Ajker Patrika

স্বামীর মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে রেললাইনে ঝাঁপ দিলেন স্ত্রী

পঞ্চগড় প্রতিনিধি
স্বামীর মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে রেললাইনে ঝাঁপ দিলেন স্ত্রী
ফসলি জমির পাশে তৈরি শ্মশানে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ দাহ করা হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে স্বামীর মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা পর রেললাইন থেকে নিত্য বালা বর্মন (৭০) নামের এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্বজনদের ধারণা, স্বামীর মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। পরে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ পাশাপাশি চিতায় দাহ করা হয়।

আজ মঙ্গলবার ভোরে উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের মালিগাঁও গ্রামে বাড়ির পাশের রেললাইনে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী থেকে পঞ্চগড়গামী বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে নিত্য বালার মৃত্যু হয়।

নিত্য বালার স্বামী হরেন্দ্রনাথ বর্মন (৮০) ওই এলাকার একটি মন্দিরের পূজারি ছিলেন। নিত্য বালাও নিয়মিত তাঁর সঙ্গে পূজার কাজে যুক্ত থাকতেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গতকাল সোমবার রাত ৯টার দিকে বার্ধক্যজনিত কারণে নিজ বাড়িতে মারা যান হরেন্দ্রনাথ। এরপর রাতভর তাঁর মরদেহের পাশে কেঁদেছেন নিত্য বালা। আজ ভোরে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তাঁকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। সকালে স্বজনেরা বাড়ির পাশের রেললাইনে তাঁর মরদেহ দেখতে পান। পরে তাঁরা মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যান। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পরিবারের ফসলি জমির পাশে তৈরি শ্মশানে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ পাশাপাশি চিতায় দাহ করা হয়।

নিহত দম্পতির ছেলে রবীন চন্দ্র বর্মণ বলেন, আমার বাবা দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন। গতকাল রাতে তিনি মারা যান। বাবাকে খুব ভালোবাসতেন মা। সারারাত বাবার পাশে বসে কেঁদেছেন। সকালে বাড়ির বাইরে যাওয়ার পর তাঁকে আর পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে আত্মীয়রা রেললাইনে তাঁর মরদেহ দেখতে পান। আজ একসঙ্গে দুজনের সৎকার করা হয়েছে।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিয়ার রহমান বলেন, ঘটনার পর স্বজনেরা মরদেহ উদ্ধার করে সৎকার করেছেন। পরে পুলিশ বিষয়টি জানতে পারে। রেললাইনে কাটা পড়ে মৃত্যুর ঘটনা হওয়ায় রেলওয়ে পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত