Ajker Patrika

কঙ্গোতে খনিতে ভূমিধস, দুই শতাধিক প্রাণহানি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১১: ৪৪
কঙ্গোতে খনিতে ভূমিধস, দুই শতাধিক প্রাণহানি
রুবায়া কোল্টান খনিতে ভূমিধসে খনিশ্রমিক, শিশু ও নারীসহ ২০০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। ছবি: এএফপির ভিডিও থেকে স্ক্রিনশট

আফ্রিকার খনিজ-সমৃদ্ধ দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে খনিতে ভূমিধসে দুই শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। উত্তর কিভু প্রদেশের প্রাদেশিক রাজধানী গোমা শহর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার (৩৭ মাইল) উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত রুবায়া কোল্টান নামের খনিটি গত বুধবার ধসে পড়ে।

নিটি যে প্রদেশের অধীনে, সেই প্রদেশে বিদ্রোহীদের নিযুক্ত গভর্নরের মুখপাত্র লুমুম্বা কাম্বেরে মুয়িসা রয়টার্স নিউজ এজেন্সিকে এই তথ্য জানিয়েছেন।

মুয়িসা রয়টার্সকে বলেন, ‘ভূমিধসে খনিশ্রমিক, শিশু ও নারীসহ ২০০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। কিছু মানুষকে তাৎক্ষণিক উদ্ধার করা সম্ভব হলেও তাঁরা গুরুতর আহত।’

প্রায় ২০ জন আহত ব্যক্তিকে বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান গভর্নরের মুখপাত্র।

তিনি আরও বলেন, ‘এখন বর্ষা মৌসুম চলছে। মাটি খুবই নরম ও ভঙ্গুর। ভুক্তভোগী ব্যক্তিরা যখন গর্তের ভেতরে ছিলেন, তখনই মাটি ধসে পড়ে।’

শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত হতাহতের সঠিক সংখ্যা জানা যায়নি বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠী কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত উত্তর কিভু প্রদেশের গভর্নর এরাস্তোঁ বাহাতি মুসাঙ্গা গতকাল শুক্রবার বার্তা সংস্থা এএফপিকে কিছু মরদেহ উদ্ধারের কথা জানান। তিনি নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা উল্লেখ না করলেও প্রাণহানির সংখ্যা অনেক বেশি হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রাদেশিক গভর্নরের একজন উপদেষ্টা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, নিহতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে গেছে। গণমাধ্যমকে তথ্য দেওয়ার অনুমতি না থাকায় তিনি নাম প্রকাশ করেননি।

এএফপি জানায়, গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা কোনো স্বাধীন সূত্রের মাধ্যমে নিহতের এই সংখ্যা নিশ্চিত করতে পারেনি।

রুবায়া খনিতে কর্মরত ফ্রাঙ্ক বলিঙ্গো নামের একজন খনিশ্রমিক এএফপিকে বলেন, এখনো খনির ভেতরে অনেক মানুষ আটকা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বলিঙ্গো বলেন, ‘বৃষ্টি হচ্ছিল, তারপরই ভূমিধস ঘটে আর মানুষকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। কেউ কেউ জীবিত অবস্থায় চাপা পড়েছেন, আর অনেকে এখনো খনির সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকে আছেন।’

বিশ্বের মোট কোল্টান উৎপাদনের প্রায় ১৫ শতাংশ আসে রুবায়া খনি থেকে। এই কোল্টান প্রক্রিয়াজাত করে ট্যানটালাম (tantalum) তৈরি করা হয়, যা একটি তাপ-প্রতিরোধী ধাতু। মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, মহাকাশযানের যন্ত্রাংশ এবং গ্যাস টারবাইন নির্মাতাদের কাছে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

যে খনিটিতে স্থানীয় মানুষেরা প্রতিদিন কয়েক ডলারের বিনিময়ে হাতে খুঁড়ে কাজ করেন। খনিটি ২০২৪ সাল থেকে রুয়ান্ডা-সমর্থিত এম ২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এর আগে খনিটির নিয়ন্ত্রণ কঙ্গো সরকার ও বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে বারবার বদলেছে।

সশস্ত্র এম২৩ বিদ্রোহীরা গত বছর এক ঝটিকা অভিযানের মাধ্যমে দেশের পূর্বাঞ্চলের আরও অনেক খনিজসমৃদ্ধ এলাকা দখল করে নেয়। তাদের ঘোষিত লক্ষ্য হলো রাজধানী কিনশাসা দখল করে কঙ্গো সরকারকে উৎখাত করা।

জাতিসংঘ এম২৩ বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে রুবায়ার খনিজ সম্পদ লুট করে নিজেদের বিদ্রোহের তহবিল সংগ্রহের এবং এতে রুয়ান্ডার সমর্থনের অভিযোগ এনেছে। তবে রুয়ান্ডার সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

কঙ্গোতে বিপুল খনিজ সম্পদ থাকা সত্ত্বেও দেশটির ৭০ শতাংশের বেশি মানুষ দৈনিক প্রতিদিন ২ দশমিক ১৫ মার্কিন ডলারের কম আয়ে জীবন যাপন করে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এখন টিভির ঘটনা সমঝোতার চেষ্টা করবেন তথ্যমন্ত্রী

ড. ইউনূস এখন কোথায় আছেন, নতুন প্রধানমন্ত্রী উঠবেন কোথায়?

২৬ ফেব্রুয়ারি বসতে পারে সংসদের প্রথম অধিবেশন, সভাপতিত্ব করবেন কে

ঈদের আগেই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু করবে সরকার, হবে সর্বজনীন

বৈধ সুবিধাকে অস্বীকার করে জনগণের সামনে সাধু সাজা হচ্ছে: নাহিদ ইসলাম

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত