Ajker Patrika

রাকসুর মেয়াদ শেষ ভোট কবে ঠিক নেই

• রাকসু নির্বাচন হয় গত বছরের ১৬ অক্টোবর

• জয়ী প্রতিনিধিরা শপথ নেন ২৬ অক্টোবর

• নির্বাচিত কমিটির এক বছরের মেয়াদ শেষ হয় গতকাল

• শিবির-সমর্থিত জোটের প্রতিশ্রুতি ছিল নির্বাচন নিয়মিত করার

• চলতি বছর নির্বাচন না হওয়ার ইঙ্গিত উপাচার্যের বক্তব্যে

দীন ইসলাম, রাবি
রাকসুর মেয়াদ শেষ ভোট কবে ঠিক নেই
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ। ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর সচল হওয়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) নির্বাচিত কমিটির এক বছরের মেয়াদ গতকাল সোমবার শেষ হয়েছে। তবে পরবর্তী নির্বাচন আয়োজনের দৃশ্যমান প্রস্তুতি এখনো শুরু করেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ভর্তি পরীক্ষা, পরিবেশ-পরিস্থিতি এবং আয়-ব্যয়ের হিসাব নিরীক্ষা নিয়ে ব্যস্ত প্রশাসন। ফলে পরবর্তী নির্বাচন কবে হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে এই বছর যে রাকসু নির্বাচন হচ্ছে না, তেমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে রাবি উপাচার্য ও রাকসুর সভাপতির বক্তব্যে।

এদিকে দীর্ঘদিন পর নির্বাচিত রাকসুর সদ্য বিদায়ী কমিটির কার্যক্রম নিয়েও শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। একদিকে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কেউ কেউ নিয়মিত নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানাচ্ছেন, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বিদায়ী কমিটির কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। ফলে পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তার পাশাপাশি বিদায়ী রাকসুর কার্যক্রম নিয়েও চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

গত বছরের ১৬ অক্টোবর রাকসু নির্বাচন হয়। জয়ী প্রতিনিধিরা ২৬ অক্টোবর শপথ নেন। ওই নির্বাচনে তফসিল ঘোষণা থেকে ভোট গ্রহণ পর্যন্ত প্রায় ৮০ দিন সময় লেগেছিল। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মেয়াদ এক বছর। সে হিসাবে গতকাল সর্বশেষ কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পরবর্তী নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।

সর্বশেষ নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ ২৩টি কেন্দ্রীয় পদের মধ্যে ২০টিতে জয় পায়। নির্বাচনের আগে জোটটির ২৪ দফা ইশতেহারের অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল রাকসু নির্বাচন নিয়মিত করা। অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময় পরপর নির্বাচন আয়োজনের ব্যবস্থা করা। তবে নির্বাচনের প্রায় এক বছর পরও পরবর্তী নির্বাচন আয়োজনের দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই।

রাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, ‘পূর্ববর্তী প্রশাসনের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে যতটুকু আগ্রহ দেখেছি, বর্তমান প্রশাসনের মধ্যে তেমন আগ্রহ দেখতে পাচ্ছি না। এই প্রশাসন কোনো গ্রিন সিগন্যালের অপেক্ষায় আছে, এটা স্পষ্ট। সরকারের কাছ থেকে এমন সংকেতের অপেক্ষায় থাকলে বিষয়টি হতাশাজনক। রাকসু নিয়ে প্রশাসনের দায়সারা মনোভাব দেখেছি।’ তিনি বলেন, ‘রাকসু নির্বাচন বন্ধ হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।’

এদিকে নির্বাচনের কোনো প্রস্তুতি নেই বলে জানিয়েছেন রাকসুর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সেতাউর রহমান। তিনি বলেন, ‘রাকসু নির্বাচন নিয়ে এখনো উপাচার্যের কাছ থেকে কোনো বার্তা পাইনি। গঠনতন্ত্রে নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরুর সময়সীমা স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই। নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি থাকলে এত দিনে তফসিল ঘোষণা করার কথা ছিল। কিন্তু নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এই মুহূর্তে নেই।’

তবে নির্বাচন নিয়ে আশাবাদী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রাকসুর সভাপতি অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, রাকসু নির্বাচন নির্ভর করছে ভর্তি পরীক্ষা, নির্বাচনের পরিবেশ-পরিস্থিতি এবং আয়-ব্যয়ের হিসাব নিরীক্ষার ওপর।

উপাচার্য বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে আমরা আশাবাদী। পরিবেশ-পরিস্থিতি বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করব। রাকসুর ব্যাপারে আমরা ইতিবাচক। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা চাই, রাকসু কার্যকর থাকুক। শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিরা কাজ করলে প্রশাসনের জন্যও সুবিধা হবে।’

চলতি বছর নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে রাকসু সভাপতি বলেন, ‘সামনে আমাদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে ভর্তি পরীক্ষা অন্যতম। ভর্তি পরীক্ষার আগে রাকসুর মতো বড় একটি আয়োজন করা

বেশ কঠিন হবে। আর মাত্র দুই মাস সময় রয়েছে। ভর্তি পরীক্ষার কাজ শেষ হলে এ বিষয়ে সবাইকে নিয়ে ভাবার সুযোগ হবে।’

নির্বাচনের আগে রাকসুর আয়-ব্যয়ের হিসাব নিরীক্ষা ও সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, ‘এখনো তফসিল ঘোষণার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রথমত, রাকসুর আয়-ব্যয়ের হিসাব নিরীক্ষা (অডিট) করতে হবে। এরপর আগের খরচসহ পুরো হিসাব সমন্বয় করতে হবে। এসব কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তফসিল ঘোষণার প্রশ্ন আসে না। আমরা ইতিবাচকভাবে বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করছি।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত