Ajker Patrika

হ্যান্ডলিংয়ে রেকর্ড, আয়েও নতুন উচ্চতায় চট্টগ্রাম বন্দর

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
হ্যান্ডলিংয়ে রেকর্ড, আয়েও নতুন উচ্চতায় চট্টগ্রাম বন্দর

কনটেইনার, কার্গো ও জাহাজ হ্যান্ডলিং—তিন ক্ষেত্রেই নতুন রেকর্ড গড়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষ করেছে চট্টগ্রাম বন্দর। পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি রাজস্ব আয় ও উদ্বৃত্তেও ইতিহাস সৃষ্টি করেছে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরটি। বিদায়ী অর্থবছরে কর-পরবর্তী উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকার বেশি। একই সময়ে টার্মিনাল পরিচালনা থেকে রাজস্ব আয় বেড়েছে ২৬ দশমিক ৩১ শতাংশ।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী অর্থবছরে বন্দরে ৩৫ লাখ ৩১ হাজার ১১৮ টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। আগের অর্থবছরের তুলনায় এটি ২ লাখ ৩৫ হাজার ৫১ টিইইউস বা ৭ দশমিক ১৩ শতাংশ বেশি। একই সময়ে কার্গো হ্যান্ডলিং বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ কোটি ৮০ লাখ ৭২ হাজার ৮২৬ টনে, যা এক বছর আগের তুলনায় প্রায় ৭৩ লাখ ৪৮ হাজার টন বেশি। জাহাজ হ্যান্ডলিং হয়েছে ৪ হাজার ৩৩৬টি, যা আগের বছরের চেয়ে ২৫৯টি বেশি।

বন্দরের অপারেশনাল দক্ষতারও উন্নতি হয়েছে। কনটেইনারবাহী জাহাজের গড় অবস্থানকাল ২ দশমিক ৫৮ দিন থেকে কমে ২ দশমিক ৩৮ দিনে নেমে এসেছে। এতে জাহাজের অপেক্ষার সময় ও পরিচালন ব্যয় কমেছে, বেড়েছে বন্দরের সক্ষমতা।

আর্থিক সূচকেও রেকর্ড গড়েছে চট্টগ্রাম বন্দর। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট রাজস্ব আয় হয়েছে ৬ হাজার ৬২৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা। ব্যয় হয়েছে ২ হাজার ২৭৩ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। ফলে রাজস্ব উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩৫৫ কোটি ২১ লাখ টাকা। সরকারকে ৯৬০ কোটি ৪ লাখ টাকা কর পরিশোধের পর উদ্বৃত্ত ৩ হাজার ৩৯৫ কোটি ১৭ লাখ টাকা, যা বন্দরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। অন্যদিকে টার্মিনাল ম্যানেজার বিভাগের প্রত্যক্ষ রাজস্ব আয় এক বছরে ৩১৭ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৪০০ কোটি ৭৪ লাখ টাকায় পৌঁছেছে। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৬ দশমিক ৩১ শতাংশ।

চ্যানেল ড্রেজিংয়েও ব্যয় কমানোর সাফল্য দেখিয়েছে বন্দর। গত ছয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ব্যয়ে প্রতি ঘনমিটার ড্রেজিং খরচ ৩৭৫ টাকা ৬৭ পয়সায় নামিয়ে আনা হয়েছে। পরিকল্পিত ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে প্রায় ৪৪ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। পাশাপাশি নগরীর খাল ও জলপথে ড্রেজিং করায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনেরও প্রায় ৯০ কোটি টাকার ব্যয় সাশ্রয় হয়েছে।

ডিজিটাল সেবায়ও বড় অগ্রগতি হয়েছে। বন্দরের সব গেটে শতভাগ ই-গেট পাস চালু হওয়ায় কাগজবিহীন প্রক্রিয়ায় প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজার যানবাহন প্রবেশ ও বের হচ্ছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে বন্দরের টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেমের (টিওএস) সরাসরি সংযোগ স্থাপনের ফলে কাস্টমস কার্যক্রম আরও দ্রুত হয়েছে। ‘সিপিএ এসকেওয়াই’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কাস্টমস, ব্যাংক, শিপিং এজেন্ট ও অন্যান্য অংশীজনকে একই ডিজিটাল নেটওয়ার্কে আনা হয়েছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাতেও ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মূল্যায়নে চট্টগ্রাম বন্দর ‘জিরো অবজারভেশন’ অর্জন করেছে। বহির্নোঙরে ডাকাতি ও চুরির ঘটনাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত