Ajker Patrika

ঢাকা-৭ আসন: নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় ভোটার

  • সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান, মতবিনিময়ের মাধ্যমে মাঠে সক্রিয় প্রার্থীরা।
  • শুধু ভোটার নয়, প্রার্থীদেরও কয়েকজন নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
জয়নাল আবেদীন, ঢাকা
ঢাকা-৭ আসন: নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় ভোটার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরুর আগে ঢাকা-৭ আসনের প্রার্থীরা সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান, কুশল বিনিময় এবং মতবিনিময়ের মাধ্যমে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। তবে ভোটারদের অনেকে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

গত বৃহস্পতিবার শীতের সকালে লালবাগ থানার নবাবগঞ্জ এলাকায় এক চায়ের দোকানে কয়েকজন চা পান করতে করতে নানান বিষয়ে আলাপ করছিলেন। একপর্যায়ে নির্বাচন নিয়ে কথা তোলেন দুজন যুবক। তাঁরা বলছিলেন, ‘এখনো তো দেখি বিভিন্ন জায়গায় খুনখারাবি হয়, আইনশৃঙ্খলার বেশ অবনতি। নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হলে হয়তো (পরিস্থিতি) আরও খারাপ হতে পারে।’

পাশে থাকা আরেকজন বলেন, ‘নির্বাচনের মাঠ কেমন থাকবে জানি না। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ও নিরাপত্তা থাকলে ভোট দিতে যাব, না হলে যাব না। নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন হবে কি না তা নিয়েও তো ধোঁয়াশা রয়েছে।’

এরই মধ্যে দোকানদার (স্থানীয় ভোটার) বলে ওঠেন, ‘আমরা ভাই পেটনীতি বুঝি, রাজনীতি বুঝি না। আমরা পরিবর্তন চাই, যেখানে মানুষ নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবে। আগে তো সব সময় সন্ত্রাসী কার্যক্রম হতো। এখনো তো হচ্ছে অনেক জায়গায়, ভয়ে থাকি।’

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, ঢাকার লালবাগ ও চকবাজার থানা এবং কামরাঙ্গীরচর ও কোতোয়ালি—এ দুটির আংশিক নিয়ে ঢাকা-৭ আসন। এটি মূলত ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৩ থেকে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড, ৩৫, ৩৬, ৫৬ ও ৫৭ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। ঢাকা-৭ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৭৯ হাজার ৩৭৬।

ঢাকা-৭ আসনে এ পর্যন্ত বিএনপি থেকে পাঁচজন, আওয়ামী লীগের চারজন, স্বতন্ত্র থেকে একজন ও দুজন জাতীয় পার্টি থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত বিএনপি থেকে সাদেক হোসেন খোকা পরপর চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সর্বশেষ এই আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হন মোহাম্মদ সোলায়মান সেলিম। ২০১৪ সালে হাজি সেলিম স্বতন্ত্র হিসেবে জয়ী হন। ২০১৮ সালে তিনি নৌকার প্রার্থী হয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে প্রার্থী হয়েছেন মোট ১৩ জন। তাঁরা হলেন জাতীয় পার্টি (জেপি) থেকে মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন আহম্মেদ মিলন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির হামিদুর রহমান, জামায়াতে ইসলামীর মো. এনায়াত উল্লা, বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী মো. ইসহাক সরকার ও মো. মনির হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মো. আবদুর রহমান, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির (বিআরপি) শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. হাবিবুল্লাহ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) মো. শহিদুল ইসলাম, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) তারেক আহম্মেদ আদেল, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) শাহানা সেলিম, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্ক্সবাদী) সীমা দত্ত ও বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের (মুক্তিজোট) মাকসুদুর রহমান।

সরেজমিনে গেলে বংশাল থানার বেচারাম দেউড়ি এলাকার নতুন ভোটার মো. মাহাদী হাসান এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘এই প্রথম সংসদ নির্বাচনে ভোট দিব। আমি চাই দুর্নীতিমুক্ত প্রার্থী। আগের মতো পেশিশক্তির রাজনীতিও চাই না। নতুন কিছু হোক। পুরোনো ধারার অপরাজনীতির পরিবর্তন চাই।’

কামরাঙ্গীরচর থানার ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার মো. মুরাদ আলী বলেন, এই নির্বাচনেও টাকার খেলা হবে। এবার প্রতিশ্রুতি রাখতে পারবে এমন সৎ ব্যক্তিকে ভোটাররা বেছে নেবেন। কেউ দুর্নীতি করলে দুই বছর যেতে না যেতেই তাঁদের বিরুদ্ধেও কথা বলবে জনগণ। আগের সরকার তো পালানোর জায়গা পেয়েছে, দুর্নীতি করলে আগামী সরকারও কোথাও পালানোর জায়গা পাবে না।

জামায়াতের জোটভুক্ত হলেও এনসিপির তারেক আহম্মেদ আদেল মাঠে থাকবেন। তিনি বলেন, ‘আমি এখন (গতকাল শুক্রবার) পর্যন্ত শাপলা কলি নিয়ে নির্বাচন করার চেষ্টা করব। বসে যাওয়ার কোনো সুযোগই নেই।’

জামায়াত প্রার্থী মো. এনায়াত মোল্লা বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তো এখনো শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পারে নাই, তারা সুষ্ঠু নির্বাচন করবে সেই নিশ্চয়তা কী? সরকার নিজেই বিএনপির দোষ ধরছে না। তাহলে এগুলো কিসের আলামত? আগের চর্চা তো রয়ে গেছে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমি শতভাগ জয়ী হব। আমি জয়ী হলে মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন করব এবং সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেব।’

বিএনপির কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইসহাক সরকার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমি দলের থেকে ইনসাফ পাইনি। এই এলাকার জনগণ আমাকে দাঁড় করিয়েছে। আমি শতভাগ আশাবাদী, ইনশা আল্লাহ।’

বিএনপির প্রার্থী হামিদুর রহমানের সঙ্গে কথা বলার জন্য বহুবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি সাড়া দেননি।

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্ক্সবাদী) সীমা দত্ত বলেন, ‘টাকা দেখে নয়, মানুষ প্রার্থী দেখে ভোট দেবে বলে আশা করছি। তবে এটাও সত্য যে, নির্বাচনে টাকার ছড়াছড়ি সংস্কৃতি থেকে মানুষ বের হতে পারেনি।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত