
দেশে ধীরে ধীরে বিদেশি উন্নয়ন সহায়তার প্রবাহ কমে যাচ্ছে। এর প্রভাব স্পষ্ট হতে শুরু করেছে এনজিও খাতে; বিশেষ করে যাদের কার্যক্রমের প্রায় পুরো অর্থ আসে বিদেশি অনুদান থেকে—এমন ২ হাজার ২০০ ছোট এবং মাঝারি এনজিও এতে সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে পড়েছে। দেখা দিয়েছে অর্থায়ন-সংকট।
নতুন প্রকল্পের অনুমোদন কমে যাওয়ার বিপরীতে পুরোনো প্রকল্পের অর্থ শেষ হওয়ার পর এসব প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ অর্থায়ন কোথা থেকে আসবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে উঠছে। দ্রুত এই পরিস্থিতি না বদলালে এবং চলমান অর্থের সংকট দীর্ঘ হলে দেশে এসব এনজিওর মাধ্যমে পরিচালিত শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পানি-স্যানিটেশন, জলবায়ু ও অন্যান্য সামাজিক সেবা প্রাপ্তি চরম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) আয়োজিত ‘বিদেশ-নির্ভরতা পেরিয়ে: বাংলাদেশে এনজিও অর্থায়নের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণাটি উপস্থাপন করেন বিআইডিএসের গবেষণা পরিচালক ড. কাজী ইকবাল।
গবেষণায় এনজিওবিষয়ক ব্যুরো ও ক্ষুদ্রঋণ নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের তথ্য বিশ্লেষণের পাশাপাশি ৪৬টি এনজিওর জরিপ, জাতীয় পরামর্শ সভা, উত্তরাঞ্চলের এনজিও নিয়ে আলোচনা ও বিশেষজ্ঞদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে।
বিদেশি সহায়তায় বড় পতন: ২০২৫ সালে ধনী দেশগুলোর উন্নয়ন সহায়তা প্রকৃত মূল্যে ২৩ শতাংশ কমেছে। বিগত সময়ের তুলনায় এক বছরে সহায়তা কমার হিসাবে এটিই সর্বোচ্চ হার। যুক্তরাষ্ট্রের ইউএসএআইডি বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফ্রান্সের আগামী কয়েক বছরের সহায়তা বাজেট কমানোর কারণে এ সংকট ঘনীভূত হয়েছে, যাকে সাময়িক সংকট বিবেচনায় না নিয়ে বরং দাতা দেশগুলোর ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তে কাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যদিও বাংলাদেশে এর পুরো প্রভাব এখনো দেখা যায়নি। আগে অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর অর্থ এখনো ছাড় হচ্ছে। সবশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এসব প্রকল্পে ১০ হাজার ১৪৩ কোটি টাকা ছাড় হয়েছে। তবে নতুন প্রকল্প অনুমোদন কমেছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে এনজিও খাতে ২ হাজার ৬১টি প্রকল্প অনুমোদিত হলেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা নেমে এসেছে ১ হাজার ৬৫৪টিতে। ফলে পুরোনো প্রকল্পের অর্থ শেষ হলে সংকট আরও বাড়তে পারে।
৪৬টি এনজিওর ওপর পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, বিদেশি অনুদাননির্ভর সেবাধর্মী এনজিওগুলোর বাজেট গড়ে ৪০ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম থাকা এনজিওগুলোর বাজেট কমেছে প্রায় ১২ শতাংশ। অর্থাৎ নিজস্ব আয় বা ক্ষুদ্রঋণভিত্তিক অর্থের উৎস থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো তুলনামূলকভাবে সংকট সামাল দিতে পারছে। অনুদাননির্ভর ছোট ও মাঝারি এনজিওগুলোর বিকল্প অর্থের উৎস সীমিত বলেই ২ হাজার ২০০ প্রতিষ্ঠান এতে বড় রকমের ঝুঁকিতে রয়েছে।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, অর্থের সংকট হলে প্রথম ধাক্কা পড়বে মাঠপর্যায়ের সামাজিক সেবায়। স্থায়ী ব্যয় বহাল থাকায় অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মসূচি বা কর্মীর সংখ্যা কমাতে বাধ্য হতে পারে। কেউ কেউ টিকে থাকার জন্য সামাজিক কার্যক্রম কমিয়ে ক্ষুদ্রঋণ বা আয়মূলক কার্যক্রমে যাওয়ার চেষ্টা করতে পারে। এতে প্রত্যন্ত অঞ্চলে দরিদ্র মানুষের কাছে এনজিওগুলোর যোগাযোগ এবং সেবা দেওয়ার সক্ষমতা দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সরকারি অর্থে যুক্ত করার প্রস্তাব: সংকট মোকাবিলায় গবেষণায় সরকারি ব্যয় ও প্রকল্পে এনজিওকে যুক্ত করা, করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) অর্থ ব্যবহার, সামাজিক ব্যবসা এবং নতুন ধরনের অর্থায়ন ব্যবস্থা—এই চারটি বিকল্প অর্থায়নের উৎসে জোর দেওয়া হয়েছে।
গবেষকদের মতে, বড় পরিসরে অর্থ জোগানের সক্ষমতা মূলত সরকারেরই রয়েছে। বিদেশি অনুদানের পরিমাণ বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির মাত্র ৩ দশমিক ৪ শতাংশের সমান। ২০২৫ সালের সরকারি ক্রয়বিধিতে সরকারি সেবা প্রদানে এনজিওকে যুক্ত করার সুযোগ রাখা হলেও বাস্তবে তা খুব কম ব্যবহার করা হচ্ছে। এনজিওগুলোর প্রত্যন্ত এলাকায় পৌঁছানোর সক্ষমতা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠী সম্পর্কে জ্ঞান কাজে লাগিয়ে কিছু সেবা সরকার একা দেওয়ার পরিবর্তে যৌথভাবে দেওয়া হলে ব্যয় কমার পাশাপাশি কার্যকারিতাও বাড়তে পারে।
সিএসআরেও সংকোচন: বিদেশি অনুদানের বিকল্প অর্থের উৎস হিসেবে সিএসআরকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হলেও এখানেও সংকোচন দেখা দিয়েছে। ব্যাংকগুলোর সিএসআর ব্যয় ২০২৫ সালে ৩৪৫ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। ফলে বিদেশি অনুদানের বড় ঘাটতি এককভাবে সিএসআর দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়। সামাজিক ব্যবসা ও নতুন আর্থিক ব্যবস্থাও বিকল্প হতে পারে। যদিও এতে ছোট এনজিওগুলোর ক্ষেত্রে বন্ড বা ফলভিত্তিক অর্থায়নে প্রয়োজনীয় জামানত, ঋণ পোর্টফোলিও ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে।
যোগ্য এনজিওর তালিকা: সংকট মোকাবিলায় যোগ্য এনজিওগুলোর একটি উন্মুক্ত তালিকা তৈরির সুপারিশ করেছে বিআইডিএস। তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারি ক্রয়, সিএসআরসহ বিভিন্ন তহবিল ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সরকারি ক্রয়বিধিতে এনজিওকে সেবা প্রদানকারী হিসেবে যুক্ত করার বিধান কার্যকর করতে আলাদা নির্দেশিকাও চাওয়া হয়েছে।
ছোট ও মাঝারি এনজিওর জন্য এনজিও ফাউন্ডেশন ও পিকেএসএফের মাধ্যমে তহবিল গঠন, সিএসআর নীতিতে যোগ্য বাস্তবায়নকারী সংস্থা ও নির্দিষ্ট অর্থ বরাদ্দ এবং সামাজিক ব্যবসার আইনি স্বীকৃতি ও কর সুবিধা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের কথা অর্থমন্ত্রীর: অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিদেশি অনুদানের ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে। দেশের প্রয়োজন এবং সরকারের অগ্রাধিকার অনুযায়ী এনজিওগুলোর সক্ষমতাকে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়ে একটি নীতিকাঠামো তৈরি প্রয়োজন। সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করলে উন্নয়ন ও সামাজিক সুরক্ষায় এনজিওগুলোর মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর পাশাপাশি সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশেও আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। সম্মানিত অতিথি ছিলেন পরিকল্পনাসচিব এস এম শাকিল আখতার। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিআইডিএসের মহাপরিচালক অধ্যাপক এ কে এনামুল হক।

অর্থনীতির ধীরগতির কারণে দেশে দারিদ্র্য ও বৈষম্য বাড়ছে। কমছে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান। গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটে ব্যাহত হচ্ছে শিল্প উৎপাদন। উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে কমছে মানুষের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতা। এমন পরিস্থিতিতে গত অর্থবছরে নতুন করে প্রায় ২১ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে পড়েছে। সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারগুলোর প্রায়
১৮ মিনিট আগে
কিউ-ক্যাশ পেমেন্ট গেটওয়ের জরুরি সিস্টেম মাইগ্রেশনের কারণে এর আওতায় থাকা ৩৫টির মধ্যে প্রায় ৩০টি ব্যাংকের বিভিন্ন কার্ড ও ডিজিটাল লেনদেন সেবা বন্ধ রয়েছে। ৪ অক্টোবর রাত ৯টা থেকে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম চলবে ১০ অক্টোবর দুপুর ১২টা পর্যন্ত। এতে এটিএম বুথ থেকে টাকা উত্তোলন, পয়েন্ট অব সেল (পিওএস)...
৪ ঘণ্টা আগে
প্রজনন মৌসুমে আগামী ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশে ইলিশ আহরণে সরকারের ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে সহায়তার লক্ষ্যে নাগরিক উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)। এ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে প্রজননক্ষম ইলিশ সংরক্ষণে অংশীজনদের নিয়ে পরামর্শ ও মতবিনিময় সভা...
১০ ঘণ্টা আগে
বেসরকারি বিনিয়োগ ও রপ্তানি কমে যাওয়া, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা এবং গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে ৩ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত হওয়ার কারণে দেশে দারিদ্র্য এবং আয়বৈষম্য দুই-ই বেড়েছে।
১৪ ঘণ্টা আগে