
গ্রীষ্মকালীন পোশাকের অর্ডার বা ক্রয়াদেশ ঘিরে ভারতের তৈরি পোশাক নির্মাতাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আমদানিকারকদের আলোচনা থমকে গেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, ভারতীয় রপ্তানিকারকদের জন্য এই অর্ডারের মূল্য প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার।
এই আলোচনা থমকে যাওয়ার পেছনে কারণ হিসেবে রয়েছে—দেশীয় সরবরাহকারীদের অনিশ্চয়তা, ভারত যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য চুক্তি আলোচনার অনিশ্চয়তা। আর দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যচুক্তি হলে ঠিক কোন শুল্কহার কার্যকর হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, শরতের মধ্যেই চুক্তি সম্পন্ন হবে।
চুক্তি ছাড়া পরিস্থিতি আরও জটিল। কারণ, চুক্তি নিশ্চিত না হলে—গ্রীষ্মকালীন অর্ডারের বড় অংশ সরে যেতে পারে বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম কিংবা চীনের দিকে। কারণ, এসব দেশের ওপর ভারতের তুলনায় কম শুল্ক আরোপ হয়েছে। ভারতের ওপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ আমদানিকারকদের অন্য বাজারে ঝুঁকতে বাধ্য করছে। শিল্প খাতের সূত্র বলছে, অর্ডার সরে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে, আর গ্রীষ্মকালীন অর্ডার হারালে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভারতীয় তৈরি পোশাক শিল্পের একটি সূত্র জানিয়েছেন, ‘জ্বালানি সম্পর্কিত অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক যদি তুলে নেওয়া হয়, বা অন্তত জানিয়ে দেওয়া হয় যে—সমাধানের পথে এগোচ্ছে, তবে আমরা অর্ডার নিয়ে আবার আলোচনা শুরু করতে পারব। আর যদি চুক্তিই না হয়, তবে পুরো মনোযোগ অন্য বাজারে দিতে পারব। কিন্তু অনিশ্চয়তা আমাদের দুই দিকেই কাটছে।’
এই স্থবির আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ, ২০২৪ সালে ভারত যুক্তরাষ্ট্রে ১০ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের টেক্সটাইল ও পোশাক (টিঅ্যান্ডএ) রপ্তানি করেছে। বিশ্ববাজারে ভারতের মোট রপ্তানির ৮ দশমিক ২১ শতাংশ এসেছিল এ খাত থেকে। টেক্সটাইল ও পোশাকের সরবরাহ-শৃঙ্খল মূলত দেশীয়, কারণ প্রায় ৯০ শতাংশ কাঁচামালই ভারতে উৎপাদিত হয়। এতে খাতের শ্রমনির্ভর চরিত্র স্পষ্ট।
ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সেপ্টেম্বরের তথ্য বলছে, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ও অটোমোবাইল যন্ত্রাংশের মতো উচ্চ মুনাফার পণ্য অন্য বাজারে ঠিকই ঠাঁই পাচ্ছে, কিন্তু তৈরি পোশাক, বিশেষত তুলাভিত্তিক পোশাক, বাজারে টিকে থাকতে পারছে না। সেপ্টেম্বরেই রেডিমেড গার্মেন্টসের রপ্তানি ৬ শতাংশ কমে গেছে। তবু সরকার খাতকে সহায়তা দিতে কাঁচামালের ওপর শুল্ক শিথিল করেছে, টেক্সটাইল সরবরাহ-শৃঙ্খলে প্রভাব ফেলা বেশ কিছু গুণমান নিয়ন্ত্রণ আদেশ প্রত্যাহার করেছে এবং এমএসএমই খাতের কাঁচামালে প্রবেশাধিকার সহজ করেছে।
ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ফরেন ট্রেডের (আইআইএফটি) অধ্যাপক সুনীথা রাজুর একটি গবেষণা অনুযায়ী, ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ হলে যুক্তরাষ্ট্রের ভারতীয় টিঅ্যান্ডএ আমদানি চাহিদা ৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার কমবে, অর্থাৎ ৬৭ দশমিক ৮ শতাংশ হ্রাস পাবে। গবেষণা বলছে, এই নেতিবাচক প্রভাব সবচেয়ে তীব্র হবে ফাইবারে (৯৫ দশমিক ৮ শতাংশ), তারপর সুতা (৮৭ দশমিক ৫ শতাংশ) এবং ফেব্রিকস (৮২ দশমিক ৯ শতাংশ)। তবে পরিমাণে সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসবে মেড-আপস ও পোশাক খাতে, মোট ৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি, যা এই দুই খাতের ৮৫ শতাংশ রপ্তানি কমে যাওয়ার সমান।
ভারতের তুলনায় কম শুল্কহার পাওয়া প্রতিযোগী দেশগুলো, যেমন—চীন, ভিয়েতনাম ও বাংলাদেশ পোশাক খাতে বড় বাজার দখল করবে। আর মেড-আপসে এগিয়ে যাবে পাকিস্তান, মেক্সিকো ও চীন। শুল্কের এ বৈষম্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভারতের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থাকে গুরুতরভাবে দুর্বল করছে।
শুল্ক কমে ২৫ শতাংশ হলে নেতিবাচক চাহিদা-প্রভাব দাঁড়ায় প্রায় ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। এতে মোট আমদানি ২১ দশমিক ৬ শতাংশ কমে যাবে। পরিমাণ অনুসারে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে মেড-আপসে (৯২১ মিলিয়ন ডলার), এরপর পোশাক খাতে (৭৮৮ মিলিয়ন ডলার)। এই দুই খাত মিলে মোট ক্ষতির ৮১ শতাংশ ধরে রাখে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, টেক্সটাইল শিল্পে ছোট ও বড় প্রতিষ্ঠান পাশাপাশি থাকলেও রপ্তানিতে আধিপত্য বড় প্রতিষ্ঠানের। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক-ধাক্কা পুরো শিল্পকে আঘাত করে, কারণ এটি বহু দেশীয় সরবরাহকারীর মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। খাতের প্রায় ৭০ শতাংশ মূল্য নির্ভর করে মধ্যবর্তী উপকরণে। তাই প্রথম ধাপের পরোক্ষ ক্ষতি দাঁড়ায় ৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে টেক্সটাইল খাতেই ক্ষতি ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন।

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যাংকিংসেবা পৌঁছে দিতে চালু হওয়া এজেন্ট ব্যাংকিং এখন সারা দেশে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির বড় প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। ঘরের কাছেই লেনদেন, সঞ্চয় ও ঋণসুবিধা পাওয়ায় এ সেবার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ছে দ্রুত। ফলে গত এক বছরে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে গ্রাহকসংখ্যা বেড়েছে সাড়ে ১৭ লাখের বেশি।
৩ ঘণ্টা আগে
আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে পোশাক রপ্তানি ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার জাতীয় লক্ষ্য অর্জনে সরকারের পূর্ণ সহযোগিতার প্রত্যাশা করেছে তৈরি পোশাক খাতের মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। একই সাথে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডকে বিশ্ববাজারে শ্রেষ্ঠত্বের প্রতীক হিসেবে...
১০ ঘণ্টা আগে
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) তাদের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের (সাউথ এশিয়া ডিপার্টমেন্ট–এসএআরডি) মহাপরিচালক হিসেবে Sona Shrestha সোনা শ্রেষ্ঠাকে নিয়োগ দিয়েছে। এই পদে তিনি বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মালদ্বীপ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কায় এডিবির কৌশল ও কার্যক্রমের উন্নয়ন ও বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দেবেন।
২ দিন আগে
সাম্প্রতিককালে বিদ্যুতের উৎপাদন বৃদ্ধি ও আমদানির কারণে লোডশেডিংয়ের মাত্রা আগের তুলনায় কমেছে। তবে দেশের শিল্প খাতে জ্বালানির সংকট চলে আসছে বেশ কিছুদিন ধরে। গৃহস্থালির গ্যাস-সংযোগের লাখো গ্রাহক লাইনে গ্যাস না থাকলেও মাসে মাসে বিল দিয়ে যাচ্ছেন। আজ ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে আসতে...
৩ দিন আগে