ঠাকুরগাঁওয়ে ছয় দিনের ব্যবধানে চারজনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে তিনজনের মৃত্যুর ঘটনায় উঠে এসেছে ঋণের বোঝা ও আর্থিক সংকটের বিষয়টি। অন্য একজন দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলে জানিয়েছে তাঁর পরিবার। গত মঙ্গলবার থেকে আজ সোমবার পর্যন্ত জেলার সদর ও ভূল্লী থানা এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।
আজ সোমবার সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রাম থেকে প্রকাশ চন্দ্র রায় (৫৪) নামের এক কৃষকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের ভাষ্য, বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে আর্থিক সংকটে পড়েছিলেন প্রকাশ। ঋণ পরিশোধ ও সংসারের খরচ মেটাতে একটি জমিও বিক্রি করেন তিনি। জমি বিক্রির টাকা নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। পরে গ্রামের একটি পুকুরপাড়ে আমগাছের ডালে তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান স্থানীয় লোকজন।
এর আগে গত মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) ঠাকুরগাঁও পৌরসভার পশ্চিমপাড়া গোবিন্দনগর এলাকা থেকে আরিফ পারভেজ ওরফে পাপ্পু (৩১) নামের এক মিনিবাসের হেলপারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের দাবি, বিভিন্নজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ করতে না পারায় দুশ্চিন্তায় ছিলেন তিনি। ঘটনার দিন সকালে জানালা দিয়ে ঘরের ভেতরে তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান স্বজনেরা।
গত শনিবার ভূল্লী থানার ছোট বালিয়া বানিয়াপাড়া এলাকা থেকে রাজ কুমার চন্দ্র বর্মন (৫৬) নামের এক দিনমজুরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর ছেলে রতন চন্দ্র বর্মনের ভাষ্য, তাঁর বাবা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। অসুস্থতার কারণে কাজ করতে না পারায় ওষুধ কেনা ও সংসারের খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হতো তাঁকে। অভাব ও অসুস্থতার কারণে হতাশায় ভুগছিলেন তিনি। ঘটনার দিন সকালে তাঁর স্ত্রী খাবার দিয়ে মন্দিরে যান। পরে বাড়িতে ফিরে শয়নকক্ষে স্বামীর ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান।
এ ছাড়া গতকাল রোববার ভূল্লী থানার কচুবাড়ী কাজীপাড়া এলাকা থেকে নারগীস আক্তার (৩৯) নামের এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর স্বামী মোহাম্মদ কামরুজ্জামানের ভাষ্য, নারগীস ২০১৫ সাল থেকে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। বিভিন্ন চিকিৎসকের কাছে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। ২০১৬ সালেও তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। গতকাল সকালে বাড়িতে ফিরে শয়নকক্ষে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় নারগীসকে ঝুলতে দেখেন তিনি।
চারটি ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্যরা তাঁদের আবেদনে মৃত্যুর বিষয়ে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ বা সন্দেহের কথা জানাননি। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে পুলিশের তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জিআরও সহকারী উপপরিদর্শক ফরিদুজ্জামান বলেন, প্রতিটি অপমৃত্যুর ঘটনায় থানায় নিয়মিত মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত ঋণের বোঝা, এনজিওর কিস্তি পরিশোধের চাপ ও আর্থিক হতাশা এসব মর্মান্তিক মৃত্যুর পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।










