Ajker Patrika

আপত্তিকর ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে তরুণীকে ধর্ষণ, ১০ লাখ টাকা দাবি

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২০: ২৮
আপত্তিকর ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে তরুণীকে ধর্ষণ, ১০ লাখ টাকা দাবি
প্রতীকী ছবি

ধর্ষণের ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে এক তরুণীর কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা আদায়ের পর আরও ১০ লাখ টাকা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে ঠাকুরগাঁওয়ের মো. রবিউল ইসলাম কুদ্দুস (৩৬) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ওই তরুণীর অভিযোগ, টাকা না দিলে ভিডিও প্রকাশ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি তাঁকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আদালতের নির্দেশে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় মামলা হয়েছে।

রবিউল ইসলাম কুদ্দুস ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বাসিন্দা।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, রবিউলের সঙ্গে ২২ বছর বয়সী ওই তরুণীর পরিচয় থেকে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। একপর্যায়ে রবিউল তাঁকে ধর্ষণ করেন এবং মোবাইল ফোনে আপত্তিকর ভিডিও ও ছবি ধারণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে বলা হয়েছে, ধারণ করা ভিডিও ও ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে তরুণীর কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা নেন রবিউল। এরপরও তিনি আরও ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে ভিডিও প্রকাশ এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেছেন ওই তরুণী।

তরুণীর অভিযোগ, ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে তাঁকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে। গত ১ অক্টোবর স্থানীয় এক ব্যক্তির বাড়িতে এ নিয়ে সালিস বৈঠক হয়। সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিদের সামনে রবিউল একাধিকবার ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। তবে ওই তরুণীকে বিয়ে করতে রাজি হননি।

ঘটনার পর গত ২ অক্টোবর ভুক্তভোগী তরুণী ঠাকুরগাঁও সদর থানায় অভিযোগ দিতে গেলেও পুলিশ তা গ্রহণ করেনি বলে তাঁর দাবি। পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু কোনো প্রতিকার না পেয়ে তিনি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন।

আদালতের নথি অনুযায়ী, গত ১৮ অক্টোবর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আবদুল হামিদ অভিযোগটি এজাহার হিসেবে নথিভুক্ত করার জন্য ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলেন।

এরপর গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতে থানায় মামলাটি নথিভুক্ত হয়।

ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজাহান আলী বলেন, আদালতের নির্দেশে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে নথিভুক্ত করে মামলা করা হয়েছে। এতে ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো যুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগের প্রতিটি বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত