Ajker Patrika

বিবিএসের জরিপ: ইন্টারনেট ব্যবহার করে না ৪৬.৬% মানুষ

  • ইন্টারনেট ব্যবহার সবচেয়ে বেশি ঢাকায়
  • সবচেয়ে কম ইন্টারনেট ব্যবহার পঞ্চগড়ে
  • অনলাইনে কেনাকাটা করেছে ১১.৬%
‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
বিবিএসের জরিপ: ইন্টারনেট ব্যবহার করে না ৪৬.৬% মানুষ

দেশে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারের বিস্তার দ্রুত বাড়লেও প্রযুক্তিগত অন্তর্ভুক্তি এখনো অসম ও অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়লেও দক্ষতা, নিরাপত্তা সচেতনতা এবং সমান সুযোগ নিশ্চিত হয়নি—এমন চিত্রই উঠে এসেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘আইসিটি ব্যবহারের সুযোগ ও প্রয়োগ পরিমাপ’ শীর্ষক সবশেষ জরিপে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পরিসংখ্যান ভবনে জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। জরিপ অনুযায়ী, দেশের মোট জনসংখ্যার ৫৩ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে। তবে এই ব্যবহার সমানভাবে বিস্তৃত নয়। পুরুষ ব্যবহারকারী ৫৬ দশমিক ৬ শতাংশ হলেও নারী ব্যবহারকারী ৫০ দশমিক ২ শতাংশ; যা ডিজিটাল ব্যবহারে লিঙ্গবৈষম্যের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। জরিপে আরও বলা হয়, উচ্চ খরচের কারণে ৪৬ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহারে অনাগ্রহী বা নিয়মিত ব্যবহার থেকে দূরে রয়েছে।

শহর-গ্রাম বিভাজন এখানে আরও তীব্র। শহরাঞ্চলে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর হার ৭৫ দশমিক ৭ শতাংশ, অথচ গ্রামে মাত্র ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ। অর্থাৎ দুই অঞ্চলের মধ্যে ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ১ শতাংশ পয়েন্টে। এই বৈষম্য প্রযুক্তি ব্যবহারের সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিকে অসম করে তুলছে।

ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির বড় বাধা হিসেবে উঠে এসেছে ডিভাইসের সীমিত প্রাপ্যতা। গ্রামীণ পরিবারের মাত্র ৩ দশমিক ৬ শতাংশের কম্পিউটার রয়েছে, যেখানে শহরে এই হার ২১ দশমিক ১ শতাংশ। ব্যক্তিগত পর্যায়ে গ্রামে মাত্র ৫ শতাংশ মানুষ কম্পিউটার ব্যবহার করে, শহরে তা ২৫ দশমিক ৬ শতাংশ। ফলে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা শহরকেন্দ্রিক থেকে যাচ্ছে।

আঞ্চলিক পর্যায়ে ঢাকায় ইন্টারনেট ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। বিপরীতে পঞ্চগড়ে সবচেয়ে কম ব্যবহার লক্ষ করা গেছে। কম্পিউটার ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ঢাকার পরিবারগুলো এগিয়ে, আর ঠাকুরগাঁও সবচেয়ে পিছিয়ে। এই তথ্যপ্রযুক্তি প্রবেশাধিকারের ভৌগোলিক বৈষম্যকে আরও স্পষ্ট করে।

প্রযুক্তি ব্যবহারের ধরন বিশ্লেষণেও সীমাবদ্ধতা দেখা গেছে। দেশে ৮৮ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করে, তবে নিজস্ব মোবাইল ফোন রয়েছে ৬৪ দশমিক ৪ শতাংশের। কম্পিউটার ব্যবহারকারীর হার মাত্র ১১ দশমিক ৩ শতাংশ। ফলে ডিজিটাল ব্যবহার মূলত মোবাইলকেন্দ্রিক থেকে যাচ্ছে, যা উন্নত দক্ষতা গঠনে সীমাবদ্ধতা তৈরি করছে।

দক্ষতার দিক থেকে মৌলিক কাজেই সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট। কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের মধ্যে ৮৪ দশমিক ৪ শতাংশ কপি-পেস্ট করতে পারে। ফাইল পাঠাতে বা স্প্রেডশিট ফর্মুলা ব্যবহার করতে পারে অর্ধেকের কিছু বেশি। অ্যাপ ইনস্টল করতে পারে প্রায় ৪০ শতাংশ এবং প্রেজেন্টেশন সফটওয়্যার ব্যবহার করে প্রায় ৩০ শতাংশ। তবে ফাইল ট্রান্সফারের মতো জটিল কাজে দক্ষতা রয়েছে মাত্র ১৫ শতাংশের কাছাকাছি ব্যবহারকারীর।

উন্নত ডিজিটাল দক্ষতার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। ফাইল ট্রান্সফার, সফটওয়্যার সেটিংস বা জটিল ডিভাইস ব্যবস্থাপনার মতো কাজ করতে পারে মাত্র ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ। অর্থাৎ প্রায় ৮৪ শতাংশ ব্যবহারকারী এখনো প্রযুক্তির গভীর ব্যবহারে পিছিয়ে।

নিরাপত্তা সচেতনতার ক্ষেত্রেও মিশ্র চিত্র পাওয়া গেছে। ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যবহারকারী জানিয়েছে, সাইবার আক্রমণের ক্ষেত্রে তারা ব্যবস্থা নিতে সক্ষম। তবে ৫০ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যবহারকারীর কাছে ভাইরাস ও ম্যালওয়্যার বড় হুমকি হিসেবে রয়ে গেছে।

ব্যবহারের উদ্দেশ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত তিন মাসে ৬৪ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ সরকারি চাকরি-সংক্রান্ত তথ্য অনুসন্ধান করেছে। খেলাধুলা-বিষয়ক তথ্য দেখেছে ৪৯ দশমিক ৮ শতাংশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভিডিও কনটেন্ট ব্যবহারের প্রবণতাও বেশি। তবে অনলাইনে কেনাকাটা করেছে মাত্র ১১ দশমিক ৬ শতাংশ ব্যবহারকারী; যা ডিজিটাল অর্থনীতির সম্ভাবনার তুলনায় এখনো সীমিত অগ্রগতির ইঙ্গিত দেয়।

অনুষ্ঠানে জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করেন প্রকল্প পরিচালক সৈয়দা মারুফা শাকি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব আলেয়া আক্তার। উপস্থিত ছিলেন বিবিএস মহাপরিচালক মো. ফরহাদ সিদ্দিকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত