Ajker Patrika

‘পরিবারের জন্য ভালো কিছু কিনতে এসেছিলাম, দাম শুনে পেঁয়াজু-ছোলা ছাড়া কিছু নিতে পারলাম না’

সোহানুর রহমান, জবি
‘পরিবারের জন্য ভালো কিছু কিনতে এসেছিলাম, দাম শুনে পেঁয়াজু-ছোলা ছাড়া কিছু নিতে পারলাম না’
আজ বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুর থেকে পুরান ঢাকার চকবাজার ও নাজিরাবাজার এলাকায় ইফতারসামগ্রীর দোকানে ক্রেতাদের ভিড়। ছবি: আজকের পত্রিকা

বছর ঘুরে সংযম ও ক্ষমার বার্তা নিয়ে শুরু হয়েছে পবিত্র রমজান মাস। প্রথম দিনেই পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ইফতারির বাজারে দেখা গেছে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। আজ বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুর থেকে চকবাজার, নাজিরাবাজার, বংশাল, লক্ষ্মীবাজার, সূত্রাপুর, নারিন্দা ও নাজিমুদ্দিন রোড এলাকায় ক্রেতাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

‎বিকেল গড়াতেই পুরান ঢাকার অলিগলি ও সড়কের পাশে সারি সারি ইফতারির দোকান বসে। কাবাব, জিলাপি, হালিম, সমুচা, দইবড়া ও বিভিন্ন মাংসের পদে সাজানো স্টলগুলোতে ভিড় বাড়তে থাকে। তবে সেই ভিড়ের মাঝেই শোনা গেছে মূল্য নিয়ে অসন্তোষের সুর। ক্রেতাদের অভিযোগ, গত বছরের তুলনায় এবার প্রায় সব পণ্যের দামই বেড়েছে।

‎সরেজমিনে দেখা যায়, পেঁয়াজু প্রতি পিস ২০ টাকা, আলুর চপ ১০ টাকা, বেগুনি ২০ টাকা, ডিম চপ ৪০ টাকা ও জালি কাবাব ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খাসির লেগ রোস্ট প্রতি পিস ৮০০ টাকা, মাটন লেগ রোস্ট কেজি ১ হাজার ৬০০ টাকা, খাসির কালা ভুনা কেজি ১ হাজার ৬০০ টাকা। জিলাপি কেজি ৪০০ টাকা। বিভিন্ন মিষ্টান্ন ৩৫০ থেকে এক হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। গরুর পরোটা ৮০ টাকা ও মুরগির পরোটা ৬০ টাকা। এ ছাড়া আস্ত মুরগির কাবাব, মোরগ মোসাল্লাম, শিক ও শামি কাবাব, চিকেন টিকা, খাসির চাপ, কালা ভুনা, হালিম, ফিরনি ও বিভিন্ন শরবত তুলনামূলক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। কাশ্মীরি শরবত, লাবাং ও বোরহানির দামও ছিল বেশি।

ফলমূলের দামও বেড়েছে। আনারস প্রতি পিস ১০০ টাকা, পেঁপে কেজি ১৬০ টাকা, আপেল কেজি ৩৫০ টাকা, কমলালেবু ৩৫০ টাকা ও আঙুর ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

‎আরমানিটোলা থেকে ইফতারি কিনতে চকবাজারে এসেছেন মানিক মিয়া। তিনি বলেন, ‘এবারের দাম গত বছরের চেয়ে অনেক বেশি। আমাদের মতো নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য সবকিছু কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। সামনে পরিস্থিতি কী হয়, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।’

আজ বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুর থেকে পুরান ঢাকার চকবাজার ও নাজিরাবাজার এলাকায় ইফতারসামগ্রীর দোকানে ক্রেতাদের ভিড়। ছবি: আজকের পত্রিকা
আজ বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুর থেকে পুরান ঢাকার চকবাজার ও নাজিরাবাজার এলাকায় ইফতারসামগ্রীর দোকানে ক্রেতাদের ভিড়। ছবি: আজকের পত্রিকা

‎বংশাল থেকে নাজিরাবাজারে ইফতারি কিনতে আসা আতিকুর রহমান বলেন, ‘পরিবারের জন্য ভালো কিছু কিনতে এসেছিলাম। কিন্তু দাম শুনে পেঁয়াজু, চপ আর ছোলা ছাড়া বেশি কিছু নিতে পারলাম না।’

‎কলতাবাজারের বাসিন্দা সোফিয়া খানম বলেন, দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় মধ্যবিত্তদের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। প্রায় সবকিছুর দাম বেড়েছে। তবু বাচ্চাদের জন্য কিছু ইফতারি কিনতেই হচ্ছে।

‎অন্যদিকে বিক্রেতারা বলছেন, কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় ইফতারির মূল্য সমন্বয় করতে হয়েছে। তবু ক্রেতা উপস্থিতি সন্তোষজনক।

আজ বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুর থেকে পুরান ঢাকার চকবাজার ও নাজিরাবাজার এলাকায় ইফতারসামগ্রীর দোকানে ক্রেতাদের ভিড়। ছবি: আজকের পত্রিকা
আজ বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুর থেকে পুরান ঢাকার চকবাজার ও নাজিরাবাজার এলাকায় ইফতারসামগ্রীর দোকানে ক্রেতাদের ভিড়। ছবি: আজকের পত্রিকা

প্রায় ৭০ বছর ধরে চকবাজারে রমজান মাসে ইফতারসামগ্রী বিক্রি করেন বরকত লস্কর। তিনি বলেন, ‘বাজারে জিনিসপত্রের দামে আগুন। যেটাই কিনতে যাই, আগের চেয়ে দ্বিগুণ-তিন গুণ বেশি দাম। তাই বাধ্য হয়ে খাবারের দাম বাড়াতে হয়েছে।’

‎রায়সাহেব বাজার মোড়ে ছোট দোকান নিয়ে বসেছেন ২২ বছর বয়সী সাওন। পরিবারসহ কলতাবাজারের একটি ভাড়া বাসায় থাকেন তিনি। সাওন বলেন, ‘পুরান ঢাকায় এসেছি পাঁচ বছর হলো। প্রতি রমজানেই দোকান দিই। এবার কাঁচামালের দাম বেশি হওয়ায় ইফতারির দামও বাড়াতে হয়েছে। তবে দাম বেশি হলেও ক্রেতারা কিনছেন।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এখন টিভির ঘটনা সমঝোতার চেষ্টা করবেন তথ্যমন্ত্রী

ড. ইউনূস এখন কোথায় আছেন, নতুন প্রধানমন্ত্রী উঠবেন কোথায়?

২৬ ফেব্রুয়ারি বসতে পারে সংসদের প্রথম অধিবেশন, সভাপতিত্ব করবেন কে

ঈদের আগেই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু করবে সরকার, হবে সর্বজনীন

বৈধ সুবিধাকে অস্বীকার করে জনগণের সামনে সাধু সাজা হচ্ছে: নাহিদ ইসলাম

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত