Ajker Patrika

সিলেটে শাহজালাল (রহ.) মাজারে দানবাক্সে মিলল ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার টাকা

সিলেট প্রতিনিধি
আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ২১: ০৬
সিলেটে শাহজালাল (রহ.) মাজারে দানবাক্সে মিলল ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার টাকা
গণনা করা হচ্ছে টাকা। ছবি: সংগৃহীত

৩৫ দিন পর এবার সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে মিলল ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার ৮০৪ টাকা। আর পাওয়া গেছে ১ ভরি সাড়ে ৮ আনা সোনা এবং ৩ ভরি ১৩ আনা রুপা ও ১৮টি দেশের বৈদেশিক মুদ্রাও।

আজ শনিবার দিনভর গণনা শেষে তিনটি ডেগ ও পাঁচটি দানবাক্স খুলে এই টাকা ও জিনিসগুলো পাওয়া যায়। আজ সন্ধ্যায় এই হিসাব ঘোষণা দেন সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন। এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় জেলা প্রশাসক, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও মাজার ব্যবস্থাপনায় গঠিত কমিটির প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে মাজারের দানবাক্স ও ডেগের টাকা পঞ্চমবারের মতো প্রকাশ্যে গণনা শুরু হয়।

গণনায় পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রার মধ্যে রয়েছে ১৪ ব্রিটিশ পাউন্ড, ৭ হাজার ৬৪৭ ভারতীয় রুপি, ২০ থাই বাত, ৯৩ সৌদি রিয়াল, ১১ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত, ২৯ মার্কিন ডলার, ১ হাজার ৩৫০ দশমিক ৫০ ওমানি বাইসা, ৬৫ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহাম, ১৫ মালদ্বীপের রুপি, ১৭ কাতারি রিয়াল, ৭ ইউরো ৩৩ সেন্ট, ১০০ বাহরাইনি ফিলস, ১০ হংকং ডলার, ১ ব্রুনাই ডলার, ৫৫ নেপালি রুপি, ১০০ পাকিস্তানি রুপি, ৫০ রুশ রুবল এবং ৫০০ শ্রীলঙ্কান রুপি।

একসঙ্গে ৩৫ দিনের গরু ও ছাগলের হিসাবও উপস্থাপন করা হয়। হিসাব অনুযায়ী, ৭টি গরুর মধ্যে ৪টি লঙ্গরখানায় শিরনি হিসেবে রান্না হয়েছে এবং তিনটি গরু খাদিমরা পেয়েছেন। এ ছাড়া ৩১০টি ছাগলের মধ্যে ২৫টি জবাই করে বিতরণ করা হয়েছে। ২১০টি ছাগল লঙ্গরখানায় শিরনি হিসেবে রান্না করা হয়েছে, ২৭টি ব্যক্তিগত উদ্যোগে শিরনি করা হয়েছে এবং ৪৮টি ছাগল খাদিমরা পেয়েছেন।

এর আগে আজ শনিবার সকালে ডেগ খোলার সময়ে সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, আজকে শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে পাওয়া টাকা আগের মতোই ব্যাংক হিসাবে রাখা হবে। এখান থেকে বিদ্যুৎ বিলসহ কিছু ইউটিলিটি বিল দেওয়া হবে। আনসারের বেতন দেওয়া হবে। মাজারের ব্যবস্থাপনার জন্য একজন ম্যানেজার, একজন হিসাবরক্ষক ও একজন কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগ দেওয়া হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হতে আরও প্রায় এক মাস লাগতে পারে। কর্মী নিয়োগের পর প্রতিদিন দানের টাকা গণনা করা হবে। এর আগে আরও একবার বর্তমান ব্যবস্থাপনায় টাকা গণনা হতে পারে।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে গঠিত কমিটির সভায় দানের অর্থ ব্যবহারের নতুন নীতি নির্ধারণ করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দানবাক্সের টাকার ৩৫ শতাংশ মাজারের উন্নয়নকাজে ব্যয় করা হবে। এ অর্থ সোনালী ব্যাংকের একটি হিসাবে জমা রাখা হবে। অবশিষ্ট ৬৫ শতাংশ দিয়ে মাজারের দৈনন্দিন খরচ ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দেওয়া হবে, জানান জেলা প্রশাসক।

এর আগে আরও চার দফা মাজারের টাকা প্রকাশ্যে গণনা হয়। গত ২২ জুন প্রথম দফায় পাওয়া যায় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা। পরে জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকার চেক যুক্ত হলে মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা। ১১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় পাওয়া যায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। এরপর ১৫ আগস্ট তৃতীয় দফার গণনায় পাওয়া যায় ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা। ১৯ সেপ্টেম্বর চতুর্থ দফায় দানবাক্স ও ডেগ থেকে পাওয়া যায় ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা। প্রতিবারই নগদ টাকার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণ ও রুপা পাওয়া যায়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত