এমসিসিআইয়ের প্রতিবেদন

দেশের অর্থনীতি সামগ্রিকভাবে ইতিবাচক ধারায় আছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) অর্থনৈতিক সূচকে কিছু পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দেখা দিয়েছে। গতকাল সোমবার মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) প্রকাশিত পর্যালোচনা প্রতিবেদনে এমন তথ্য তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত অর্থবছরের চতুর্থ প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে ৩ দশমিক ৩৫ শতাংশে নেমেছিল, যেখানে এর আগের তৃতীয় প্রান্তিকে ছিল ৪ দশমিক ৮৬ শতাংশ। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড মন্থর হওয়ার ফলে চাহিদা দুর্বল এবং বিনিয়োগ কমে গেছে। এ কারণে জিডিপির প্রবৃদ্ধিতেও ধীরগতি দেখা দেয়। তবে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে রপ্তানি, আমদানি, মূল্যস্ফীতি ও রেমিট্যান্স প্রবাহের উন্নতি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে স্থিতিশীল করেছে এবং সামগ্রিক অর্থনীতিকে সহায়তা করেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশে নেমে এসেছে। যদি এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকে, তবে আগামী ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশে নামতে পারে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরেছে। ২০২৫ সালের জুনের শেষের তুলনায় সেপ্টেম্বর শেষে ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্য শূন্য দশমিক ৭৯ শতাংশ বেড়েছে। তবে গত বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় ১ দশমিক ৫০ শতাংশ কমেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, নিট বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ১৭৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩১৮ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যেখানে গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১১৪ মিলিয়ন ডলার। তবে বাংলাদেশে এফডিআই এখনো অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় কম। মানবসম্পদ রপ্তানি ৬৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩ লাখ ৯ হাজার ৯৪৫ জন হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের ১ লাখ ৮৯ হাজার ৫৮০ জনের তুলনায় অনেক বেশি।
এমসিসিআইয়ের পর্যালোচনায় দেখা যায়, জুলাই-সেপ্টেম্বর মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়ে ৭ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের ৬ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ১৫ দশমিক ৯৪ শতাংশ বেশি। সেপ্টেম্বর ২০২৫ শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলারে, যা সেপ্টেম্বর ২০২৪-এর ২৪ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।
চলতি প্রান্তিকে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ছিল ৫ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ, যেখানে জুলাই মাসে প্রায় ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি দেখা গিয়েছিল। তবে আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে রপ্তানি যথাক্রমে ৩ দশমিক ৭০ এবং ৫ দশমিক ১০ শতাংশ কমে যাওয়ায় গড় প্রবৃদ্ধি কমে এসেছে। প্রথম প্রান্তিকে রপ্তানি আয় ১২ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলার, যার ৮০ দশমিক ৮৫ শতাংশই তৈরি পোশাক থেকে এসেছে।

‘অর্থনৈতিক গণতান্ত্রিকীকরণ ও বিকেন্দ্রীকরণ: ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন। ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই সম্প্রসারণমূলক বাজেটের মাধ্যমে সরকার একদিকে মূল্যস্ফীতির....
২ ঘণ্টা আগে
বিশ্বের সবচেয়ে বড় পোশাক বাজার যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের অবস্থান ক্রমেই দুর্বল হচ্ছে। চলতি বছরের প্রথম চার মাসে দেশটিতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে ১১ দশমিক ২৪ শতাংশ। একই সময়ে দেশটিতে বাংলাদেশের প্রতিযোগী দেশ ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়া প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে।
২ ঘণ্টা আগে
দেশের অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা ফিরেছে, বেড়েছে মাথাপিছু আয়ও। তবে একই সঙ্গে বিনিয়োগ ও সঞ্চয়ে নিম্নমুখী প্রবণতা এবং শিল্প খাতের ধীরগতি অর্থনীতির ভেতরের দুর্বলতাকে সামনে এনেছে। অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, প্রবৃদ্ধির এই পুনরুদ্ধার এখনো ভঙ্গুর; কারণ, বেসরকারি বিনিয়োগ ও আস্থার ঘাটতি পুরোপুরি কাটেনি।
৪ ঘণ্টা আগে
সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ভাতা ও ফ্যামিলি কার্ডসহ অন্যান্য ভাতা বিতরণে মোবাইল আর্থিক সেবা নগদের প্রতি ভাতাভোগীদের আস্থা আরও দৃঢ় হয়েছে। চলতি বছরের ১ মে থেকে এখন পর্যন্ত সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১ কোটি ৫৯ লাখ...
১১ ঘণ্টা আগে