কারণ শতভাগ নিশ্চিত করতে বিদেশে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরামর্শ
তৃতীয় পক্ষকে দিয়ে মেট্রোর সার্বিক নিরাপত্তা পর্যালোচনার তাগিদ
বিয়ারিং প্যাড সরে যাওয়া রোধে জরুরি কারিগরি ব্যবস্থার পরামর্শ
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
রাজধানীতে মেট্রোরেলের পিলার থেকে বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে পথচারী নিহতের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রাথমিক অনুসন্ধানে যন্ত্রাংশটিতে গুরুতর ত্রুটি চিহ্নিত হয়েছে। একই সঙ্গে অবকাঠামোর নকশাগত ত্রুটির কথাও বলা হয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে। এসব বিষয়ে অধিকতর তদন্ত করার কথা বলেছে কমিটি।
গত বছরের ২৬ অক্টোবর ফার্মগেট এলাকায় মেট্রোরেলের পিলারের মাথায় বসানো প্রায় ৮০ কেজি ওজনের বিয়ারিং প্যাড পড়ে সরাসরি এক পথচারীর মাথায় পড়লে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মেট্রোর বিয়ারিং প্যাড দুর্ঘটনাবিষয়ক তদন্ত প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিলারের মাথা থেকে পড়ে যাওয়া বিয়ারিং প্যাডের ‘হার্ডনেস’, ‘কম্প্রেশন সেট’ ও ‘নিওপ্রিন কন্টেন্ট’ প্রচলিত মান অনুযায়ী সঠিক ছিল না। তবে বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করতে বিদেশি ল্যাবরেটরিতে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিয়ারিং প্যাড কিছুটা ঢালু অবস্থায় (০.৮ শতাংশ) বসানো হয়েছিল, যা পড়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আংশিকভাবে প্রভাব ফেলে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনের উভয় প্রান্তেই বৃত্তাকার অ্যালাইনমেন্ট রয়েছে। কমিটির অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভায়াডাক্টের (যে কাঠামোর ওপর রেললাইন বসানো হয়েছে) সোজা অ্যালাইনমেন্ট ও বৃত্তাকার অ্যালাইনমেন্টের মধ্যে কোনো ধরনের ট্র্যানজিশন কার্ভ ব্যবহার করা হয়নি। এ কারণে রেললাইনের অ্যালাইনমেন্টের নকশায় ত্রুটি থাকতে পারে বলে কমিটির ধারণা। প্রতিবেদনে বলা হয়, কার্ভ অ্যালাইনমেন্টের জন্য আলাদাভাবে মডেলিং ও বিশ্লেষণ করা হয়নি; বরং সোজা অ্যালাইনমেন্টের মডেলিং ও বিশ্লেষণ দিয়েই কার্ভ অ্যালাইনমেন্টের নকশা প্রণয়ন করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রেন চলার সময় পরিমাপ করে দেখা গেছে, পড়ে যাওয়া বিয়ারিং প্যাড সংশ্লিষ্ট পিয়ারে (বিশেষ করে ৪৩০ ও ৪৩৩ নম্বরে) অন্যান্য পিয়ারের তুলনায় কম্পন অনেক বেশি হয়। কার্ভ অ্যালাইনমেন্টের সম্ভাব্য নকশাগত ত্রুটির কারণেই অংশটিতে অযাচিত পার্শ্ববল ও কম্পনের সৃষ্টি হচ্ছে। এর সঙ্গে বিয়ারিং প্যাড পড়ে যাওয়ার সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
তদন্ত কমিটির অনুসন্ধানে দেখা যায়, কার্ভ অ্যালাইনমেন্ট ও সংলগ্ন স্টেশনে রেললাইনের নিচে নিওপ্রিন রাবার ম্যাস-স্প্রিং ড্যাম্পার সিস্টেম ব্যবহার করা হলেও দুর্ঘটনাস্থলসংশ্লিষ্ট মধ্যবর্তী লাইনটি অনমনীয় রাখা হয়েছে। কমিটির ধারণা, ওই স্থানে ম্যাস-স্প্রিং ড্যাম্পার সিস্টেম ব্যবহার করা হলে কম্পন কমানো সম্ভব হতো।
তবে তদন্ত কমিটি এ ঘটনায় কোনো ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের যোগসূত্র পায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে।
কমিটি ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে পাঁচটি সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে কার্ভ অ্যালাইনমেন্টের সংশ্লিষ্ট স্থানে বিয়ারিং প্যাড সরে যাওয়া রোধে জরুরি কারিগরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা। বিয়ারিং প্যাড পড়ে যাওয়ার কারণ সুনিশ্চিতভাবে নির্ণয়ে তৃতীয় পক্ষের স্বাধীন পরামর্শকের মাধ্যমে ভায়াডাক্ট ও রেলপথের কাঠামোগত নকশা পর্যালোচনা করা। মেট্রোরেলের সার্বিক প্রকল্প নকশার ওপর তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিরীক্ষা করা। নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য দ্রুত কাঠামোগত স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা স্থাপন করা। মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও বিদেশি পরামর্শকদের কাছ থেকে স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের কাছে প্রযুক্তি হস্তান্তর নিশ্চিত করা।
এর আগে ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বরও কাছাকাছি স্থানে একটি বিয়ারিং প্যাড পড়ে গিয়েছিল। সে ঘটনার পর দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তাতে দুর্ঘটনার কোনো কারণ নিশ্চিত করা হয়নি। পর্যাপ্ত সময় পাওয়া সত্ত্বেও ঠিকাদার ও পরামর্শক বিস্তারিত প্রকৌশল বিশ্লেষণ করে মূল কারণ নির্ধারণ করেনি বলে এবারের তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে দায়দায়িত্ব কার, তা চিহ্নিত না করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সড়ক উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, ‘প্রতিবেদনটি ডিএমটিসিএলের বোর্ড সভায় দেওয়া হবে। তারা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে। মন্ত্রণালয় এটার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয়।’
প্রসঙ্গত, ডিএমটিসিএল (পুরো নাম ‘ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড’) হচ্ছে মেট্রোরেলের নির্মাণ ও পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ।
রাজধানীতে মেট্রোরেলের পিলার থেকে বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে পথচারী নিহতের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রাথমিক অনুসন্ধানে যন্ত্রাংশটিতে গুরুতর ত্রুটি চিহ্নিত হয়েছে। একই সঙ্গে অবকাঠামোর নকশাগত ত্রুটির কথাও বলা হয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে। এসব বিষয়ে অধিকতর তদন্ত করার কথা বলেছে কমিটি।
গত বছরের ২৬ অক্টোবর ফার্মগেট এলাকায় মেট্রোরেলের পিলারের মাথায় বসানো প্রায় ৮০ কেজি ওজনের বিয়ারিং প্যাড পড়ে সরাসরি এক পথচারীর মাথায় পড়লে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মেট্রোর বিয়ারিং প্যাড দুর্ঘটনাবিষয়ক তদন্ত প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিলারের মাথা থেকে পড়ে যাওয়া বিয়ারিং প্যাডের ‘হার্ডনেস’, ‘কম্প্রেশন সেট’ ও ‘নিওপ্রিন কন্টেন্ট’ প্রচলিত মান অনুযায়ী সঠিক ছিল না। তবে বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করতে বিদেশি ল্যাবরেটরিতে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিয়ারিং প্যাড কিছুটা ঢালু অবস্থায় (০.৮ শতাংশ) বসানো হয়েছিল, যা পড়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আংশিকভাবে প্রভাব ফেলে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনের উভয় প্রান্তেই বৃত্তাকার অ্যালাইনমেন্ট রয়েছে। কমিটির অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভায়াডাক্টের (যে কাঠামোর ওপর রেললাইন বসানো হয়েছে) সোজা অ্যালাইনমেন্ট ও বৃত্তাকার অ্যালাইনমেন্টের মধ্যে কোনো ধরনের ট্র্যানজিশন কার্ভ ব্যবহার করা হয়নি। এ কারণে রেললাইনের অ্যালাইনমেন্টের নকশায় ত্রুটি থাকতে পারে বলে কমিটির ধারণা। প্রতিবেদনে বলা হয়, কার্ভ অ্যালাইনমেন্টের জন্য আলাদাভাবে মডেলিং ও বিশ্লেষণ করা হয়নি; বরং সোজা অ্যালাইনমেন্টের মডেলিং ও বিশ্লেষণ দিয়েই কার্ভ অ্যালাইনমেন্টের নকশা প্রণয়ন করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রেন চলার সময় পরিমাপ করে দেখা গেছে, পড়ে যাওয়া বিয়ারিং প্যাড সংশ্লিষ্ট পিয়ারে (বিশেষ করে ৪৩০ ও ৪৩৩ নম্বরে) অন্যান্য পিয়ারের তুলনায় কম্পন অনেক বেশি হয়। কার্ভ অ্যালাইনমেন্টের সম্ভাব্য নকশাগত ত্রুটির কারণেই অংশটিতে অযাচিত পার্শ্ববল ও কম্পনের সৃষ্টি হচ্ছে। এর সঙ্গে বিয়ারিং প্যাড পড়ে যাওয়ার সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
তদন্ত কমিটির অনুসন্ধানে দেখা যায়, কার্ভ অ্যালাইনমেন্ট ও সংলগ্ন স্টেশনে রেললাইনের নিচে নিওপ্রিন রাবার ম্যাস-স্প্রিং ড্যাম্পার সিস্টেম ব্যবহার করা হলেও দুর্ঘটনাস্থলসংশ্লিষ্ট মধ্যবর্তী লাইনটি অনমনীয় রাখা হয়েছে। কমিটির ধারণা, ওই স্থানে ম্যাস-স্প্রিং ড্যাম্পার সিস্টেম ব্যবহার করা হলে কম্পন কমানো সম্ভব হতো।
তবে তদন্ত কমিটি এ ঘটনায় কোনো ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের যোগসূত্র পায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে।
কমিটি ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে পাঁচটি সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে কার্ভ অ্যালাইনমেন্টের সংশ্লিষ্ট স্থানে বিয়ারিং প্যাড সরে যাওয়া রোধে জরুরি কারিগরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা। বিয়ারিং প্যাড পড়ে যাওয়ার কারণ সুনিশ্চিতভাবে নির্ণয়ে তৃতীয় পক্ষের স্বাধীন পরামর্শকের মাধ্যমে ভায়াডাক্ট ও রেলপথের কাঠামোগত নকশা পর্যালোচনা করা। মেট্রোরেলের সার্বিক প্রকল্প নকশার ওপর তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিরীক্ষা করা। নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য দ্রুত কাঠামোগত স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা স্থাপন করা। মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও বিদেশি পরামর্শকদের কাছ থেকে স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের কাছে প্রযুক্তি হস্তান্তর নিশ্চিত করা।
এর আগে ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বরও কাছাকাছি স্থানে একটি বিয়ারিং প্যাড পড়ে গিয়েছিল। সে ঘটনার পর দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তাতে দুর্ঘটনার কোনো কারণ নিশ্চিত করা হয়নি। পর্যাপ্ত সময় পাওয়া সত্ত্বেও ঠিকাদার ও পরামর্শক বিস্তারিত প্রকৌশল বিশ্লেষণ করে মূল কারণ নির্ধারণ করেনি বলে এবারের তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে দায়দায়িত্ব কার, তা চিহ্নিত না করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সড়ক উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, ‘প্রতিবেদনটি ডিএমটিসিএলের বোর্ড সভায় দেওয়া হবে। তারা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে। মন্ত্রণালয় এটার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয়।’
প্রসঙ্গত, ডিএমটিসিএল (পুরো নাম ‘ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড’) হচ্ছে মেট্রোরেলের নির্মাণ ও পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ।

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকায় গত শুক্রবার সকালে একটি মাদ্রাসায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে নারী, শিশুসহ চারজন আহত হয়েছে। মাদ্রাসাটি শেখ আল আমিন নামের এক ব্যক্তি পরিচালনা করতেন। যিনি এর আগে নিষিদ্ধ উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুবার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। দেশের বিভিন্ন থানায়
৫ দিন আগে
অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২-এর বিশেষ অভিযানে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৮ হাজার ৫৯৭ জনকে। গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ৮৫টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
৮ দিন আগে
অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২-এর বিশেষ অভিযানে গত রোববার বিকেল থেকে সোমবার বিকেল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ৬৯৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ১৪টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল রোববার রাতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
১০ দিন আগে
জুলাই–আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আলোচিত মুখ ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদিকে গুলি করার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগে মাধ্যমে বহুল আলোচিত নাম ফয়সাল করিম মাসুদ কিংবা দাউদ খান। গতকাল শুক্রবার হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকেই এই দুই নামে এক ব্যক্তির ছবি ফেসবুকে ভেসে বেড়াচ্ছে।
১৯ দিন আগে