Ajker Patrika

কৃষ্ণসাগরে আটকে আছে রুশ–ইউক্রেনীয় গম, অস্ট্রেলিয়া-আর্জেন্টিনার দ্বারস্থ এশীয় আমদানিকারকেরা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
কৃষ্ণসাগরে আটকে আছে রুশ–ইউক্রেনীয় গম, অস্ট্রেলিয়া-আর্জেন্টিনার দ্বারস্থ এশীয় আমদানিকারকেরা
কৃষ্ণসাগরে পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে রুশ বা ইউক্রেনীয় গমের চালান স্বাভাবিকভাবে বের হতে পারছে না। তাই এশিয়ার আমদানিকারকেরা অস্ট্রেলিয়া ও আর্জেন্টিনার মতো দেশের দ্বারস্থ হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

জাহাজ ও শস্য রপ্তানি অবকাঠামোয় হামলার কারণে কৃষ্ণসাগর অঞ্চল থেকে আসা গমের চালান বিলম্বিত হচ্ছে। ফলে বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিত করতে এশিয়ার গম আমদানিকারকেরা সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া ও আর্জেন্টিনা থেকে অন্তত ৫ লাখ মেট্রিক টন গম কেনার চুক্তি করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনটি বাণিজ্যিক সূত্র।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম গম আমদানিকারক ইন্দোনেশিয়াসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের আমদানিকারকেরা বিকল্প উৎস থেকে গম কিনতে আগের তুলনায় অনেক বেশি দাম দিচ্ছেন। কারণ, এসব দেশের কয়েকটি তাদের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে গম আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

আন্তর্জাতিক একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের এশিয়াভিত্তিক এক ব্যবসায়ী—যার প্রতিষ্ঠান এ অঞ্চলের ময়দা ও আটা উৎপাদনকারীদের গম সরবরাহ করে—বলেন, গত এক সপ্তাহ থেকে ১০ দিনের মধ্যে জরুরি চাহিদা পূরণে অস্ট্রেলিয়া ও আর্জেন্টিনার গম কেনার বেশ কিছু বড় আকারের চুক্তি হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে যেসব চালান এখনো পৌঁছায়নি, সেগুলোর পরিবর্তে আমদানিকারকরা বিকল্প চালান নেওয়ার চেষ্টা করছেন।’

রাশিয়া ও ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বন্দর ও জাহাজে হামলার কারণে শস্য টার্মিনালগুলোর কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে গম আমদানিকারকরা সরবরাহ সংকটের মুখে পড়েছেন। রপ্তানি মৌসুমের সবচেয়ে ব্যস্ত সময়ে এসে এই পরিস্থিতিতে কয়েক ডজন গমের চালান পাঠানো বিলম্বিত হয়েছে বা বাতিল করতে হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কৃষিপণ্য বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান এডিএম গত বুধবার জানায়, ৩১ আগস্ট একটি ড্রোন হামলায় ইউক্রেনের কৃষ্ণসাগরীয় বন্দর ওদেসায় তাদের ইউইপি শস্য টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ার প্রিমিয়াম হোয়াইট গমের জন্য ক্রেতারা প্রতি টনে প্রায় ৩১৫ থেকে ৩৩০ ডলার দাম দিয়েছেন। এই দামের মধ্যে পণ্য ও পরিবহন খরচ, অর্থাৎ কস্ট অ্যান্ড ফ্রেইট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার গমের চুক্তি হয়েছে প্রতি টনে প্রায় ৩১০ থেকে ৩১৫ ডলারে। এই দাম আগস্ট-সেপ্টেম্বর সময়ে পৌঁছানোর কথা থাকা বেশিরভাগ কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের গমের চালানের দামের তুলনায় অনেক বেশি। ওই চালানগুলো সাধারণত প্রতি টনে প্রায় ২৬০ থেকে ২৮০ ডলারে বুক করা হয়েছিল।

শিকাগো বোর্ড অব ট্রেড বা সিবিওটি-তে গমের বেঞ্চমার্ক ফিউচার জুনের শেষ দিক থেকে প্রায় ৩৫ শতাংশ বেড়েছে। এর প্রধান কারণ কৃষ্ণসাগর অঞ্চল থেকে গম সরবরাহে ঘাটতি। একই সঙ্গে আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী রপ্তানিকারক দেশগুলোর গমের নগদ বাজারের দামও বেড়েছে।

গত মঙ্গলবার সিবিওটির গমের দাম সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। এর পেছনে ছিল মস্কো কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে হামলা বন্ধে একটি সাময়িক স্থগিতাদেশ বা মোরাটোরিয়াম প্রত্যাখ্যান করেছে এমন খবর এবং রাতভর ইউক্রেনের বন্দর অবকাঠামোয় হামলা চালানোর ঘটনা।

এশিয়ার শস্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরবরাহের জন্য প্রায় ২০ লাখ থেকে ২৫ লাখ টন কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের গম বুক করেছে। এই পরিমাণ এশিয়ার মোট আমদানি চাহিদার প্রায় ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ। তবে ক্রমবর্ধমান জাহাজ চলাচলের বিলম্বের কারণে উদ্বেগ বাড়ছে যে, বুক করা গমের একটি অংশ হয়তো শেষ পর্যন্ত ক্রেতাদের কাছে পৌঁছাবে না।

ইন্দোনেশিয়া ছাড়াও বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা কৃষ্ণসাগর অঞ্চল থেকে গম আমদানি করে।

এদিকে, ক্রেতারা অস্ট্রেলিয়া ও আর্জেন্টিনা থেকে বড় পরিমাণে গম নিশ্চিত করলেও তাৎক্ষণিক চাহিদা মেটাতে কেউ কেউ কনটেইনারে করে গম আনার পথও বেছে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এশিয়াভিত্তিক দ্বিতীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘কিছু ময়দা উৎপাদনকারী কনটেইনারে গম আনা পছন্দ করছেন। কারণ তারা সরবরাহকারীদের সঙ্গে কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের চালান আরও কিছুদিন দেরিতে নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘তারা বেশি দামের গমের প্রতি অতিরিক্ত ঝুঁকি নিতে চান না। তাই তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটাতে তারা কনটেইনারে করে গম আনছেন।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত