গাজী টায়ার্সে অগ্নিকাণ্ডের ১ বছর
সাবিত আল হাসান, নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার বরপা মীরাবাড়ির বাসিন্দা আসাদ ভূঁইয়া (৪৫)। কাজ করতেন স্থানীয় এক ওয়ার্কশপে। স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে সংসার চালিয়ে যাচ্ছিলেন কোনোরকমে। গত বছরের ২৫ আগস্ট রূপসী মোড়ে গাজী টায়ার্স কারখানায় লুটপাট ও মারামারি শুরু হলে হাজারো উৎসুক জনতার সঙ্গে তাঁর ১০ বছর বয়সী এক ছেলেও গিয়েছিল সেখানে। খবর পেয়ে সন্তানকে খুঁজতে যান আসাদ, কিন্তু কারখানার ভেতরে প্রবেশের পর আর বের হতে পারেননি। শুধু ফোন করে বলতে পেরেছিলেন, ‘আমারে বাঁচাও রীতা, আমি আটকায়া গেছি।’
ঘটনার এক বছর উপলক্ষে গত মঙ্গলবার বরপা মীরাবাড়ির বাসায় গিয়ে আসাদের স্ত্রী রীতার (৩৬) সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানিয়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। রীতা জানান, নিজের স্বামীর নিখোঁজের কথা কাউকে মন খুলে বলতেও পারেন না। কিছু বলতে গেলেই প্রতিবেশীদের কেউ কেউ কটাক্ষ করে বলেন, ‘লুটপাট করতে গিয়া মরছে।’ স্বামী হারানোর সঙ্গে সঙ্গে যেন নিজেদের মন খুলে শোক প্রকাশের সুযোগও হারিয়ে গেছে রীতার।
স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্যমতে, গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই সরকারের সাবেক মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর মালিকানাধীন গাজী টায়ার্স কারখানায় ২৫ আগস্ট বিকেলে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয়। মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়, রূপগঞ্জের রূপসী এলাকায় কারখানার ভেতরে দখল করে রাখা জমি বুঝে নেওয়া হবে। এই ঘোষণার পরপরই টায়ার তৈরির প্রতিষ্ঠানটিতে লুটপাট শুরু হয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। তখন বেশ কয়েকটি গুলির শব্দও শুনতে পান প্রত্যক্ষদর্শীরা। এ সময় একটি পক্ষ কারখানার ভেতরে লুটপাট চালাতে থাকলে আরেক পক্ষ নিচের শাটার লাগিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে ভেতরে আটকা পড়া লোকজন পুড়ে মারা যায়।
প্রায় তিন দিন টানা আগুন জ্বলে ছয়তলা কারখানা ভবনে। আগুন নেভার পর ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় ভেতরে যাওয়ার সুযোগ পায়নি ফায়ার সার্ভিস। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে পরিদর্শক দল এসেও ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে। পরে ভেতরে ড্রোন পাঠানো হলেও সেখানে মরদেহের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তবে কারখানার বাইরে অপেক্ষমাণ স্বজনদের দেওয়া তথ্যে ১৮২ জন নিখোঁজের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়।
এমন নিখোঁজ ব্যক্তিদের একজন বরপা মীরাবাড়ির আবু সাঈদ (৬০)। মঙ্গলবার দুপুরে তাঁর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে চলছে রান্নার প্রস্তুতি। জিজ্ঞাসা করতেই পরিবারের লোকজন জানালেন, সাঈদের সম্ভাব্য মৃত্যুর দিন ধরে নিয়ে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনায় গরিব-দুঃখীদের জন্য খাবার রান্না করা হচ্ছে।
গাড়িচালক সাঈদের স্ত্রী নাসরিন আক্তার (৪৫) বলেন, ‘ঘটনার দিন সন্ধ্যায় আমাকে ফোন দিয়ে বলল, “রূপসী আসছি, কিছু এনে দিতে হবে?” আমি বললাম কিছু লাগবে না। রাত ৯টায় আবার আমাকে ফোন করে বলল, “আমি কারখানার ভেতরে আটকা পড়ে গেছি। তোমরা লোকজন নিয়ে এসে আমাকে বাঁচাও।” সেই যে ফোন রাখল। পরে রাত ১টা পর্যন্ত ফোন বেজেছে, কিন্তু কেউ ধরে নাই। তিনটা মেয়েকে আমি এখন একাই বড় করছি। ভাইবোনদের সহযোগিতা নিয়ে চলছি।’
একই এলাকার ওয়াকিব শিকদারের ছেলে শাহাদাৎ শিকদারও হারিয়ে যান ওই দিন। প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে পরিবারের সদস্যরা জেনেছেন, শাহাদাৎ তাঁর ছোট ভাইকে খুঁজতে গিয়েছিলেন কারখানায়। পরে সেখান থেকে আর বাড়ি ফেরেননি। ওয়াকিব বলেন, ‘আমার ছেলে হারিয়ে গেছে। কারও কাছে কিছু চাওয়ার নাই। সরকারের কাছেও কিছু চাই না।’
ঘটনার পর নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনেরা কয়েক দফা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। বিক্ষুব্ধ হয়ে কারখানায় প্রবেশ করে বের করে এনেছেন পোড়া হাড়গোড়। সেসব পুলিশ উদ্ধার করে অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কাছে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছে।
এ নিয়ে কথা হলে জেলা পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার বলেন, ‘ঘটনার তদন্তে পুলিশ কাজ করছে। উদ্ধার করা হাড়গুলো ফরেনসিক পরীক্ষায় পাঠানো হলেও কোনো স্বজনের সঙ্গে তা ম্যাচ করেনি। আমাদের তদন্তের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আশা করছি আগামী মাসে রিপোর্ট দিতে পারব।’
এই ঘটনায় কারা জড়িত বা অগ্নিসংযোগকারীদের বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেনি পুলিশ।
যোগাযোগ করা হলে জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের কাছে নিখোঁজ বেশ কয়েকজনের স্বজনেরা এসেছিলেন। আমরা তাঁদের সন্ধানের বিষয়ে পুলিশকে অবগত করেছি। তবে তারা আমাদের কিছু জানায়নি। নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারগুলো আমাদের কাছে আর্থিক সহায়তা চায়নি। তারা চাইলে এই বিষয়ে আমরা পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেব।’

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার বরপা মীরাবাড়ির বাসিন্দা আসাদ ভূঁইয়া (৪৫)। কাজ করতেন স্থানীয় এক ওয়ার্কশপে। স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে সংসার চালিয়ে যাচ্ছিলেন কোনোরকমে। গত বছরের ২৫ আগস্ট রূপসী মোড়ে গাজী টায়ার্স কারখানায় লুটপাট ও মারামারি শুরু হলে হাজারো উৎসুক জনতার সঙ্গে তাঁর ১০ বছর বয়সী এক ছেলেও গিয়েছিল সেখানে। খবর পেয়ে সন্তানকে খুঁজতে যান আসাদ, কিন্তু কারখানার ভেতরে প্রবেশের পর আর বের হতে পারেননি। শুধু ফোন করে বলতে পেরেছিলেন, ‘আমারে বাঁচাও রীতা, আমি আটকায়া গেছি।’
ঘটনার এক বছর উপলক্ষে গত মঙ্গলবার বরপা মীরাবাড়ির বাসায় গিয়ে আসাদের স্ত্রী রীতার (৩৬) সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানিয়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। রীতা জানান, নিজের স্বামীর নিখোঁজের কথা কাউকে মন খুলে বলতেও পারেন না। কিছু বলতে গেলেই প্রতিবেশীদের কেউ কেউ কটাক্ষ করে বলেন, ‘লুটপাট করতে গিয়া মরছে।’ স্বামী হারানোর সঙ্গে সঙ্গে যেন নিজেদের মন খুলে শোক প্রকাশের সুযোগও হারিয়ে গেছে রীতার।
স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্যমতে, গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই সরকারের সাবেক মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর মালিকানাধীন গাজী টায়ার্স কারখানায় ২৫ আগস্ট বিকেলে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয়। মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়, রূপগঞ্জের রূপসী এলাকায় কারখানার ভেতরে দখল করে রাখা জমি বুঝে নেওয়া হবে। এই ঘোষণার পরপরই টায়ার তৈরির প্রতিষ্ঠানটিতে লুটপাট শুরু হয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। তখন বেশ কয়েকটি গুলির শব্দও শুনতে পান প্রত্যক্ষদর্শীরা। এ সময় একটি পক্ষ কারখানার ভেতরে লুটপাট চালাতে থাকলে আরেক পক্ষ নিচের শাটার লাগিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে ভেতরে আটকা পড়া লোকজন পুড়ে মারা যায়।
প্রায় তিন দিন টানা আগুন জ্বলে ছয়তলা কারখানা ভবনে। আগুন নেভার পর ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় ভেতরে যাওয়ার সুযোগ পায়নি ফায়ার সার্ভিস। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে পরিদর্শক দল এসেও ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে। পরে ভেতরে ড্রোন পাঠানো হলেও সেখানে মরদেহের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তবে কারখানার বাইরে অপেক্ষমাণ স্বজনদের দেওয়া তথ্যে ১৮২ জন নিখোঁজের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়।
এমন নিখোঁজ ব্যক্তিদের একজন বরপা মীরাবাড়ির আবু সাঈদ (৬০)। মঙ্গলবার দুপুরে তাঁর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে চলছে রান্নার প্রস্তুতি। জিজ্ঞাসা করতেই পরিবারের লোকজন জানালেন, সাঈদের সম্ভাব্য মৃত্যুর দিন ধরে নিয়ে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনায় গরিব-দুঃখীদের জন্য খাবার রান্না করা হচ্ছে।
