Ajker Patrika

মামলার বাদীকে ফোন করে পলাতক পুলিশ সদস্যের হুমকি

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১৮: ১৫
মামলার বাদীকে ফোন করে পলাতক পুলিশ সদস্যের হুমকি
এএসআই মোতালেব হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

চেক জালিয়াতি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে আত্মগোপনে থাকা পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মোতালেব হোসেন মামলার বাদীকে ফোনে হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রাজশাহীর মোহনপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। উপজেলার নওপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আয়নাল হক গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে এ ডায়েরি করেন।

মোহনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ফোনে হুমকির অভিযোগে সাধারণ ডায়েরি হয়েছে। তদন্ত করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মোতালেবের গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সমসপাড়া গ্রামে। তাঁর বাবার নাম সাহরুল ইসলাম।

ব্যাংক হিসাবে টাকা না থাকলেও চেক দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে মোতালেবের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন আয়নাল হক। ওই মামলায় ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি রাজশাহীর যুগ্ম দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক মো. আফাজ উদ্দিন মোতালেবকে এক বছরের কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে তাঁকে সাড়ে ৭ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

রায়ের দিন আদালতে হাজির ছিলেন না মোতালেব। এ কারণে আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

মামলার বাদী আয়নাল হক বলেন, এএসআই মোতালেব হোসেন আগে রাজশাহী মহানগর পুলিশের এয়ারপোর্ট ও মতিহার থানায় কর্মরত ছিলেন। ওই সময় তিনি জমির ব্যবসাও করতেন। ব্যবসার সূত্রে পরিচিত অনেকের কাছ থেকে টাকা ধার নেন তিনি।

আয়নাল হক বলেন, তিনি মোতালেবকে সাড়ে ৭ লাখ টাকা ধার দিয়েছিলেন। এর বিপরীতে মোতালেব তাঁকে একটি চেক দেন। ২০২২ সালের ১৮ মে চেকটি ব্যাংকে জমা দিলে আয়নাল হককে জানানো হয়, হিসাবে কোনো টাকা নেই। পরে টাকা ফেরত চেয়েও না পাওয়ায় তিনি চেক জালিয়াতির মামলা করেন।

আয়নাল হকের দাবি, মামলায় সাজা হলেও আড়াই বছরেও এএসআই মোতালেব গ্রেপ্তার হননি। এ সময় দেশের বিভিন্ন থানায় তিনি চাকরি করেছেন।

বাদীর ভাষ্য, মামলার রায়ের সময় এএসআই মোতালেব রাজধানীর গুলশান থানায় কর্মরত ছিলেন। পরে তিনি নরসিংদী, গোপালগঞ্জ হয়ে হবিগঞ্জে যান।

আয়নাল হক বলেন, একটি থানায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পৌঁছানোর আগেই মোতালেব সেখান থেকে বদলি হয়ে যেতেন। তখন থানা থেকে পরোয়ানা রাজশাহীতে ফেরত পাঠানো হতো। পরে রাজশাহী থেকে সেটি মোতালেবের কর্মস্থলের জেলায় পাঠানো হলেও ততক্ষণে তিনি অন্য জেলায় চলে যেতেন।

আয়নাল হকের অভিযোগ, এভাবে আড়াই বছর কেটে গেছে। সবশেষ হবিগঞ্জ থেকে আত্মগোপন করেছেন এই পুলিশ সদস্য।

মোতালেব হোসেনের কর্মকাণ্ড নিয়ে সম্প্রতি আজকের পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ২৬ আগস্ট রাত ৯টা ৫৪ মিনিটে মোতালেব আয়নাল হককে ফোন করেন বলে অভিযোগ করেন বাদী।

আয়নাল হক বলেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে আড়াই বছর ধরে বিভিন্ন থানায় কর্মরত থাকলেও পুলিশ মোতালেবকে গ্রেপ্তার করেনি। আত্মগোপনে থাকা অবস্থায়ও মোতালেব তাঁকে ফোনে হুমকি দিয়েছেন।

আয়নাল হকের ভাষ্য, মোতালেব তাঁকে বলেছেন, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলেও কেউ তাঁর কিছু করতে পারবে না। কিছুদিন পর এসে তাঁকে দেখে নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। তাঁর নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হবে বলেও হুমকি দেন মোতালেব।

দ্রুত সাজাপ্রাপ্ত এই পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন আয়নাল হক।

বাহুবল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়টি তিনি জানেন না। মোতালেবকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হলে তাঁকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল। পরে তিনি পুলিশ লাইনসে যোগ দেননি।

ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, জেলা পুলিশ এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।

আজ শুক্রবার মোতালেব হোসেনের ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদকেও একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত