নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে ১৪ নয়, নিহত ১২: প্রশাসন

নাটোরের বড়াইগ্রামে বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা ১২ বলে নিশ্চিত করেছে প্রশাসন। আজ মঙ্গলবার সকালে দুর্ঘটনার পর প্রাথমিকভাবে ১৪ জন নিহত হওয়ার তথ্য জানানো হলেও লাশ শনাক্ত ও তথ্য যাচাই শেষে এ সংখ্যা সংশোধন করা হয়। এ ঘটনায় অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
উপজেলার বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে নাটোর-পাবনা মহাসড়কে আজ মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে বাস ও ট্রাকের চালকও রয়েছেন।
বড়াইগ্রামের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে ১৪ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল। পরে মরদেহ ও পরিচয় শনাক্তের সময় ১২ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
বনপাড়া হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ আলমগীর হোসেন জানান, পাবনাগামী বালুবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে কুয়াকাটা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে ৯ জন নিহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান আরও তিনজন। দুর্ঘটনায় অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
বাসের ফিটনেস সনদের মেয়াদ শেষ
দুর্ঘটনাকবলিত বাসটির ফিটনেস সনদের মেয়াদ ছিল না বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান নাটোরের জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার।
জেলা প্রশাসন দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবুল হায়াতের নেতৃত্বে গঠিত কমিটিকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
নাটোর বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাকবলিত আরপি পরিবহনের বাসটির ফিটনেস সনদের মেয়াদ চলতি বছরের ১৩ মে শেষ হয়েছে। তবে বাসটির রুট পারমিটের মেয়াদ রয়েছে ২০২৮ সালের ১৩ মে পর্যন্ত। ফিটনেসের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বাসটি কীভাবে চলাচল করছিল, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মহাসড়কে অন্য যানবাহনকে ওভারটেক করতে গিয়ে বাসটির সঙ্গে ট্রাকের সংঘর্ষ হয়ে থাকতে পারে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
নিহতদের পরিবারকে এক লাখ টাকা অনুদান
দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ, জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার, পুলিশ সুপার শরিফুল ইসলামসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে দুর্ঘটনায় নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে এক লাখ টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে।










