Ajker Patrika

নেছারাবাদে গৃহবধূর ওপর নির্যাতনের অভিযোগ, শিশুসন্তান নিয়ে ঘরছাড়া

নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিনিধি 
নেছারাবাদে গৃহবধূর ওপর নির্যাতনের অভিযোগ, শিশুসন্তান নিয়ে ঘরছাড়া
শিশুসন্তানকে কোলে নিয়ে এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেওয়া গৃহবধূ। ছবি: আজকের পত্রিকা

তানজিলা আক্তার (২২)। জীবনের শুরু থেকেই যাঁর পথচলা কষ্ট আর সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। ছোটবেলায় মা-বাবা হারিয়ে পোশাককর্মী বড় বোনের আয়ে বড় হয়েছেন। লেখাপড়ার স্বপ্ন থাকলেও কলেজে উঠেই একই গ্রামের আব্দুর রহিম মিয়ার অটোচালক ছেলে রিয়াজ মাহমুদের সঙ্গে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয় তাঁকে। বিয়ের পর স্বপ্ন ছিল ছোট্ট একটি সুখের সংসার, কিন্তু বাস্তবতা হয়ে ওঠে নির্মম। বিয়ের পর স্বামীর পরকীয়া দেখে বাধা দেন তানজিলা। এতেই শুরু হয় তাঁর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। রেহাই পায়নি শ্বশুর-শাশুড়ির কাছ থেকেও। তাঁদের নির্যাতনে তানজিলা এখন একটি তিন বছরের শিশু কোলে নিয়ে ঘরছাড়া। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার স্বরূপকাঠি সদর ইউনিয়নের সংগীতকাঠি গ্রামে।

তানজিলার অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই স্বামীর পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় তানজিলার ওপর শুরু হয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। এতে সহযোগিতা করেন শ্বশুর ও শাশুড়ি। সংসারে অশান্তির মধ্যেই সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে জন্ম নেয় তাঁর প্রথম সন্তান। অপারেশনের খরচ নিয়ে চাপ সৃষ্টি করা হয় তানজিলার ওপর। নিরুপায় হয়ে তাঁর দিনমজুর ভাই ও গার্মেন্টসকর্মী বড় বোন ধারদেনা করে প্রায় এক লাখ টাকা দেন।

তবে তাতেও থামেনি নির্যাতন। কিছুদিন পর মারা যায় প্রথম সন্তানটি। একাধিক সালিস বৈঠকের পর সাময়িকভাবে পরিস্থিতি শান্ত হলেও, পরবর্তীকালে দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের পর আবার শুরু হয় তানজিলার ওপর সেই বর্বর নির্যাতন।

সর্বশেষ গত মার্চ মাসে স্বামীর নির্যাতনে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তানজিলা। পরে স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। বর্তমানে সন্তানকে কোলে নিয়ে তিনি আশ্রয় নিয়েছেন বাবার চাচাতো ভাইয়ের বাড়িতে। তবে সেখানেও তাঁর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। প্রতিদিন কাটছে ভয়, নিরাপত্তাহীনতা আর বেঁচে থাকার ভাবনায়।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তানজিলার আকুতি, ‘আমি বাঁচতে চাই, আমার সন্তানকে নিয়ে নিরাপদ একটি জীবন চাই। আমার কোনো খোঁজ নেয় না স্বামীর বাড়ির কেউ।’

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাই মো. রাসেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত স্বামী রিয়াজ মাহমুদ পরকীয়ার বিষয় কিছুটা স্বীকার করে তানজিলাকে ডিভোর্স নোটিশ পাঠানোর কথা জানিয়েছেন।

নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত