকে পুলিশে দেননি কেন? প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে লাইন কেটে দেন।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি খোন্দকার ইমাম হোসেন বলেন, এমন নির্মম নির্যাতনের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

'মো. কাজল মিয়া প্রথমে আমাকে ব্যাপক মারধর করে। এর কিছুক্ষণ পর দুই নম্বর বিবাদী মো. লিটন মিয়া রশি দিয়ে তাঁর হাত পা বেঁধে আগুনের ভেতর লোহার রড গরম করে প্রথমে হাতে ও পরে শরীরের বিভিন্ন অংশে প্রায় ৫০ টিরও বেশি ছ্যাঁকা দেয়। একপর্যায়ে চোখের ভেতর গরম রড দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়ার চেষ্টা করে। হাতে পায়ে ধরে, বাবা ডেকেও তাঁদের অমানবিক নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা পায়নি সে। একপর্যায়ে অজ্ঞান হয়ে পড়লে নির্যাতনের মাত্রা কমে। আমার শরীরে পানি দিয়ে গোপন অঙ্গে কয়েকটি ছ্যাকা দেয়। এরপর টাকা চুরি না করেও টাকা চুরির কথা মুখ দিয়ে স্বীকার না করার জন্য ওরা আমার মুখেও গরম রডের ছ্যাঁকা দেয়। এরপর টাকা চুরির কথা স্বীকার করলে তাঁরা আমার হাত পায়ের বাঁধন খুলে দেয়।'
শ্রীপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মো. আলমগীর হোসেন (১৪) এভাবেই বর্ণনা করছিল তাঁর সঙ্গে হওয়া নির্মম নির্যাতনের ঘটনা। টাকা চুরির অপবাদ তুলে তাঁকে এভাবে নির্যাতন করেন উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের মো. দুলাল মিয়ার দুই ছেলে মো. কাজল মিয়া (৩৫) ও মো. লিটন মিয়া (২৫)। গত ১৬ অক্টোবর সকাল ৭টার দিকে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়ন নয়াপাড়া গ্রামে এ চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।
নির্যাতন থেকে বাঁচতে হাতে পায়ে ধরে আকুতিও কম করেনি আলমগীর। 'বাবা আমাকে মাইরা ফালছে তাঁরা। আমি নাহি টেহা চুরি করছি। আমি কোন টেহা চুরি করি নাই। আর সহ্য করতে পারছি না। আমাকে আর গরম রডের ছ্যাহা দিও না। আর পারছি না। তুমরা আমার চোখে গরম রডের ছ্যাহা দিয়ো না। একটু আমার মা আর বাবরে দেখবার দেও। আমারে একটু বাঁচতে দেও।' এত আকুতিও নির্যাতনকারীদের মন গলাতে পারেনি পিক-আপের হেলপার আলমগীর হোসেন।
এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার মো. আলমগীরের বাবা বাদী হয়ে দুজনকে অভিযুক্ত করে ১৭ অক্টোবর রাত ১১টার দিকে শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মো. আলমগীর হোসেন উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের ডুমবাড়িচালা গ্রামের মো. সুলতান সরকারের ছেলে। ৫৩ হাজার টাকা চুরির অভিযোগে দুই যুবক মিলে তাঁকে নির্যাতন করে।
নির্যাতনের শিকার মো. আলমগীরের বাবা বলেন, বেলা ১১টার সময় অভিযুক্তরা ফোন করে বলে আপনার ছেলে টাকা চুরি করেছে। টাকা চুরির কথা স্বীকার করেছে। আপনি ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে এসে ছেলেকে নিয়ে যান। এরপর টাকা না নিয়ে অভিযুক্তদের বাড়িতে পৌঁছানোর পর টাকা না আনার আগ পর্যন্ত ছেলেকে দিবে না বলে জানায়। একপর্যায়ে স্থানীয় কয়েক জনের হাতে পায়ে ধরে টাকা দেওয়ার শর্তে ছেলেকে নিয়ে আসি। একদিন ভয়ে বাসায় ছেলের চিকিৎসা করি। এরপর স্থানীয় ইউপি সদস্যকে ঘটনার বিস্তারিত বলার পরই বিচার চাওয়ার সাহস পাই।
এ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত মো. কাজল মিয়া বলেন, টাকা চুরির সময় হাতেনাতে ধরা হয়ছে। এ জন্য চর থাপ্পড় দিয়েছি। সেঁকা দেইনি। শরীরে এতগুলো সেঁকার দাগ কীভাবে হলো? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি নীরব ছিলেন। চুরি করলে তাঁকে পুলিশে দেননি কেন? প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে লাইন কেটে দেন।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি খোন্দকার ইমাম হোসেন বলেন, এমন নির্মম নির্যাতনের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিভিন্ন মডেলের ৩৬৩টি আইফোন ও আইফোনের খুচরা যন্ত্রাংশসহ তিন চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। প্রাথমিকভাবে তাঁদের নাম জানায়নি ডিবি। আজ বুধবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের মুখপাত্র তালেবুর রহমান।
১২ দিন আগে
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর জামিনে মুক্তি পান ঢাকার বেশ কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসী। পলাতক এসব সন্ত্রাসী ও তাঁদের অনুসারীরা আবারও চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীতে একের পর এক গুলি ও হত্যাকাণ্ডে এসব শীর্ষ সন্ত্রাসীর সম্পৃক্ততার তথ্য...
১৩ দিন আগে
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকায় গত শুক্রবার সকালে একটি মাদ্রাসায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে নারী, শিশুসহ চারজন আহত হয়েছে। মাদ্রাসাটি শেখ আল আমিন নামের এক ব্যক্তি পরিচালনা করতেন। যিনি এর আগে নিষিদ্ধ উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুবার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। দেশের বিভিন্ন থানায়
২৩ দিন আগে
অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২-এর বিশেষ অভিযানে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৮ হাজার ৫৯৭ জনকে। গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ৮৫টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
২৪ ডিসেম্বর ২০২৫