গাড়িচালক সাঈদের স্ত্রী নাসরিন আক্তার (৪৫) বলেন, ‘ঘটনার দিন সন্ধ্যায় আমাকে ফোন দিয়ে বলল, “রূপসী আসছি, কিছু এনে দিতে হবে?” আমি বললাম কিছু লাগবে না। রাত ৯টায় আবার আমাকে ফোন করে বলল, “আমি কারখানার ভেতরে আটকা পড়ে গেছি। তোমরা লোকজন নিয়ে এসে আমাকে বাঁচাও।” সেই যে ফোন রাখল। পরে রাত ১টা পর্যন্ত ফোন বেজেছে, কিন্তু কেউ ধরে নাই। তিনটা মেয়েকে আমি এখন একাই বড় করছি। ভাইবোনদের সহযোগিতা নিয়ে চলছি।’
একই এলাকার ওয়াকিব শিকদারের ছেলে শাহাদাৎ শিকদারও হারিয়ে যান ওই দিন। প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে পরিবারের সদস্যরা জেনেছেন, শাহাদাৎ তাঁর ছোট ভাইকে খুঁজতে গিয়েছিলেন কারখানায়। পরে সেখান থেকে আর বাড়ি ফেরেননি। ওয়াকিব বলেন, ‘আমার ছেলে হারিয়ে গেছে। কারও কাছে কিছু চাওয়ার নাই। সরকারের কাছেও কিছু চাই না।’
ঘটনার পর নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনেরা কয়েক দফা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। বিক্ষুব্ধ হয়ে কারখানায় প্রবেশ করে বের করে এনেছেন পোড়া হাড়গোড়। সেসব পুলিশ উদ্ধার করে অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কাছে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছে।
এ নিয়ে কথা হলে জেলা পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার বলেন, ‘ঘটনার তদন্তে পুলিশ কাজ করছে। উদ্ধার করা হাড়গুলো ফরেনসিক পরীক্ষায় পাঠানো হলেও কোনো স্বজনের সঙ্গে তা ম্যাচ করেনি। আমাদের তদন্তের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আশা করছি আগামী মাসে রিপোর্ট দিতে পারব।’
এই ঘটনায় কারা জড়িত বা অগ্নিসংযোগকারীদের বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেনি পুলিশ।
যোগাযোগ করা হলে জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের কাছে নিখোঁজ বেশ কয়েকজনের স্বজনেরা এসেছিলেন। আমরা তাঁদের সন্ধানের বিষয়ে পুলিশকে অবগত করেছি। তবে তারা আমাদের কিছু জানায়নি। নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারগুলো আমাদের কাছে আর্থিক সহায়তা চায়নি। তারা চাইলে এই বিষয়ে আমরা পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেব।’

ঝিনাইদহের মহেশপুরে সেনাবাহিনীর একটি টহলগাড়ির সঙ্গে ট্রাকের সংঘর্ষে চারজন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর ট্রাকের চালক পালিয়ে গেছে। তবে ওই ট্রাকটি আটক করেছে পুলিশ। আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে মহেশপুর-খালিশপুর সড়কের বেলেঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহত সেনাসদস্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
১১ মিনিট আগে
রাজধানীর উত্তরায় এক ব্যক্তিকে একটি প্রাডো গাড়িসহ অপহরণ এবং এক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাকর্মীকে আহত করে তাঁর আগ্নেয়াস্ত্র ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। অপহৃত ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া যায়নি। গতকাল শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যার পর উত্তরার ১৪ নম্বর সেক্টরের ১২ নম্বর সড়কের একটি বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।
২৮ মিনিট আগে
উঠান বৈঠক করতে গিয়ে বাধা পেয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের দুই ইউনিয়ন) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। আজ শনিবার বিকেলে সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ইসলামবাদ (গোগদ) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
২৯ মিনিট আগে
চট্টগ্রামের চন্দনাইশে গেজেটধারী জুলাই যোদ্ধা ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা এনসিপির কার্যকরী নির্বাহী সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ এবং মঈন উদ্দীন মাহিনের ওপর সশস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে উপজেলার বদুরপাড়া রাস্তার মাথা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে আহতদের স্বজন...
৩৯ মিনিট আগে