Ajker Patrika

বছরে তিনবার ফলন, কাটিমনে ঝোঁক

  • অফ সিজনে প্রতি কেজির দাম ২০০ টাকা
  • রাজশাহীর আট শতাধিক প্রদর্শনী বাগানে চাষ
  • ২০১৪ সালে পরীক্ষামূলক চাষ শুরু
সাইফুল মাসুম, রাজশাহী থেকে ফিরে
বছরে তিনবার ফলন, কাটিমনে ঝোঁক
গাছে গাছে ঝুলছে প্যাকিং করা কাটিমন আমের থোকা। রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার দেওপাড়া এলাকা থেকে তোলা। ছবি: আজকের পত্রিকা

আমের মৌসুম শেষ হয়েছে দুই মাস আগে। অথচ রাজশাহীর গোদাগাড়ীর বাগানে এখনো গাছে গাছে ঝুলছে আম। কয়েক দিন পরই এসব আম বিক্রি হবে বাজারে। মৌসুমের বাইরে হওয়ায় দামও মিলছে বেশি। প্রচলিত জাতের আম যেখানে মৌসুমে প্রতি কেজি ২০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হয়, সেখানে কাটিমন আমের দাম ২০০ টাকা। পুরোনো আমগাছে নতুন জাতের কলম বসিয়ে এমন বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করেছেন রাজশাহীর অনেক চাষি।

গোদাগাড়ী উপজেলার দেওপাড়া এলাকার নাহিদা আক্তারের বাগানে এখন কাটিমন আমের পরিচর্যায় ব্যস্ত শ্রমিকেরা। ৫০ শতকের বাগানটিতে রয়েছে ১ হাজার ৬০০ আমগাছ। একসময় এসব গাছে হতো মৌসুমি আম। ফলন কমে যাওয়া এবং প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় গাছগুলো কেটে নতুন বাগান করেননি নাহিদা। পুরোনো গাছেই কলম বসিয়ে শুরু করেছেন থাইল্যান্ডের বারোমাসি জাতের কাটিমন আমের চাষ।

এ পদ্ধতির নাম টপ ওয়ার্কিং। এতে পুরোনো বা কম ফলনশীল গাছ না কেটে তার ডালে উন্নত জাতের কলম বসানো হয়।

দেওপাড়ার আরেক চাষি মনিরুল ইসলামও পুরোনো আমগাছে কাটিমনের কলম বসিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আগে মৌসুমে আম বিক্রি করে প্রতি কেজি ২০ থেকে ৫০ টাকা পেতাম, এখন কাটিমন আম বছরে তিনবার ধরে। এই আম ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাইকারেরা বাগান থেকে আম কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।’

মনিরুলের মতো চাষিদের কাছে কাটিমনের আকর্ষণ শুধু বেশি দাম নয়, মৌসুমের বাইরে ফলন পাওয়ার সুযোগও। প্রচলিত আমের বাজার কয়েক মাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও কাটিমন থেকে বছরের বিভিন্ন সময়ে আয় করা যায়। এতে একই বাগান থেকে একাধিক দফায় ফল বিক্রির সুযোগ তৈরি হচ্ছে। ফলে পুরোনো বাগানকে লাভজনক করে তুলতে কাটিমনের দিকে ঝুঁকছেন চাষিরা।

রাজশাহী অঞ্চলে এই প্রবণতা বাড়ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজশাহী বিভাগের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এক হাজারের বেশি আম চাষের প্রদর্শনী করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে আট শতাধিক প্রদর্শনী বাগানে রয়েছে কাটিমন আম। প্রতিটি প্রদর্শনী বাগানের আয়তন এক একর। রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁসহ আম উৎপাদনপ্রধান জেলাগুলোতে টপ ওয়ার্কিং পদ্ধতিতে এই জাতের সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় চাষিদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি কাটিমনের কলম, সার ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছে।

প্রকল্পের পরিচালক এস এম হাসানুজ্জামান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমের পুরোনো জাত বাদ দেওয়া হচ্ছে না। যেসব গাছে ফলন হচ্ছে না বা কমে গেছে, সেসব গাছে নতুন জাতের কলম বসানো হচ্ছে। কাটিমন আমগাছে বছরে তিনবার ফলন আসে। এ জাতের আমের বাজারমূল্যও বেশি।’

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রচলিত জাতের আম সাধারণত বছরে একবার ফলন দেয়। মে থেকে আগস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত থাকে আমের প্রধান মৌসুম। কাটিমন গাছে একাধিকবার ফুল ও ফল আসায় মৌসুমের বাইরেও আম বাজারজাত করা সম্ভব।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে থাইল্যান্ড থেকে দুই হাজার চারা এনে পরীক্ষামূলকভাবে কাটিমন আমের চাষ শুরু করে সংস্থাটি। বর্তমানে দেশে প্রায় সাত হাজার একর জমিতে এই জাতের বাণিজ্যিক চাষ হচ্ছে। এর বড় অংশ রাজশাহী বিভাগের আম উৎপাদনপ্রধান জেলাগুলোতে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুর রহিম আজকের পত্রিকাকে বলেন, কাটিমন আমের সম্প্রসারণের ফলে বাজারে এখন সারা বছর আম পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। চাষিরাও এই আমের ভালো দাম পাচ্ছেন। কাটিমন সম্প্রসারণে অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্প ও হর্টিকালচার সেন্টার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত