Ajker Patrika

বাংলা কিউআর: নভেম্বর থেকে ব্যক্তির টাকা যাবে ব্যক্তির কাছে

  • ৯০ দিনে বাংলা কিউআর লেনদেন বেড়েছে সাড়ে তিন গুণ।
  • লেনদেনের অর্থমূল্য বেড়েছে পাঁচ গুণ।
  • আজ থেকে বাংলা কিউআরে খরচ কমছে।
  • ৩৯ লাখ মার্চেন্টে বাংলা কিউআর পেমেন্টের সুযোগ।
‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
বাংলা কিউআর: নভেম্বর থেকে ব্যক্তির টাকা যাবে ব্যক্তির কাছে
ছবি: সংগৃহীত

দেশে বাংলা কিউআরভিত্তিক ডিজিটাল লেনদেনে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। চলতি বছরের জুনে এ পদ্ধতিতে লেনদেন চালুর পর মাত্র ৯০ দিনে লেনদেনের সংখ্যা বেড়েছে সাড়ে তিন গুণ। একই সময়ে লেনদেনের অর্থমূল্য বেড়েছে প্রায় পাঁচ গুণ। এই প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় বাংলা কিউআরকে আরও সহজ ও বিস্তৃত করে তৃণমূল পর্যায়ে নিতে নতুন সুবিধা চালু করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মার্চেন্টদের জন্য ঘোষিত নতুন সুবিধা আজ ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হচ্ছে। এর পাশাপাশি আগামী ১ নভেম্বর থেকে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির কাছে (পিটুপি) অর্থ পাঠানোর সুবিধাও চালু হবে।

গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। এ সময় পেমেন্ট সিস্টেম বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মুখপাত্র বলেন, গত জুনে চালুর পর বাংলা কিউআরে দৈনিক গড়ে প্রায় ১ লাখ লেনদেন হতো। এসব লেনদেনের গড় আর্থিক মূল্য ছিল ২৮ কোটি টাকার বেশি। বর্তমানে দৈনিক গড়ে ৩ লাখ ৫০ হাজার লেনদেন হচ্ছে। এর আর্থিক মূল্য দাঁড়িয়েছে ১৪৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।

আরিফ হোসেন বলেন, বর্তমানে ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) গ্রাহকেরা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ৩৯ লাখ মার্চেন্ট প্রতিষ্ঠানে বাংলা কিউআর স্ক্যান করে অর্থ পরিশোধ করতে পারছেন।

এর আগে দেশে ক্যাশলেস লেনদেন বাড়াতে গত ১ জুলাই থেকে সব ধরনের নিজস্ব কিউআরের পরিবর্তে সর্বজনীন বাংলা কিউআর ব্যবহারের উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ব্যবহার বাড়াতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ খাতকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আজ ১ অক্টোবর থেকে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে পরিশোধ করা অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট মার্চেন্টের হিসাবে জমা হবে। ফলে পণ্য বা সেবার মূল্য পরিশোধের পর অর্থ পাওয়ার জন্য মার্চেন্টকে আর অপেক্ষা করতে হবে না। একই সঙ্গে অধিগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্ধারিত ন্যূনতম ১ শতাংশ মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) বাতিল করা হচ্ছে। পাশাপাশি ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানের ইন্টারচেঞ্জ রিইম্বার্সমেন্ট ফি (আইআরএফ) শূন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে মার্চেন্ট পর্যায়ে বাংলা কিউআর ব্যবহারের খরচ কমবে। ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলো বিনা খরচে বা নামমাত্র খরচে এ সেবা দেবে।

এ ছাড়া জাতীয় পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশের মাধ্যমে মার্চেন্ট পয়েন্টে হওয়া প্রতিটি বাংলা কিউআর লেনদেনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা পর্যন্ত অংশের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক প্রণোদনা দেবে। অধিগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান লেনদেনের শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ এবং ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ হারে এ প্রণোদনা পাবে।

এদিকে আগামী ১ নভেম্বর থেকে বাংলা কিউআর দিয়ে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির কাছে টাকা পাঠানো যাবে। এ ক্ষেত্রে একজন গ্রাহক অন্য গ্রাহকের বাংলা কিউআর স্ক্যান করে অথবা সংশ্লিষ্ট মোবাইল অ্যাপে কিউআর কোডের ছবি আপলোড করে আন্তপ্রতিষ্ঠান অর্থ স্থানান্তর করতে পারবেন। লেনদেন ব্যর্থ হলে দ্রুত অর্থ ফেরত এবং অভিযোগ ও বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। এ বিষয়ে গত ২৭ সেপ্টেম্বর নির্দেশিকা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলা কিউআর লেনদেনে কোনো অভিযোগ থাকলে গ্রাহকেরা বাংলাদেশ ব্যাংকের হটলাইন ১৬২৩৬ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ামাত্র তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংক সেটি নিষ্পত্তি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র বলেন, ‘অনেকে মনে করছেন, বাংলা কিউআর কোডের সম্প্রসারণে তাঁদের ব্যবসা কমে যাবে, আসলে তাঁরা বোকার স্বর্গে বাস করছেন। যারা বাংলা কিউআরের সঙ্গে থাকবে না, তাদের অস্তিত্বও থাকবে না।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত